২৭ বছরে দেশে এসেছে ৩৮ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশির লাশ

প্রকাশিত: ৪:৩৪ অপরাহ্ণ , সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২০

প্রতি বছর কাজের সন্ধানে বিদেশ পাড়ি জমান লাখ লাখ বাংলাদেশি। বেশিরভাগ বাংলাদেশি প্রবাসী বিদেশে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে অর্থ উপার্জন করেন। বছরের পর বছর দেশে আসেন না তারা। অনেকের আবার জীবিত ফিরে আসাও সম্ভব হয় না। কর্মরত অবস্থায় দুর্ঘটনায় অথবা রোগে ভুগে মৃত্যুবরণ করেন সেখানেই।

পরবর্তীতে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক মন্ত্রণালয় থেকে সরকারি খরচে তাদের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়। বিমানবন্দর থেকে লাশ পরিবহন ও দাফনসহ আর্থিক ক্ষতিপূরণও প্রদান করে সরকার।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্য থেকে জানা গেছে, ১৯৯৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ৩৮ হাজার ২৪ জনের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাশ আনা হয়েছে এক হাজার ৬৯৮ জন প্রবাসীকর্মীর। দেশে ফিরিয়ে আনা এসব লাশের মধ্যে বেশিরভাগই সৌদি আরব ও মালয়েশিয়া প্রবাসী।

প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের মাধ্যমে যেকোনো প্রবাসীকর্মীর মৃতদেহ দেশে আসলে তাদের লাশ পরিবহন ও দাফন সম্পন্ন করার জন্য ৩৫ হাজার এবং আর্থিক সাহায্য হিসেবে তিন লাখ টাকা করে দেয়া হয়।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ৩১ আগস্ট পর্যন্ত গত আট মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মোট এক হাজার ৬৯৮ জন প্রবাসীকর্মীর লাশ ফেরত আসে। মোট লাশের মধ্যে জানুয়ারিতে ২৯৫ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২৫৯ জন, মার্চে ১৪০ জন, এপ্রিলে ১৬ জন, মে-তে ১১৬ জন, জুনে ২৮২ জন, জুলাইয়ে ৩১০ জন এবং আগস্টে ২৮০ জন প্রবাসীকর্মীর লাশ দেশে ফেরত আসে।

এর মধ্যে সৌদি আরব থেকে ৪৫৪ জন, মালয়েশিয়া থেকে ৪২৯ জন, কুয়েত থেকে ১৬৯ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ১৬৯ জন, বাহরাইন থেকে ৪৭ জন, কাতার থেকে ১০০ জন, ওমান থেকে ১৭০ জন, সিঙ্গাপুর থেকে ১৯ জন, জর্দান থেকে ১৫ জন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে দুজন, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ১১ জন, ইতালি ১৭ থেকে জন, লেবানন থেকে ২৯ জন, গ্রিস থেকে চারজন, অস্ট্রেলিয়া থেকে একজন, মালদ্বীপ থেকে ১৫ জন, মরিশাস থেকে পাঁচজন, স্পেন থেকে চারজন, ইরাক থেকে ১৬ জন, তুরস্ক থেকে একজন, ব্রাজিল থেকে তিনজন, ব্রুনাই থেকে একজন, বেলজিয়াম থেকে দুজন, মিশর থেকে তিনজন, লিবিয়া থেকে চারজন, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে দুজন, জাপান থেকে একজন ও অন্যান্য দেশ থেকে পাঁচজন প্রবাসীকর্মীর লাশ ফেরত এসেছে।