পার্বতীপুরে সম্পন্ন হয়েছে প্রকৃত বীরমুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই

মনজুরুল হক মঞ্জু মনজুরুল হক মঞ্জু

পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৭:০৮ অপরাহ্ণ , ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২১

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে ৩০ জানুয়ারী শুরু হওয়া প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কার্যক্রম আজ বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে। পার্বতীপুরে তালিকায় ছিল ১৯৭ জন। পার্বতীপুর উপজেলা পরিষদ হলরুমে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)’র নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি ও দিনাজপুর জেলা মক্তিযোদ্ধা কমান্ডের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার বীর মক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান, সদস্য সচিব ও পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাশিদ কায়সার রিয়াদ, স্থানীয় সংসদ সদস্যের মনোনীত প্রতিনিধি বীর মুক্তিযোদ্ধা সরকার মোহাম্মদ শামীম আক্তার ও জেলা প্রশাসকের পক্ষে মনোনীত যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য- পার্বতীপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা রিয়াজ মাহমুদ যাচাই-বাচাই বোর্ডে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে বিপুল সংখ্যক প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় জাতীয় দৈনিকের সাংবািদকদের উপস্থিতিতে এ যাচাই বাছাই হয়ে উঠে প্রানবন্ত ও উৎসবমূখর। প্রত্যক্ষ করা গেছে বিচারকরাও কোন পক্ষপাতিত্বের আশ্রয় না নিয়ে স্বচ্ছ ও নিরেপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
জামুকার নির্দেশনা অনুযায়ী যাচাই বাছাইকালে গেজেটভূক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কমপক্ষে ৩ ভারতীয়/লাল মুক্তিবার্তা তালিকাভূক্ত সহযোদ্ধা/সহপ্রশিক্ষন গ্রহীতা, সাক্ষী ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রশিক্ষন গ্রহন করে থাকলে তিনি কোন যুদ্ধে অংশগ্রহন করেছেন তাও একইভাবে প্রমান করতে হবে। এমন কঠিন শর্তে যাচাই বাছ্ইা বোর্ডে তালিকাভূক্তরা ছেড়ে দেমা কেঁদে বাঁচি অবস্থায় পড়ে। অবস্থা বেগতিক দেখে অনেককে জিঙ্গাসাবাদে অংশ না নিয়ে টেবিলে কাগজপত্র রেখে স্থান ত্যাগ করতে দেখা গেছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে, যাচাই বাছাই বোর্ডের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান জানান, আমরা জামুকার নির্দেশাবলী সামনে রেখে স্বচ্ছভাবে কাজ করার চেষ্টা করেছি। তালিকাভূক্তরা স্বাক্ষী ও প্রমানপত্রে গোজামিল দেওয়ার চেষ্টা করেও সফল হতে পারেনি। তিনি আরও বলেন, যাচাই বাছ্ইা শেষ হয়েছে। এখন কাগজপত্র ঠিক ঠাক করে ৩ কর্মদিবসের মধ্যে চুড়ান্ত তালিকা যথাস্থানে টাংগিয়ে দেওয়া হবে। তবে যাচাই বাছাইয়ের বাস্তবতা অনুযায়ী ১৯৭ তালিকাভূক্তের মধ্যে শতকরা ৮০ ঝরে পড়ার সম্ভাবনাই বেশী বলে জানান।
জেলা প্রশাসকের পক্ষে মনোনীত যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য- পার্বতীপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা রিয়াজ মাহমুদ বলেন, পার্বতীপুরে যাদের বিরুদ্ধে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে অভিযোগ বা আপত্তি রয়েছে, ভাতাভোগী এমন ১৯৭ মুক্তিযোদ্ধার সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও নথিপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়েছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, পার্বতীপুরে এ যাচাই বাছাই তালিকায় রয়েছে, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, ডাক্তার, ব্যাংকার, পুলিশ বাহিনীর সদস্য, সরকারী চাকুরীজিবীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ।
পার্বতীপুর উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর সূত্রমতে তালিকাভূক্তরা সরকার প্রদত্ব সকল সুবিধাদি ভোগ করছেন। ভোগ করেছেন ছেলে সন্তানের মুক্তিযোদ্ধা চাকুরী কোটাও। এর মধ্যে যারা মৃতবরন করেছেন, তাদের রাষ্ট্রীয় মর্যদায় দাফন হয়েছে। সরকারী বিধান অনুযায়ী তাদের অবর্তমানে রেখে যাওয়া ওয়ারিশগন মুক্তিযোদ্ধার ভাতাসহ সবকিছুই পাচ্ছেন। তারা অবশ্য ৩শ টাকার নন জুডিশিয়াল স্টাম্পে এই মর্মে স্বীকারোক্তি লিখে দিয়েছেন যে, চুড়ান্ত যাচাই বাছাইয়ে অসত্য প্রমানিত হলে উত্তোলিত সমুদয় অর্থ ফেরত দিতে তারা বাধ্য থাকবেন।
যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য সচিব ও পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাশিদ কায়সার রিয়াদ বলেন, পার্বতীপুরে ৬৫৭ জন ভাতাভোগী বীরমুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন। কিন্তু ১৯৭ জনের বিরুদ্ধে তারা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা কিনা তাই অন্যরা বিভিন্ন সময়ে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে অভিযোগ করায় এ তালিকায় থাকা মুক্তিযোদ্ধাদের তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।