একুশের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

প্রকাশিত: ৬:২১ অপরাহ্ণ , ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২১

একুশ একটি চেতনার নাম। যার পথ বেয়ে মুক্তিযুদ্ধ, অতঃপর স্বাধীন বাংলাদেশ। ভাষা আন্দোলনের ৬৯ বছরে একুশের চেতনার ওপর আঘাত এসেছে বার বার। এখনো মৌলবাদী-সাম্প্রদায়িক শক্তির আস্ফালন আছে। এ অবস্থায় ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজনের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে একুশের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান বিশিষ্টজনদের।

দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর পরই বাঙালির স্বপ্নভঙ্গ। প্রথম আঘাতটিই এলো ভাষার ওপর। মুখের ভাষা কেড়ে নেয়ার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালো ছাত্র-জনতা।

ভাষার দাবিতে রাজপথের আন্দোলনে রক্ত ঝরলো, দাবি আদায় হলো।  একুশের পথ ধরেই মুক্তির আকাঙ্খা। মুক্তিযুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয়, লাল সবুজের বাংলাদেশ।

ভাষা আন্দোলনের ৬৯ বছরে বার বার আঘাত এসেছে একুশের চেতনার ওপর। এখনও থামেনি মৌলবাদী-সাম্প্রদায়িক অপশক্তির আস্ফালন। শহীদ মিনার ভাঙার স্পর্ধাও দেখায় তারা।

বার বার একুশের চেতনার ওপর কেন এই আঘাত?

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক বলেন, একুশে যেটাকে মেলে ধরেছিল সেটা হচ্ছে সকল মানুষের সম্মিলন এবং আমার ধর্ম পরিচয় থাকবে, অন্য পরিচয় থাকবে কিন্তু ভাষা আমাকে এক করে দিচ্ছে। সেই চেতনা আমরা কতোটা রক্ষা করতে পারছি বা আমরা নিজেদেরকে নানাভাবে বিভাজিত করছি কিনা।

ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারির মূল কথা ছিল বাংলা ভাষা এবং আমাদের বাঙালিত্বকে বিকাশ করা। আমরা ফুল দেই, স্মরণ করি, গান গাই কিন্তু বাঙালি হই না।

ধর্মের অপব্যাখ্যা, ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন একুশের শক্তি দিয়েই রোধ করতে হবে।

ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন বলেন, যারা ধর্মকে ব্যবহার করে কাজ করছে এবং তাদেরকে যারা সহায়তা দিচ্ছে সেইসব রাজনৈতিক দলগুলো জায়েজ কিনা সে প্রশ্ন আমরা তুলিনি।

ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, ধর্মকে রাষ্ট্র এবং রাজনীতি থেকে যতোক্ষণ পৃথক না করতে পারছি মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক অপশক্তির এই আস্ফালন কখনও বন্ধ করা যাবে না।

বাংলা আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা। মৌলবাদের বিষ দাঁত উপড়ে ফেলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে- এই প্রত্যাশা বিশিষ্টজনদের।