সীতাকুণ্ড ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে টাকা লেনদেনের অভিযোগ

প্রকাশিত: ৫:১১ অপরাহ্ণ , নভেম্বর ২২, ২০২০

সম্প্রতি শিহাব উদ্দিনকে সভাপতি ও এসএম রিয়াদ জিলানকে সাধারণ সম্পাদক করে পাঁচ সদস্যের সীতাকুন্ড উপজেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা করে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগ। তবে এই কমিটি টাকার বিনিময়ের গঠিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই সংক্রান্ত একটি অডিও রেকর্ড ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমান আহ্বায়ক কমিটি ভেঙে দিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে এই লেনদেন হয় বলে দাবি করেছেন সাবেক ছাত্র নেতারা।

অভিযোগে জানা যায়, সীতাকুণ্ড উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটি বহাল রাখার কথা বলে আট লাখ টাকা নেন উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানভীর হোসেন চৌধুরী তপু ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম। পরে তারা ২০ লাখ টাকা দাবি করলে তা না দিতে পারায় অন্য পক্ষ বিশাল অঙ্কের এই টাকা দিতে রাজি হয়ে যায়। এর পর ২০ লাখ টাকা নিয়ে সেই পক্ষের কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়।

ফাঁস হওয়া প্রথম কল রেকর্ডে জাবের নামে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘এখানে সেভেন কেন? এইট ছিল না, এইট?’ উত্তরে রেজাউল করিমকে বলতে শোনা যায়, ‘তাহলে একটা তোমাকে আমি পরে দিচ্ছি। অসুবিধা হবে?’ তখন জাবের বলেন, ‘না ভাই অসুবিধা নাই। আমি মাত্র দেখলাম, তাই বললাম।’

অন্য কলটি রেজাউল করিমের সঙ্গে শায়েস্তা খানের। যেখানে শায়েস্তা খানকে উদ্দেশ করে রেজাউলকে বলতে শোনা যায়, ‘আমারে ইরান ভাই (জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি) তোমারে ফোন দিতে বলল। আমি আসলে এসব দুই নম্বরি পছন্দ করি না। আমাকে তোমার ঘনিষ্ঠ অনেকে বলছে টাকা-পয়সার লেনদেন ভিডিও করে রাখতে। কারণ পরে তুমি পল্টি নিতে পার। আমি গাড়িতে বসে সেটা ভিডিও করে রাখছি।’

তখন শায়েস্তা খান বলেন, ‘ভাই আপনার সাথে আমার এগুলো লেনদেন নিয়ে কোনো কথা হইছে?’ এর উত্তরে রেজাউল বলেন, ‘জাবেরের সাথে হইছে।’ তখন শায়েস্তা খান বলেন, ‘তাহলে জাবেরকে ফোন দিতে বলেন।’

কল রেকর্ডের বিষয়ে শায়েস্তা খান বলেন, ‘আমাদের আহ্বায়ক কমিটি টিকিয়ে রাখতে ২০ লাখ টাকা দাবি করেছিল রেজাউল। বাধ্য হয়ে পৈতৃক জায়গা বিক্রি করে তাকে ৮ লাখ টাকা দিই বহু কষ্টে। কিন্তু বর্তমানে দুইজন ২০ লাখ টাকা দেওয়ায় ৭ লাখ ফেরত দেয়। এক লাখ টাকা এখনও রয়ে গেছে জেলা সেক্রেটারির কাছে।’

অন্যদিকে রেজাউল করিম পুরো বিষয়টি বানোয়াট বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘এগুলো বানানো কল রেকর্ড। এ ধরনের লেনদেনের কোনো সত্যতা নেই।’

নতুন কমিটির সভাপতি শিহাব উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক এস এম রিয়াদ জিলান টাকা লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাদের বিরুদ্ধে অপবাদ দেওয়া হচ্ছে।

নতুন কমিটির বিষয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। তিনি লেখেন, ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে অছাত্র, হত্যা মামলার আসামি ও সাবেক শিবির কর্মীকে দিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগের আহ্বায়ক কমিটি বহাল রাখতে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম সীতাকুণ্ড ছাত্রলীগের আহ্বায়ক শায়েস্তা খানের কাছ ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আট লাখ টাকা নেয়। পরে অন্যদের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা পাওয়ায় শায়েস্তার কাছ থেকে নেওয়া আট লাখ টাকার মধ্যে সাত লাখ ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

মেয়াদোত্তীর্ণ বলে সীতাকুণ্ড ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটি ভাঙার কথা বলা হলেও সেটি অযৌক্তিক দাবি করে রাব্বানী লিখেছেন, তাদের আওতাধীন সাতটি উপজেলার সবক’টিই মেয়াদোত্তীর্ণ।

এমনকি উত্তর জেলা ছাত্রলীগের কমিটিও মেয়াদোত্তীর্ণ উল্লেখ করে রাব্বানী আরও লেখেন, আড়াই বছর পেরিয়ে গেলেও আজ অবধি পূর্ণাঙ্গ হয়নি।

সীতাকুণ্ডের কমিটির বিষয়ে তিনি বলেন, নবনির্বাচিত সভাপতির বয়স উত্তীর্ণ এবং অছাত্র। সাধারণ সম্পাদক অছাত্র, হত্যা ও অপহরণ মামলার আসামি। ছাত্রলীগের কোথাও (তার) প্রাথমিক সদস্যপদও নেই, এর আগে স্থানীয়ভাবে শিবিরের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিল। বাবা ওয়ার্ড জামায়াত নেতা, বড় ভাই ওয়ালিদ রনি উপজেলা বিএনপির সক্রিয় নেতা।

অন্যদিকে শায়েস্তা খানকে ‘মেধাবী ছাত্রনেতা’ অভিহিত করে গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘আজ টাকার কাছে হেরে যাওয়া শায়েস্তা খান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টের মেধাবী শিক্ষার্থী। যোগ্যতম হিসেবেই ১০ বছর ধরে একটা উপজেলার প্রার্থী। বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর পদে চাকরি পেয়েও যোগদান করেনি শুধু ছাত্রলীগকে ভালোবেসে। সুযোগ পেয়ে এই করোনা দুর্যোগে ছাত্রলীগের পক্ষে সর্বোচ্চ ইতিবাচক মানবিক কাজ করেছে, যার পুরস্কার আজকে পেয়েছে।’

নতুন কমিটিতে পদ পাওয়া অন্য সদস্যরা হলেন- সহসভাপতি ইকবাল মাহমুদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান জীবন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক অমল দেবনাথ।