অভয়মিত্র মহাশ্মশান সংস্কারে শিক্ষা উপমন্ত্রীর অনুদান

প্রকাশিত: ৮:১২ অপরাহ্ণ , আগস্ট ২২, ২০২০

চট্টগ্রামে সনাতনী সম্প্রদায়ের মরদেহ সৎকারের প্রধান শ্মশান বলুয়ারদীঘি অভয়মিত্র মহাশ্মশান। শতবর্ষী এই শশ্মান দীর্ঘকাল হতে জোয়ারের পানির কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার সংকটে নিমজ্জিত। বিশেষত বর্ষাকালে এ মশ্মানঘাটে দাহকার্য সম্পাদন বেশ কষ্টকর হয়ে পড়ে।
সনাতনী সম্প্রদায়ের এ সমস্যা উপলব্ধি করে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এই মহাশ্মশানের সংস্কারের জন্য অনুদান দিয়েছেন। আগামীতে বলুয়ারদীঘি অভয়মিত্র মহাশ্মশানের সার্বিক উন্নয়নেও তিনি অনুদান দিবেন বলে জানিয়েছেন।

আজ (২২ আগস্ট) সকালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন এই মহাশ্মশান পরিদর্শনে যান। এসময় তিনি মহাশ্মশান পরিচালনা কমিটি ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলেন। এলাকাবাসী প্রশাসককে জানান, তাদের অনেক বছর ধরে এভাবে হাঁটু সমান পানিতে মরদেহ দাহ করতে হচ্ছে । খালসংলগ্ন অভয়মিত্র মহাশ্মশানটি একটু নিচু হওয়ায় প্রতিদিনই জোয়ারের পানি উঠছে। বৃষ্টির সময় পানি আরও বেড়ে যাওয়ায় দাহ করার জন্য আনা মরদেহ রাখার জায়গা থাকে না। অনেক সময় জোয়ার-ভাটা দেখে মরদেহ সৎকারের সময় নির্ধারণ করতে হয়।

উপস্থিত জনগণ প্রশাসককে আরো জানান যে, অভয়মিত্র মহাশ্মশানে জোয়ারের পানির কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার সংকট নিরসনে কার্যকরী পদক্ষেপ জরুরি। চসিক প্রশাসক সার্বিক পরিস্থিতি ও পানি উঠার প্রতিকার হিসেবে বলেন, মাটি ভরাট করে অভয়মিত্র মহাশ্মশান উঁচু করা হলে জোয়ারের পানি আর এই স্থানে প্রবেশ করতে পারবে না। জলাবদ্ধতা না থাকলে সনাতন সম্প্রদায় তাদের আপনজনের মৃতদেহ সৎকার যথাযথ ধর্মীয় নিয়মনীতি অনুসরণ করে নিরাপদে ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পারবে। এজন্য তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত এই মহাশ্মশানের জন্য ত্বরিৎ পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দেন।

প্রশাসক বলেন, যে অনুদান পাওয়া গেছে তাতে সাময়িক কষ্ট লাঘব হলেও এর জন্য চাই পরিকল্পিত ও কার্যকর পদক্ষেপ। মহাশ্মশানটি সিটি কর্পোরেশনের পরিচালনাধীন। তাই একটি সুন্দর পরিকল্পিত মহাশ্মশান করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন বলে আশ্বাস দেন প্রশাসক। এজন্য সব মহলের মতামত ও পরামর্শ নেয়া হবে বলে তিনি ঘোষণা করেন।

এসময় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মুনিরুল হুদা, অভয়মিত্র মহাশ্মশান পরিচালনা কমিটির সভাপতি, সাবেক কাউন্সিলর জহর লাল হাজারী, সাধারণ সম্পাদক বিজয় কিশান চৌধুরী, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর পেয়ার মোহাম্মদ, সাধারণ সম্পাদক আবু তৈয়ব সিদ্দিকী, এডভোকেট তপন দাশ, ইঞ্জিনিয়ার আশুতোষ দাশ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।