প্রতীক পাওয়ার পর রাঙামাটিতে জমে উঠেছে পৌর নির্বাচন

প্রকাশিত: ৫:৫৬ অপরাহ্ণ , জানুয়ারি ২৮, ২০২১

আসন্ন রাঙামাটি পৌরসভা নির্বাচনে ইতোমধ্যেই প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে। গেলো মঙ্গলবার প্রত্যাহারের শেষ দিনে দু’জন কাউন্সিলর প্রার্থী নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। বুধবার প্রতীক বরাদ্দের পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণায় নেমেছেন প্রার্থীরা। রাঙামাটি পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে দুটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়েছেন দুইজন করে।

১ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর হেলাল উদ্দীনের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরী। সাত নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র জামাল উদ্দীনের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন সাবেক প্যানেল মেয়র রবিউল আলম রবি। পৌরসভার অন্যান্য ওয়ার্ডের কোনোটাতে চারজন কোনও কোনও ওয়ার্ডে তারও অধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। কিন্তু ১ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডে দুইজন করে প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ায় খেলা হবে ওয়ান টু ওয়ান।

হেলাল উদ্দীন দুইবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর এবং সাবেক প্যানেল মেয়র। নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই সামাজিক নানা অনুষ্ঠানাদিতে তার সরব উপস্থিতি ছিল সবসময়। বৃহত্তর রিজার্ভ বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও লোকজনের কাছাকাছিই আছেন হেলাল উদ্দীন। একইসঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ী হিসেবেও তার স্বচ্ছ ইমেজ রয়েছে।

করোনাকালেও সরকারি এবং ব্যক্তিগতভাবেও ওয়ার্ডের লোকজনদের সহযোগিতা করেছেন তিনি। এছাড়াও বিগত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে খুব সহজেই নির্বাচনী বৈতরণী পার করবেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। অপরদিকে প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নেয়া মিজানুর রহমান চৌধুরী ছাত্রলীগের রাজনীতির পাশাপাশি বৃহত্তর রিজার্ভ বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

বয়সে নবীন মিজান ব্যক্তি হিসেবে নম্র, ভদ্র এবং ব্যবসায়ী হিসেবেও স্বচ্ছ ইমেজ রয়েছে তার। সামাজিক অনুষ্ঠানাদিতেও রয়েছে সরব উপস্থিতি। স্বচ্ছ ইমেজ আর ভদ্র ছেলে হিসেবে তার নির্বাচিত হওয়াটাও অস্বাভাবিক কিছু নয়। ব্যক্তি হিসেবে দুই প্রার্থীরই রয়েছে স্বচ্ছ ইমেজ। সেই বিবেচনায় দুজনের লড়াইটাও বেশ জমবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তবে শেষ হাসিটা কে হাসবেন তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ১৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা পর্যন্ত।

রাঙামাটি পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ সাত নম্বর ওয়ার্ডেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দুইজন প্রার্থী। বর্তমান কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র জামাল উদ্দীনের বিপক্ষে প্রার্থী হয়েছেন সাবেক কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র রবিউল আলম রবি। দুই মেয়াদে কাউন্সিলরের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সাত নম্বর ওয়ার্ডের পাশাপাশি পৌর এলাকার লোকজনের কাছে ভালো ও ভদ্র মানুষ হিসেবে পরিচিত রবিউল আলম। বিগত নির্বাচনে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হিসেবে আড়াই হাজার ভোট পেয়েছিলেন তিনি। ভোটে হেরেও মাঠেই ছিলেন সর্বক্ষণ। লোকজনের কাছাকাছিই ছিলেন তিনি। ফলে রবির নির্বাচিত হওয়াটা অস্বাভাবিক নয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

অপরদিকে গত নির্বাচনে কাউন্সিলর হিসেবে বিজয়ী জামাল উদ্দীন বর্তমান পৌর পরিষদের সবচেয়ে কম বয়সী কাউন্সিলর। তিনি প্যানেল মেয়র হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। ২০১৭ সালের পাহাড় ধস আর ২০২০ সালের করোনাকালেও তার কার্যক্রম বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে। এছাড়াও লোকজনের বিপদে-আপদে জামাল ও তার পরিবারের সদস্যদের ঝাঁপিয়ে পড়া এবং লোকজনদের সহযোগিতায় এগিয়ে যাওয়া শহরবাসীর সকলেরই জানা। পরিশ্রমী ও স্বচ্ছ ইমেজের ব্যক্তি হিসেবে জামাল উদ্দীন সব মহলেই সমানে পরিচিত। আবারও তার নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়ার মতো নয়।

অপরদিকে মহিলা আসন ৪-৫-৬ এ-মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী রোকসানা আক্তার জবা ফুল নিয়ে পার্থী হয়েছেন । তিনি সকলের দোয়া/আশীর্বাদ, সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করছেন।