নিঃশর্ত ঋণে মহাপুরস্কার

প্রকাশিত: ১২:২৯ অপরাহ্ণ , জুন ৮, ২০২০

জীবনে চলার পথে মানুষ বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজন ও সংকটের মুখোমুখি হয়। যা অনেক সময় একার পক্ষে পূরণ করা সম্ভব হয় না। প্রয়োজন হয় অন্যের সহযোগিতার। ইসলামী শরিয়ত অনুমোদিত সামাজিক সহযোগিতার অন্যতম মাধ্যম করজে হাসানা বা নিঃশর্ত ঋণ।

ঋণদাতার জন্য সম্মানজনক পুরস্কার

পবিত্র কোরআনে করজে হাসানাকে আল্লাহ ঋণ প্রদানের সঙ্গে তুলনা করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘কে সে, যে আল্লাহকে দেবে উত্তম ঋণ? তা হলে তিনি তা বহু গুণে বৃদ্ধি করবেন তার জন্য এবং তার জন্য রয়েছে সম্মানজনক পুরস্কার। আল্লাহই (জীবিকা) সংকুচিত ও সম্প্রসারিত করেন এবং তাঁরই দিকে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।’ (সুরা হাদিদ, আয়াত : ১১)

অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘যদি তোমরা আল্লাহকে উত্তম ঋণ দান করো, তিনি তোমাদের জন্য তা বহু গুণ বৃদ্ধি করবেন এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন। আল্লাহ গুণগ্রাহী, সহনশীল।’ (সুরা তাগাবুন, আয়াত : ১৭)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আমি মিরাজে গিয়ে জান্নাতের দরজায় লেখা দেখতে পেলাম যে, সদকার সওয়াব ১০ গুণ এবং ঋণ প্রদানের সওয়াব ১৮ গুণ। আমি বললাম, হে জিবরাঈল! সদকার থেকে ঋণের গুরুত্ব কিভাবে বেড়ে গেল? সে বলল, কারণ সদকা গ্রহণকারী তার কাছে কিছু থাকা সত্ত্বেও চায় আর প্রয়োজনে না পড়লে কেউ ঋণ করে না।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২৪৩১)

ঋণগ্রহীতার দায়িত্ব

ঋণ একটা বোঝা। ঋণ কখনো কখনো দুশ্চিন্তা, অশান্তি ও অনৈতিকতার কারণ হয়। এ জন্য বান্দার কর্তব্য, আল্লাহ তাআলার কাছে ঋণ থেকে আশ্রয় চাওয়া, দোয়া করা যেন ঋণ ছাড়াই সব প্রয়োজন পূরণ করে দেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) আল্লাহর কাছে ঋণ থেকে পানাহ চেয়ে দোয়া করতেন—‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে কবরের শাস্তি থেকে আশ্রয় চাই, মাসিহ দাজ্জালের ফেতনা থেকে আশ্রয় চাই, জীবনের ফেতনা ও মৃত্যুর ফেতনা থেকে আশ্রয় চাই। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে গুনাহ ও ঋণ থেকে আশ্রয় চাই। কেউ জিজ্ঞাসা করল, আপনি ঋণ থেকে এত বেশি আশ্রয় চান কেন? তিনি বললেন, মানুষ যখন ঋণগ্রস্ত হয় তখন কথা বললে মিথ্যা বলে, ওয়াদা করলে ভঙ্গ করে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮৩২) বর্তমানে পুরো পৃথিবী এক সংকটময় কাল অতিক্রম করছে। বহু দিনমজুর, স্বল্প আয়ের মানুষ অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। সামর্থ্যবানদের উচিত নিঃশর্ত ঋণ প্রদানের মাধ্যমে তাদের সহযোগিতা করা। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দিন। আমিন।