মিয়ানমারের সন্ত্রাসীর তালিকা থেকে আরাকান আর্মি বাদ

প্রকাশিত: ৪:৪৪ অপরাহ্ণ , মার্চ ১১, ২০২১

মিয়ানমারের জান্তা সরকার রাখাইনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) নাম সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। এই গোষ্ঠীটি হামলা চালানো বন্ধ করে দেশজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করতে রাজি হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত নেত্রী অং সান সু চিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর সৃষ্ট বিক্ষোভ সামাল দিতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে প্রায় প্রতিদিনই সংগ্রাম করতে হচ্ছে। তার মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত নিল দেশটির সামরিক জান্তা।

দীর্ঘদিন ধরেই আরাকান আর্মি রাখাইন রাজ্যের বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসনের জন্য লড়াই চালিয়ে আসছিল। গত দুই বছরে বিদ্রোহী এ গোষ্ঠীটি মিয়ানমারের বিদ্রোহী বাহিনীগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সমীহ জাগানো নাম হয়ে উঠেছে। দেশটির সেনাবাহিনী প্রায় ৭০ বছর ধরে বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর বিদ্রোহী বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে আসছে।

এর আগে গত বছর সু চির ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনএলডি) সরকার আরাকান আর্মিকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছিল। এ বিষয়ে মিয়ানমারের সরকার পরিচালিত মিরর ডেইলি লিখেছে, আরকান আর্মিকে ২০২১ সালের ১১ মার্চ থেকে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর’ তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর কারণ হিসেবে তাদের হামলা চালানো বন্ধ করে সামরিক জান্তার ‘দেশব্যাপী চিরন্তন শান্তি’ প্রতিষ্ঠার দৃষ্টিভঙ্গীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

আরাকান আর্মির অধিকাংশ সদস্যই রাখাইন নৃগোষ্ঠী ও স্থানীয় সংখ্যাগুরু বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। এর আগে আরাকান আর্মি নভেম্বরে সাময়িক অস্ত্রবিরতির বিষয়ে সম্মত হয়েছিল। সন্ত্রাসী তালিকা থেকে বাদ পড়া নিয়ে মন্তব্যের জন্য অনুরোধ করা হলেও গোষ্ঠীটি সাড়া দেয়নি।

মিয়ানমারের প্রায় ২৪টিরও বেশি নৃগোষ্ঠীটির সশস্ত্র বাহিনীগুলো সামরিক অভ্যুত্থানের নিন্দা করেছে। তাদের কেউ কেউ অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থনও দেখিয়েছি। তবে আরাকান আর্মি জান্তাবিরোধী বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে কোনো বিবৃতি দেয়নি। রাখাইন রাজ্যেও অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভ তেমন একটা হয়নি।

সূত্র : রয়টার্স