রাজধানীর অভিজাত এলাকায় বাড়বে পানির দাম

প্রকাশিত: ১০:২১ পূর্বাহ্ণ , ডিসেম্বর ২০, ২০২০

রাজধানী ঢাকায় এলাকাভিত্তিক পানির দাম নির্ধারণ করার কথা ভাবছে ঢাকা ওয়াসা। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ঢাকার অভিজাত বলে চিহ্নিত এলাকাগুলোয় পানির মূল্য বাড়বে। এর ফলে উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত এলাকার বাসিন্দাদের পানির দাম বেশি দিতে হবে।

কিন্তু ঢাকার একেক এলাকায় পানির দাম একেক রকম করার কথা কেন ভাবছে ওয়াসা? এ বিষয়ে শনিবার (১৯ ডিসেম্বর) একটি অনুষ্ঠানে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান বলেছেন, ‘পানির যা উৎপাদন খরচ হয়, তার চেয়ে আমরা অনেক কম দামে পানি দিচ্ছি। বাকি টাকা সরকার ভর্তুকি হিসাবে দেয়। দুঃখজনক হলো- এখন উচ্চবিত্তরাও সেই ভর্তুকি পাচ্ছেন। তাদের সেটা পাওয়া উচিত নয়। সব শ্রেণির মানুষের জন্য পানির দাম এক হওয়া উচিত নয়। তাই আমরা এখন চিন্তা করছি, এলাকা ভিত্তিক পানির দাম নির্ধারণ করবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘নিম্ন আয়ের মানুষজন যেখানে পানি ব্যবহার করেন, সেটা হয়তো কমানো সম্ভব হবে না, কিন্তু বাড়বেও না। তবে অন্যান্য এলাকায় পানির দাম বাড়বে।’

তবে কবে থেকে এই পরিকল্পনা কার্যকর হবে, কোন এলাকায় দাম বা কত বাড়বে, সে সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। যদিও এর আগে বাংলাদেশে একই শহরের বিভিন্ন এলাকায় পানির আলাদা আলাদা দাম নির্ধারণের ঘটনা ঘটেনি।

শনিবার এই অনুষ্ঠানে নিম্ন আয়ের ৭ হাজার ৪৮৬ জন বৈধ গ্রাহকের মধ্যে ২৫ জনকে সম্মাননা দিয়েছে ওয়াসা। সেখানে জানানো হয়েছে- ২০১১ সাল থেকে ঢাকার নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে, বিশেষ করে বস্তি এলাকাগুলোয় বড় আকারে বৈধ পানির সংযোগ দেয়া শুরু হয়।

তাকসিম এ খান বলেন, ‘টাকার অভাব নেই, এমন অনেক গ্রাহকের কাছে ৭০ লাখ টাকার পানির বিল বাকি আছে। কিন্তু নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে বকেয়া নেই।’

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নগরীর সকল নাগরিককে বৈধ পানির আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। আগে যেখানে ঢাকায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বাসিন্দা বৈধ পানির সংযোগের বাইরে ছিল, এখন সেখানে প্রায় শতভাগ মানুষ বৈধ পানি পায় বলে ওয়াসা জানিয়েছে।

তাকসিম এ খান আরও বলেন, ‘আমরা আশা করছি, ২০২১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকা শহরের বস্তিগুলোকে বৈধ পানির আওতায় নিয়ে আসতে পারবো।’

সর্বশেষ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পানির দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিল ঢাকা ওয়াসা, যা পহেলা এপ্রিল থেকে কার্যকর হয়েছে। সেই সময় আবাসিক গ্রাহকদের জন্য পানির দাম ১১.৫৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪.৪৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ব্যবহার্য পানির দামের সঙ্গে একই হারে সেই পরিমাণ পানির পয়োঃনিষ্কাশনের খরচও যোগ হয়ে থাকে। সূত্র- বিবিসি।