চট্টগ্রামে মারা যাওয়াদের ৯০ শতাংশই চল্লিশোর্ধ

প্রকাশিত: ১২:১১ অপরাহ্ণ , অক্টোবর ২৭, ২০২০

করোনায় আক্রান্তদের মাঝে এ পর্যন্ত ৩০১ জনের মৃত্যু হয়েছে চট্টগ্রামে। এরমধ্যে ২৭২ জনই চল্লিশোর্ধ। শতকরা হিসেবে যা ৯০ শতাংশের বেশি। অর্থাৎ মৃতদের ৯০ শতাংশেরই বয়স ৪০ বছরের বেশি। চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে আক্রান্তদের মাঝে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ষাটোর্ধ্ব বয়সীদের। এই বয়সী ১৫১ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে চট্টগ্রামে। যা মোট মৃত্যুর অর্ধেক (৫০ শতাংশ)।
বয়স্ক ব্যক্তিরাই বেশি ঝুঁকিতে মন্তব্য করে সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলছেন, বয়স্করা করোনায় আক্রান্ত হলে তাঁদের জন্য ঝুঁকিটা বেশি। এছাড়াও যারা আগে থেকেই ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন, তাদের জন্যও ঝুঁকিটা খুব বেশি। অনেকের ক্ষেত্রে বয়স ৪০ পার হতেই বিভিন্ন জটিলতায় আক্রান্ত হতে দেখা যায়। করোনায় আক্রান্ত হলে এই বয়সীদেরও ঝুঁকি কোন অংশে কম নয়। তাই কেবল বয়স্ক নয়, তুলনামূলক কম বয়সীদেরও সতর্ক থাকতে হবে। যাতে এই ভাইরাসে সংক্রমণের হাত মুক্ত থাকা যায়।
সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়- চট্টগ্রামে করোনায় মৃতদের মাঝে ১ থেকে ১০ বছর বয়সী ৪ জন, ১১ থেকে ২০ বছর বয়সী ৩ জন, ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সী ৫ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সী ১৭ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সী ৪১ জন এবং ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সী ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর ৬১ থেকে তদূর্ধ্ব বয়সীদেরই মৃত্যু হয়েছে সবচেয়ে বেশি। এই বয়সী (ষাটোর্ধ্ব) ১৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর ৪০ বছরের কম বসয়ীদের মৃত্যুর হার ১০ শতাংশের কম। এদিকে, নারীদের তুলনায় মৃত্যুর হার বেশি পুরুষের। করোনায় মৃত ৩০১ জনের মাঝে পুরুষ মারা গেছেন ২৩০ জন। শতকরা হিসেবে এটি মোট মৃত্যুর ৭৬ শতাংশের বেশি। আর আক্রান্তদের মাঝে নারীর মৃত্যু হয়েছে ৭১ জনের। যা মোট মৃত্যুর ২৪ শতাংশ।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী- করোনায় মৃতদের ৬৯ শতাংশই মহানগরের। মহানগরে এ পর্যন্ত ২০৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর চট্টগ্রামের উপজেলাগুলোতে মৃত্যু হয়েছে ৯৩ জনের। হিসেবে করোনায় মোট মৃত্যুর ৩১ শতাংশ উপজেলাগুলোতে। উপজেলাগুলোর মধ্যে হাটহাজারী ও সীতাকুন্ডে মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। হাটহাজারীতে ১৫ জনের এবং সীতাকুন্ডে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এ পর্যন্ত। আর রাউজানে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাকি উপজেলাগুলোতে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা ১০ জনের কম। অন্যদিকে, মহানগরে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হালিশহর ও কোতোয়ালি এলাকায়। হালিশহরে ২৫ জন এবং কোতোয়ালি এলাকায় ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে করোনায়। এছাড়া পাঁচলাইশ এলাকায় ১৩ জন, খুলশী এলাকায় ১২ জন এবং পাহাড়তলী এলাকায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মহানগরের বাকি এলাকাগুলোতে মৃতের সংখ্যা তুলনামূলক কম।