ইন্দোনেশিয়া করোনা নির্ণয়ের সহজ যন্ত্র আবিষ্কার করলো

প্রকাশিত: ১২:৩৬ অপরাহ্ণ , ডিসেম্বর ২৯, ২০২০

এবার সহজ উপায়ে করোনা নির্ণয় করা সম্ভব হবে। পিসিআর, র‌্যাপিড অ্যান্টিবডি ও অ্যান্টিজেন টেস্টসহ কয়েকটি উপায়ে একজন ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কিনা সেটা শনাক্ত করা যায়। তবে ইন্দোনেশিয়ার গবেষকরা করোনাভাইরাস শনাক্তের সবচেয়ে সহজ একটি যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন। এখানে নাকে-মুখে কোনো কিট প্রবেশের প্রয়োজন নেই। যেকোনো ব্যক্তি উক্ত যন্ত্রে বেলুন ফোলানোর মতো শ্বাস দিলেই শনাক্ত করা যাবে তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কিনা।

ইন্দোনেশিয়ার গাদজা মাদা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক গেল ৯ মাস প্রচেষ্টা চালিয়ে এই যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন। গেল ২৪ ডিসেম্বর দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিয়েছে এই যন্ত্রের। শিগগিরই এটার বিপুল পরিমাণ উৎপাদন শুরু হবে

এই যন্ত্রটির নাম দেওয়া হয়েছে জিনোস সি১৯ (GeNose C19)। এই যন্ত্রের সহ-উদ্ভাবক দিয়ান কুসুমাপ্রামাদিয়া নুরপুত্রা জানিয়েছেন এটি তৈরি করার পর তারা ৮টি হাসপাতালের ২ হাজার রোগীর ওপর পরীক্ষা চালিয়েছে এবং সফলভাবে করোনা শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে।

আক্রান্ত রোগী নির্ণয়ে অর্থাৎ করোনা পজিটিভ নির্ণয়ে এটা ৯২ শতাংশ কার্যকর। আর করোনা নেগেটিভ নির্ণয়ে ৯৪ শতাংশ। এটার ভেতরে একটি বিশেষ ব্যাগ ব্যবহার করা হয়েছে। আর সেটা দিয়েই মূলত শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে করোনা নির্ণয় করা হয়।

ইন্দোনেশিয়ার গবেষকরা এমন একটি যন্ত্র উদ্ভাবন করায় যারপরনাই খুশি দেশটির গবেষণা ও প্রযুক্তি মন্ত্রী বামবাঙ ব্রোডজোনেগ্রোরো। সোমবার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘সর্বসাধারণের ব্যবহারের জন্য শিগগিরই আমরা এটি উন্মুক্ত করবো। এটার বিপুল পরিমাণ উৎপাদন শুরু করবো। যাতে করে দ্রুত ও সঠিকভাবে করোনা আক্রান্ত রোগী ও যারা করোনা আক্রান্ত নন তাদের চিহ্নিত করা যায় এবং দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাঁধাহীনভাবে চালিয়ে নেওয়া যায়।’

তিনি আরো জানিয়েছেন প্রাথমিকভাবে এটি কেবল র‌্যাপিড টেস্টের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে। এতোদিন তারা বিদেশ থেকে আমদানিকৃত কিটের মাধ্যমে করোনা টেস্ট করিয়েছেন। এখন থেকে তাদের আর সেটা করতে হবে না। এতে করে তারা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে।