সীতাকুণ্ডে শিব চতুদর্শী মেলা শুরু

প্রকাশিত: ১:৩২ অপরাহ্ণ , মার্চ ১১, ২০২১

সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ ধামে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শিব চতুর্দশী মেলা। আজ বৃহস্পতিবার থেকে তিনদিনব্যাপী এ মেলা স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনুষ্ঠিত হবে।

মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক পলাশ চৌধুরী জানান, মেলা সুন্দর, সুশৃংখল ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য সবধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘পুরো মেলা এলাকায় আইন শৃংখলা স্বাভাবিক রাখার জন্যে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। মেলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আইন- শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায়  নিয়োজিত থাকবে।’

মেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৩০০ সদস্য ও কয়েশ’ স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করছেন। সিসি ক্যামেরা দ্বারা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে মেলার দেড় কিলোমিটার এলাকা।

এদিকে সীতাকুণ্ড রেলস্টেশনে তীর্থযাত্রীদের সুবিধার্থে যাত্রাবিরতি দিচ্ছে ৫টি আন্তঃনগর ও ১টি মেইল ট্রেন।

তীর্থের মন্দিরসহ মেলায় স্থাপিত দোকান, স্টল, বিনোদন কেন্দ্র সমূহকে অগ্নিকাণ্ডের হাত থেকে রক্ষা করা ও অসুস্থ তীর্থযাত্রীদের জরুরী ভিত্তিতে সেবা দেয়ার জন্য সার্বক্ষণিকভাবে নিয়োজিত থাকবে মেডিকেল বোর্ডসহ ফায়ার সার্ভিস বিভাগ। এছাড়া সীতাকুণ্ড মেলা কমিটির পক্ষ থেকে বিভিন্ন সুবিধাজনক স্থানে পানীয় জলসহ ৩০টি স্থায়ী- অস্থায়ী টয়লেট ব্যবস্থা রয়েছে।

জানা গেছে, আজ থেকে ১৩ মার্চ শিব চতুদর্শী এবং ২৮-২৯ মার্চ দোলপূর্ণিমা অনুষ্ঠিত হবে।

উল্লেখ্য, সীতাকুণ্ডে শিব চতুর্দশী মেলার প্রচলন শুরু হয় প্রায় ৩০০ বছর পূর্ব থেকে। যা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। ফাল্গুনী চতুর্দশী তিথিকে ঘিরে আয়োজিত মেলায় প্রতি বছর দেশ-বিদেশের লাখ লাখ তীর্থযাত্রীর আগমন ঘটে। প্রশাসন ও মেলা কমিটির সদস্যরা মেলা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সবধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে।

প্রায় ১২০০ ফুট উঁচুতে দাঁড়িয়ে আছে সীতাকুণ্ড চন্দ্রনাথ মন্দির। ফাল্গুন মাসে শিবচতুর্দশী বা শিবরাত্রি উপলক্ষে করে দেশ-বিদেশের পুণ্যার্থীরা প্রতিবছরই এখানে আসেন। যদিও করোনা মহামারির কারণে এবার মেলায় তীর্থযাত্রীর আগমন অন্যবারের চেয়ে কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সীতাকুণ্ড বাজার থেকে পাহাড় পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার পথে বসে মেলা। ঢাকা- চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে কলেজ রোড বা মন্দির সড়কের প্রায় এককিলোমিটার পর প্রথমে পড়বে শঙ্কর মঠ। এর সামনেই ব্যাস কুণ্ড। এখানে এখন দিনভর চলে পুণ্যস্নান ও তর্পন। এটি পার হয়ে পাহাড়ের দিকে উঠতেই রামসীতার মন্দির। সেখানে আছে সীতাকুণ্ড। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, ভ্রাতৃবধূ সীতাকে রেখে লক্ষ্মণ যে কুণ্ড তৈরি করেছিলেন, এটি সেই কুণ্ড। রামায়ণে বর্ণিত রাম-সীতা ও লক্ষণের ১৪ বছর বনবাস হয়েছিল এখানেই। এছাড়া এখানে আছে শ্মশান, গিরিশ ধর্মশালা, ননী গোপাল তীর্থ মন্দির, ভৈরব ধর্মশালা সহ অনেক মঠ-মন্দির।

সতীর একান্ন পীঠের একটি পিঠও এখানে। পাহাড়ে ওঠে প্রথম বিরুপাক্ষ মন্দির। এরপর পূর্বদিকে আঁকাবাঁকা পথ ধরে পাহাড়ের চূড়ায় চন্দ্রনাথ মন্দির। উপবাস থেকে মন্দিরগুলোতে দুধ ও ডাবের জল দিয়ে শিবকে স্নান করাতে আসেন ভক্তরা।