করোনায় কমেছে পোশাক রপ্তানি

প্রকাশিত: ১২:৪৪ অপরাহ্ণ , নভেম্বর ১২, ২০২০

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শুরু হয়েছে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় তরঙ্গ। এর বিরূপ প্রভাবে কমতে শুরু করেছে তৈরি পোষাকের রপ্তানি আদেশ। তবে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা করছেন না ব্যবসায়ী নেতারা। এদিকে শ্রমিকরা যাতে কাজ না হারায়, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। 

করোনা পরিস্থিতিতে বিশ্বের অধিকাংশ দেশের অর্থনীতি যখন সংকটে, তখন খানিকটা উল্টো চিত্র বাংলাদেশের। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত রেমিটেন্স এসেছে ৮ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলার। রপ্তানি আয় ছিলো ১২ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ডলার। আর জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় আমদানি ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশ কমে ১২ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ফলে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলারে।

এরই মধ্যে ইউরোপে শুরু হয়েছে করোনার দ্বিতীয় তরঙ্গ। ব্রিটেন, ফ্রান্সসহ ইউরোপের অনেক দেশেই নতুন করে লকডাউন ঘোষণা হয়েছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশের তৈরি পোষাক রপ্তানি কমবে বলে আশঙ্কা ব্যবসায়ী নেতাদের।

বিকেএমইএ সহ-সভাপতি মোহম্মদ হাতেম বলেন, আমরা যেটা আশা করতে ছিলাম হয়তো জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির মধ্যে গিয়ে একটা ভালো অবস্থা দাঁড়াবে। কিন্তু সেকেন্ড ওয়েভের কারণের এই পজিশন এখন হুমকির মুখে। অর্থাৎ ভায়াররা যে অর্ডারগুলো প্রেস করতে শুরু করেছিল সেটা এখন কিন্তু স্থবির হয়ে গিয়েছে।

করোনা সংকটের শুরুতে সরকার প্রণোদনাসহ এক গুচ্ছ সুবিধা দিলেও কারখানা লে-অফ ও ছাঁটাইসহ নানাবিধ সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিলেন শ্রমিকরা। নতুন সংক্রমণের অযুহাতে আবারও একই ধরনের সমস্যা সামনে আসলে প্রতিবাদ করা হবে বলে জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।

গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার বলেন, ফার্স্ট ওয়েভে যেহেতু ক্ষতিটা আমাদের খুব একটা বেশি হয়নি। বিশেষ করে আমাদের অর্থনীতির ক্ষেত্রে। আশা করি সেকেন্ড ওয়েভেও সেটা আমরা ওভারকাম করতে পারবো। কিন্তু এটাকে কেন্দ্র করে মালিকরা যদি প্রপাগান্ডা ছড়িয়ে শ্রমিকদের ঠকানোর চেষ্টা করে তাহলে আমরা নিঃসন্দেহে ফাইট করবো।

করোনা মোকাবেলায় এরই মধ্যে যা অভিজ্ঞতা হয়েছে, তাতে নতুন সংক্রমণের সমস্যা মোকাবেলা সহজ হবে বলে আশাবাদি ব্যবসায়ী নেতারা।

এফবিসিসিআই সহ-সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, এখন কিন্তু সবার সবকিছু জানা, ভায়াররাও জানে কি হবে বা কি হতে পারে। সেই অনুযায়ী সবাই মিলে একত্রে কাজ করলে এই দ্বিতীয় ওয়েভকে মোকাবেলা করা আমাদের জন্য খুব একটা কঠিন হবে না।

করোনা পরিস্থিতিতে রপ্তানি বাড়াতে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা ধরে রাখার ব্যাপারে আরও মনযোগী হওয়ার আহবান এই ব্যবসায়ী নেতার।