সুন্দরগঞ্জে ভ্যানচালকের বাড়ি দখল করলো জামায়াত নেতা গফ্ফার

প্রকাশিত: ৮:১০ অপরাহ্ণ , জানুয়ারি ২৩, ২০২১

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের ভ্যানচালক আলম মিয়াঁর বসত ভিটা দখল করে নিলেন সাবেক জামায়াত নেতা বর্তমানে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা দাবিকারী গফ্ফার মিয়াঁ। উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তা উদ্ধার করা হলেও পরে তা আবার জোরপুর্বক দখল করে নেয় সন্ত্রাসী গফ্ফার বাহিনী। এখন প্রশাসনের দিকে চেয়ে আছে অসহায় পরিবারটি।

জানা যায়, উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের নিজাম খাঁ গ্রামের বাসিন্দা ভুক্তভোগী ভ্যানচালক আলম মিয়ার বসত ভিটা দীর্ঘ দিন ধরে দখলের চেষ্টা করে আসছিলেন গফ্ফার মিয়া। তারই ফলশ্রুতিতে বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে আলম মিয়ার বসত ভিটা টিনের বেড়া দিয়ে দখল করে নেন গফ্ফার বাহিনীর লোকজন।

পরে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও সুন্দরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহিল জামানের সহায়তায় ওইদিন রাতেই সেটা উদ্ধার করা হয়। কিন্তু পুলিশ প্রশাসন রাতে এলাকা থেকে চলে গেলে আবারও গফ্ফার বাহিনীর লোকজন আলম মিয়ার বাড়ি ভাংচুর করে লুটপাট করে নিয়ে যায়। পরের দিন শুক্রবার (২২ জানুয়ারি) ভোরে আবারও ভ্যানচালক আলম মিয়ার বাড়ির ইট খুলে দখলে নেয় গফ্ফার বাহিনী। ফলে সুন্দরগঞ্জ প্রশাসনের দিকে চেয়ে আছে অসহায় পরিবারটি।

গফ্ফার বাহিনীর কাছে অসহায় হয়ে পড়া নিজাম খাঁ গ্রামের বাসিন্দাদের দাবি, সন্ত্রাসী গফ্ফার বাহিনীকে থামাতে না পারলে শান্তিতে থাকতে পারবে না এলাকাবাসী।

জানা গেছে, গফ্ফার মিয়াঁর সহযোগী হিসেবে তার তিন ছেলে শফিকুল, রফিকুল ও রবিউল লুটতরাজ ও চাঁদাবাজিতে মূল ভূমিকা রেখে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, সন্ত্রাসী গফ্ফার সুন্দরগঞ্জের সাবেক জামায়াত এমপি কুখ্যাত রাজাকার আব্দুল আজিজের সহযোগী হিসেবে ২০০১ সালের নির্বাচনের পর এলাকায় তাণ্ডব চালায়। পরে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে গা ঢাকা দেয় গফ্ফার ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। পরে ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ পুনঃরায় সরকার গঠন করলে গফ্ফার মিয়াঁ নিজেকে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে পরিচয় দিতে থাকে। এখন অসহায় মানুষের বাড়ি ও জমি দখলই তার প্রধান কাজ বলে এলাকাবাসী জানান।

এলাকার অধিকাংশ মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এলাকায় তার তিন ছেলে ও ভাইদের সহায়তায় সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে যাচ্ছে গফ্ফার মিয়াঁ।

নির্যাতনের শিকার ভুক্তভোগী আলম মিয়াঁর স্ত্রী।

স্থানীয়রা সবকিছু জানলেও গফ্ফার বাহিনীর ভয়ে ও আতঙ্কে সময় পার করছেন এলাকার মানুষ এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করছেন।

বাড়ি দখলের বিষয়ে ভ্যানচালক আলম মিয়া বলেন, আমি গরিব মানুষ ভ্যান চালিয়ে খাই। আমার এই বাড়ি ভিটা ছাড়া কিছুই নেই। গফ্ফার দীর্ঘ দিন ধরে দখলের চেষ্টা করে আসছে। এ জন্য বিভিন্ন সময় আমার ও এলাকার অনেকের নামেই সে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। আর তার বিরুদ্ধে মামলা করছি, কিন্তু পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে পারে না। গফ্ফার ও তার ছেলেরা মিলে আমার বাড়িটা দখল করে নিয়েছে। এখন আল্লাহর কাছে ছাড়া বিচার দেওয়ার জায়গা কোথায়।

অভিযুক্ত গফ্ফার বলেন, আমি ওই বাড়ি দখল করবো। কেউ যদি ঠেকাতে পারে ঠেকাও। পুলিশ কতক্ষণ বাড়ি ঘিরে রাখবে। পুলিশ আমার কিছুই করতে পারবে না। ওপরে আমার অনেক লোক আছে। ওই ভ্যানচালক আলম ও এলাকার ফকিরদের (গরিবদের) আমি খুন করবো, আমার কাজে বাধা দিলে।

সাংবাদিক পরিচয় দিলে তিনি জানান, যা ইচ্ছে লেখেন। আমার কিছুই করতে পারবেন না। ওই রকম সাংবাদিককে আমি পকেটে রাখি।

এ ব্যাপারে সরিজমিনে গেলে জানা যায়, ইউএনও ও পুলিশ এলাকায় গেলে গফ্ফার বাহিনী পালিয়ে যায়। পুলিশ চলে আসলে আবার হুমকি-ধামকি দিয়ে বাড়ি দখল করে নেয়।

এলাকার সাধারণ মানুষ জানান, গফ্ফার ও তার ছেলেদের এখনই দমন করা না গেলে তার বাহিনী একের পর এক এমন ঘটনা ঘটিয়ে যাবে। এতে অসহায় দরিদ্র লোকেরা পেরেশানির স্বীকার হবে। তাদের বিচার না হলে তারা একের পর এক বাড়ি ও জমি দখল করেই যাবে।

উল্লেখ্য, গফ্ফার ও তার ছেলেরা অশিক্ষিত হলেও এলাকার অনেকের জায়গা-জমি দখল করে বেশ প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে।