লোহাগাড়ায় দুই ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়িতে ককটেল নিক্ষেপ

প্রকাশিত: ৮:৫৬ পূর্বাহ্ণ , অক্টোবর ২১, ২০২০

চট্টগ্রামের নয় ইউনিয়নে গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন চলাকালে লোহাগাড়ায় দুই ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ি লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। এতে এক ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ি চালক গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া ফটিকছড়ির সুয়াবিল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের দুই নেতার ওপর হামলা হয়েছে। এদের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
দুই ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়িতে ককটেল নিক্ষেপ : লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের নজমুন্নিছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে গতকাল বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নীলুফা ইয়াছমিন চৌধুরীর গাড়ি লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করেছে দুর্বৃত্তরা। এতে গাড়ি চালক মো. শাহেদ (৩০) গুরুতর আহত হন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নীলুফা ইয়াছমিন চৌধুরী জানান, ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়ার সময় আমার সরকারি গাড়ি লক্ষ্য করে পর পর দুটি ককটেল নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা।
এর দশ-পনের মিনিট পর দ্বিতীয় হামলার ঘটনা ঘটে। ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ ইনামুল হাসান জানান, আমিরাবাদ ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের উত্তর আমিরাবাদ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অনিয়মের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়ার সময় আমার গাড়ি লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করেছে দুর্বৃত্তরা। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। দুর্বৃত্তদের ককটেল লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় গাড়িতে থাকা সকলে প্রাণে বেঁচে যান।
এদিকে, আমিরাবাদ সুফিয়া আলিয়া মাদরাসা কেন্দ্র, উত্তর আমিরাবাদ এমবি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র, নজমুন্নিছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ও লোহাগাড়া ইসলামিয়া মাদরাসা কেন্দ্রে অনিয়মের কারণে কিছুক্ষণ ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকে। নজমুন্নিছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে চেয়ারম্যানের ব্যালট পেপার না দেওয়া, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্যের দুটি ব্যালট পেপারের মধ্যে একটিতে প্রতীকে সিলযুক্ত দেওয়া এবং সিল খুঁজে না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন ভোটার ইমতিয়াজুল হক। তবে চেয়ারম্যানের ব্যালট ও সিল কে নিয়ে গেছে জানাতে পারেননি তিনি। এছাড়া অন্য কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনার সংবাদ পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রতি কেন্দ্রে মহিলা ভোটারের উপস্থিতি ছিল পুরুষের চেয়ে বেশি।
ফটিকছড়ি : ফটিকছড়ির সুয়াবিল ইউনিয়নে একটি কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের দুই নেতার ওপর হামলা হয়েছে। গতকাল সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ফটিকছড়ির দুটি ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ চলে। এর মধ্যে সকাল ১১টায় সুয়াবিল ইউনিয়নের শুভনছড়ি জেএমসি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের দুই নেতার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। সকাল ১১টায় উক্ত কেন্দ্রে ফটিকছড়ির যুবলীগ নেতা ইমাজউদ্দিন জেম ও নাজিরহাট পৌরসভা আওয়ামী লীগের নেতা আলী আকবর জুনুর ওপর হামলা হয়। এ হামলার জন্য দায়ী করা হয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থী এম হায়াতকে। আলী আকবর জুনুর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
নির্বাচনের বিষয়ে জানতে চাইলে ফটিকছড়ির ইউএনও মো. সায়েদুল আরেফিন জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ৭ জন ম্যাজিস্ট্রেট ও প্রচুর সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী মাঠে কাজ করেছে। একটি কেন্দ্রের বাইরে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে।