অর্থ আত্মসাৎ করে ওমান থেকে পালিয়ে যাওয়া শফিক ভূইয়া র‍্যাবের হাতে আটক

প্রকাশিত: ৩:১৩ অপরাহ্ণ , ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২১

ওমান প্রতিনিধি : ওমান প্রবাসীদের অর্থ আত্মসাৎ করে রাতের আধারে বেশ কিছুদিন আগেই ওমান ছেড়ে পালিয়ে ছিলো শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না তার। রাজধানীর আদাবর থানা এলাকা হতে ওমান প্রবাসীদের সাথে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া মামলার পলাতক আসামী শফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

র‍্যাবের দাবি র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বাংলাদেশের মানুষের কাছে একটি আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক। বিভিন্ন ধরণের চাঞ্চল্যকর অপরাধের স্বরূপ উদঘাটন করে অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার কারনেই এই প্রতিষ্ঠান মানুষের কাছে আস্থা ও নিরাপত্তার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। র‌্যাব খুন,অপহরণ, প্রতারণাসহ বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর মামলার প্রধান আসামীদের গ্রেফতার করে তাদের বিরুদ্ধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে।

এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-২ এর একটি আভিযানিক দল, রাজধানীর আদাবর থানাধীন শেখেরটেক পিসি কালচার হাউজিং এলাকা হতে চট্টগ্রাম আনোয়ারা থানার মামলা নং-৩২/৩২, তারিখ- ৩০/০১/২০২১ইং মামলার পলাতক আসামী মোঃ শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া(৫৯) গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া(৫৯) ওমানে থাকা অবস্থায় প্রবাসী মোসাদ্দেক হোসেন চৌধুরীর (বাদী) নিকট হতে বিভিন্ন সময় ধারের কথা বলে ১,০২,০০,০০০/- (এক কোটি দুই লক্ষ ) টাকা হাতিয়ে নেয়। পরবর্তীতে বাদী টাকা চাইতে গেলে সে বিভিন্ন প্রকার হুমকি ধামকি দেয়। ধৃত আসমীর বিরুদ্ধে ২০১৪ সালেও প্রবাসীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে প্রতারণার করার জন্য এক প্রবাসী বাদী হয়ে মামলা রুজু করেছিলো। সে মামলায় মোঃ শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বিজ্ঞ আদালতে হাজির না হওয়াতে বিজ্ঞ আদালত তখন তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানার আদেশ দিয়ে ছিলো। গ্রেফতারকৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানা যায় মোঃ শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া ওমানে থাকা অবস্থায় আরো অনেক প্রবাসীদের নিকট হতে প্রতারণা করে টাকা নিয়ে বিশাল সম্পদের মালিক হয়ে যায়। আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে যা যাচাই বাছাই করে ভবিষ্যতে র‌্যাব-২ কর্তৃক এ প্রতারণার সাথে জরিতদের সদস্যদের গ্রেফতারে তৎপরতা অব্যাহত রাখবে।

