সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি, ধরা পড়ে বৈধতার আবদার!

প্রকাশিত: ১২:২১ অপরাহ্ণ , ডিসেম্বর ২৯, ২০২০

চট্টগ্রামের রাউজানে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি করার সময় দুই নারীসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাউজান পৌর শহরের চার বটতল এলাকা হতে চাঁদার টাকা সংগ্রহকালে তাদেরকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়- আটককৃতরা এদিন বেলা ১১টার দিকে একাধিক সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের স্টিকারযুক্ত মাইক্রোবাস যোগে রাউজান পৌর এলাকায় অবস্থিত ৮০৮ নামীয় একটি ইটভাটায় উপস্থিত হন। সেখানে তারা সাংবাদিক পরিচয়ে ওই ইটভাটার বিরুদ্ধে পত্রিকায় সচিত্র খবর প্রকাশের হুমকি দিয়ে নগদ ও বিকাশের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করেন। পরবর্তীতে পার্শ্ববর্তী জিবিআই ব্রিকফিল্ড নামে আরেকটি ইটভাটা থেকেও তারা একই কায়দায় হাতিয়ে নেন ১২ হাজার টাকা। স্থানীয় লোকজন বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করলে তাদেরকে আটক করা হয়।

থানায় নিয়ে আসার পর আটককৃতরা বিভিন্ন টেলিভিশন ও সংবাদপত্রের পরিচয় পত্র প্রদর্শন করে তারা সেখানে সংবাদকর্মী হিসেবে দায়িত্বরত আছেন মর্মে দাবি করে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান।

তারা সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের নিকট দুঃখ প্রকাশ করে বলেন- তাদেরকে পত্রিকা থেকে কোনওরকম বেতন-ভাতা দেওয়া হয় না। তাই সরকারের উচিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিকট হতে এভাবে ‘উপঢৌকন’ গ্রহণ করাকে বৈধ করে দেওয়া।

এদিকে, ওইদিন বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ ৮০৮ ব্রিকফিল্ডের ব্যবস্থাপক সুমন দেবনাথ বাদী হয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা দায়ের করলে তাদেরকে সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এসময় জব্দ করা হয় তাদের পরিচয় পত্র এবং চাঁদাবাজির কাজে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটিও।

আটককৃতরা হলেন- ময়মনসিংহ জেলাধীন পাগলা উপজেলাস্থ উস্থি গ্রামের খোকন আলীর পুত্র আল আমিন আহমেদ (৩৫), গফরগাঁও উপজেলাস্থ দিঘা গ্রামের সিরাজুল ইসলামের কন্যা আরিফা আফরোজ (২০), ভালুকা পৌর এলাকাস্থ ১নং ওয়ার্ডের সৈয়দ আব্দুল জব্বারের কন্যা সৈয়দা জবা, একই এলাকার আব্দুল মান্নানের পুত্র মাছুম হাসান (৩৫) এবং কুমিল্লা জেলাধীন লাঙ্গলকোট উপজেলাস্থ কদমতলী গ্রামের আবুল কাশেম মজুমদারের পুত্র ইলিয়াস মজুমদার (৫৫)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়- গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা মাইক্রোবাসের সামনে দৈনিক বর্তমান কথা ও দেশ টিভি বাংলার স্টিকার লাগান। মুঠোফোনের পেছনে নিউজ বাংলা টিভি এবং গলায় জবস টিভি ও দেশকাল পত্রিকার কার্ড ঝুলিয়ে তারা চাঁদাবাজি করেন।

এছাড়াও সাংবাদিক পরিচয় দিলেও গ্রেপ্তারকৃত আল আমিন আহমেদ নিজেই জানান যে, তিনি কোনওদিন স্কুলের গন্ডিতে পা দেন নি। জানেন না লিখতে বা পড়তেও।

এ প্রসঙ্গে রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন শামীম বলেন, ‘চারজন কথিত সাংবাদিকসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছি আমরা। চাঁদাবাজির ঘটনায় ব্যবহৃত মাইক্রোটিও (চট্ট মেট্রা-চ-১১-৪৪৩৫) জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন টিভি ও পত্রিকার পরিচয়পত্র ও ভিজিটিং কার্ড জব্দ করা হয়েছে।

প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ ও জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় মর্মেও জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।