উপকূলে কোনো জলদস্যুর আস্তানা গড়তে দেয়া হবে না

প্রকাশিত: ১০:৪২ অপরাহ্ণ , নভেম্বর ১২, ২০২০

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকায় কোনো জলদস্যু বা বনদস্যুকে আস্তানা গড়তে দেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) চট্টগ্রামের বাঁশখালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকার ৩৪ জন জলদস্যুর আত্মসমর্পণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে র‌্যাব-৭ এর তত্বাবাবধানে ৩৪ জন জলদস্যু তাদের ব্যবহৃত ৯০টি আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় তারা অতীত কর্মকান্ডের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘উপকূলে কোনো জলদস্যু বা বনদস্যুর আস্তানা গড়তে দেয়া হবে না। সেখানে র‌্যাব, পুলিশ, কোস্টগার্ড রয়েছে, রয়েছে বিজিবিও। আপনারা পালিয়ে থাকতে পারবেন না। আস্তানাও গড়তে পারবেন না’।

দস্যুবাহিনীর উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা আত্মসমর্পণ না করলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মুখোমুখি হলে কি পরিস্থিতি হবে, তা আপনারাই জানেন। যে যেখানে আছেন, তাদেরকে খুঁজে বের করা হবে। তাই কঠোর পরিণতির আগে আত্মসমর্পণ করে ফেলুন। যারা আত্মসমর্পণ করেছেন তাদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমরা উপকূলে সকল দস্যুবাহিনী দমন করবোই’।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যারা আত্মসমর্পণ করেননি তারা ভাববেন না, আপনাদের কিছু হবে না। আপনারা যা যা করছেন, সবই আমরা দেখছি, কোথাও পালিয়ে থাকতে পারবেন না। আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এখন আগের চেয়ে অনেক দক্ষতা ও সক্ষমতায় পরিপূর্ণ’।

তিনি বলেন, একসময় উপকূলের লোকজন এসব জলদস্যুদের কাছে জিম্মি ছিলো। ধার করে হলেও দস্যুদের দাবিকৃত টাকা পরিশোধ করতে হতো। জেলেদের নিয়ে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায় করা হতো। ২০১৬ সালের ৩১ মে সুন্দরবনের কুখ্যাত মাস্টার বাহিনী আত্মসমর্পণের মাধ্যমে দস্যুদের আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়া শুরু হয়। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন উপকূলের ৩২৮ জন জলদস্যু আত্মসমর্পণ করেছে। এখন আমাদের উপকূলকে দস্যুমুক্ত বলছি না, তবে সংখ্যা অনেক কমে এসেছে’।

মন্ত্রী বলেন, সুন্দরবনের দস্যুদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য প্রাথমিকভাবে কিছু আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে। তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। আজও আত্মসমর্পণকারীদের কিছু আর্থিক সহায়তা করা হবে। তারা আজ প্রতিজ্ঞা করে গেলেন- এই অন্ধকার পথে আর যাবেন না, আলোকিত পথে আসবেন, আর দস্যুতাও করবেন না বলে শপথ করেছেন’।

পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, শেখ হাসিনার বাংলদেশে, অর্থনৈতিক উন্নয়নের দেশে কোন চোর ডাকাত থাকতে পারে না। যারা আত্মসমর্পণ করেছে, তারা যেন সমাজের মূলধারায় ফিরে আসতে পারে সেজন্য সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজবের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কিছু কুলাঙ্গার দেশবিরোধী হাতেগোনা কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুৎসা রটিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। আপনারা কেউ গুজবে কান দেবেন না। যে কোনো তথ্য যাচাইয়ে ৯৯৯ এ ফোন দিন, আমরা আপনাদের পাশে আছি’।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি শামসুল হক টুকু, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল এবং র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সারওয়ারও বক্তৃতা করেন।