চুরির ৮ দিন পর শিশু উদ্ধার, নারী গ্রেফতার

প্রকাশিত: ২:২৪ অপরাহ্ণ , ডিসেম্বর ৩১, ২০২০

নাটোরের গুরুদাসপুর হাসপাতাল থেকে চুরি হওয়ার আট দিন পর দুই মাস বয়সী শিশু তাইয়িব্যাকে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। একইসঙ্গে শিশু চোর এক নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা।

গ্রেফতারকৃত ওই নারীর নাম শাকিলা খাতুন। তিনি বড়াইগ্রাম উপজেলার তিরাইল গ্রামের ট্রাক চালক সাইদুল ইসলামের স্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়- গত ২৩ ডিসেম্বর নাটোরের গুরুদাসপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে মায়ের সাথে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখান থেকেই চুরি হয় দুই মাস বয়সী শিশু তাইয়িব্যা। এ ঘটনার শিশুটির বাবা গুরুদাসপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ সুপার বলেন, গত ২৩ তারিখ থেকে শিশু তাইয়িব্যাকে উদ্ধারে তল্লাশি কার্যক্রম শুরু করে পুলিশ। নাটোরের পুলিশ এবং গোয়েন্দাদের চারটি দল যৌথভাবে এই উদ্ধার কর্মকাণ্ডে অংশ নেয়।

পুলিশ জানায়- অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তের অংশ হিসেবে গুরুদাসপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও গুরুদাসপুর থানার সব সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হয়। সেখান থেকে পাওয়া তথ্য এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে অভিযান চালায় পুলিশ।

আজ বৃহস্পতিবার ভোর রাতে অভিযান চালিয়ে নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম থানার কালিকাপুর গ্রাম থেকে শিশু তাইয়িব্যাকে উদ্ধার করে পুলিশ। অভিযুক্ত শাকিলাকে দুপুরে আদালতের মাধ্যমে নাটোর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়- যে নারী শিশু তাইয়িব্যাকে চুরি করেছে তারও একটা বাচ্চা হয়েছিল দুই মাস আগে। কিন্তু বাচ্চা হওয়া নিয়ে স্বামীর সঙ্গে অশান্তির কারণে সে তার নিজের বাচ্চাকে অন্য আরেকটি পরিবারের কাছে দত্তক দেয়।

পরে আবার তার সন্তান না থাকার কারণে ওই নারীর স্বামী ফের অশান্তি সৃষ্টি। এই অশান্তির মুখে পড়েই সে হাসপাতালে গিয়ে শিশু তাইয়িব্যাকে চুরি করেছে বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা জানান, পুলিশের কাছে বাচ্চা চুরির কথা স্বীকার করেছে ওই নারী। পরে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

কী ঘটেছিল সেদিন?
পুলিশ জানায়- গত ২৩ ডিসেম্বর নিজের চিকিৎসার জন্য শিশু তাইয়িব্যাকে সঙ্গে নিয়ে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান মা সীমা খাতুন। সে সময় অজ্ঞাতনামা এক নারী কৌশলে তাইয়িব্যাকে কোলে নিয়ে সীমা খাতুনকে হাসপাতালের আউটডোরে যেতে বলেন।

তার কথায় সরল বিশ্বাসে তাইয়িব্যার মা আউটডোরে গেলে ওই নারী শিশুটিকে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে চলে যায়। পরে তাইয়িব্যার মা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আর খুঁজে পায়নি। পরে এ ঘটনায় গুরুদাসপুর থানায় মামলা করে তাইয়িব্যার বাবা। সূত্র-বিবিসি।