র‍্যাবের এমন তৎপরতায় খুশি মামলার বাদী সিআইপি মোসাদ্দেক হোসেন চৌধুরী। বাংলাদেশ প্রতিদিনের সাথে আলাপকালে মামলার বাদী মোসাদ্দেক হোসেন চৌধুরী জানান আসামী শফিকুল ইসলাম ভূইয়ার সঙ্গে ২০১৫ সালে আমার পরিচয় হয়। সেই সুবাদে মাঝে মধ্যে অল্প কিছু টাকা ধার নিলেও নিদিষ্ট সময়ে দিতে না পারলেও পরবর্তী সময়ে দিয়ে দিতো। এভাবে আমার শ্যালক ঈমনকে ২০১৬ সালে তার নিউ স্টার ট্রাভেল এজেন্সিতে চাকরি দিবে এই প্রতিজ্ঞা করে অগ্রিম দুই লক্ষ টাকা নগদ ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে আমার কাছ থেকে গ্রহণ করে। পরবর্তীতে ভিসা দিচ্ছি দিবো বলে ১২/১১/২০১৭ তারিখে তার কোম্পানির ভিসা প্রদান করে। বিনিময়ে আরও অতিরিক্ত দুই লক্ষ টাকাসহ মোট চার লক্ষ টাকা গ্রহণ করে। মাঝে মাঝে তার কোম্পানির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রসেসিং এবং টিকিট বুকিং করতাম সেই সুবাদে আমার ওমানের ব্যক্তিগত ব্যাংক ম্যাস্কাটের একাউন্টের স্টেটমেন্ট তার কাছে ছিলো। ১৬/১১/২০১৭ তারিখে এই প্রতারক অনেক ছলনার আশ্রয় নিয়ে আমার কাছ থেকে ৪৪,৫০০ রিয়েল নগদ ধার নেয় যা বাংলাদেশী টাকায় ১ কোটি ২ লক্ষ টাকা। আমার সরলতার সুযোগ নিয়ে ২৩/১১/২০১৭ তারিখে ব্যাংক ম্যাস্কাটের একটি ক্যাশ চেক প্রদান করে New Star Travels কোম্পানির। ২৩/১১/২০১৭ তারিখ হইতে প্রতিনিয়ত ব্যাংকে এবং তার অফিসে আসা যাওয়া করতাম। এক পর্যায়ে ৮/০৫/২০১৮ তারিখে শফিকুল ইসলাম ভূইয়া আমাকে চেকটি ব্যাংকে জমা করতে বলে কিন্তু জমা করা চেকটি ওইদিনই ডিজঅনার হয়। পরবর্তীতে আমি পাওনা টাকা না পেয়ে চেক ডিজঅনারের মামলা করি ওমানের আদালতে এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের কাছে ০৭/০৪/২০১৯ তারিখে শফিকুল ইসলাম ভূইয়ার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করি । পরবর্তীতে অভিযোগের কোন ফলাফল না পেয়ে ২৩/০৯/২০১৯ তারিখে আরেকটি অভিযোগ দাখিল করি। কোন প্রতিকার না পাওয়াতে ১৭/১১/২০২০ তারিখে আবারও তার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ দাখিল করি।

পরে ওমানের আদালত শফিকুল ইসলাম ভূইয়াকে এক মাসের কারাদণ্ড প্রদান করে । পরবর্তীতে টাকা পরিশোধ করার শর্তে জামিন নিয়ে বের হয়ে স্থানীয় রেসিডেন্স কার্ড নবায়নের কথা বলে তার জব্দকৃত পাসপোর্ট নিজের কাছে নিয়ে ১৪/০৭/২০১৯ তারিখে রাতের আধারে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। দেশে আসার পর সে আমাকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ব্যাক্তিদ্বারা এবং নিজে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে আসছে এমতাবস্থায় আমি চট্টগ্রাম কোর্টে ২৭/০১/২০২১ তারিখে একটা জি আর মামলা করে ওয়ারেন্ট ইস্যু করি। পরে বিধি মোতাবেক র‍্যাব ব্যবস্থা নিয়েছে। একজন সাধারন প্রবাসী হিসেবে র‍্যাবকে ধন্যবাদ জানাই।

এসময় মোসাদ্দেক হোসেন চৌধুরী যোগ করেন এই প্রতারক আমি ছাড়াও আরও বিভিন্ন ওমান প্রবাসীদের সাথে প্রতারণা করে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ইয়াসিন চৌধুরী সি আই পি, নাজিম উদ্দীন, আনোয়ার চৌধুরী, মাহবুব সহ আরও অনেকের কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ করেছে। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের সর্বমহলেই আবেদন করছি যেনো আমাদের সবার কষ্টার্জিত টাকা উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা হয়।

খবর নিয়ে জানা যায় বাংলাদেশ সোশ্যাল ক্লাব ওমানের সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার এ প্রতারণামূলক আচরণে ওমানে ক্ষুন্ন হয়েছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি। বাংলাদেশী ছাড়াও একাধিক ওমানি নাগরিকের সাথেও প্রতারণার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।