ফ্লাইওভারে রশি বেঁধে ছিনতাই

প্রকাশিত: ২:০২ অপরাহ্ণ , আগস্ট ২১, ২০২০

চট্টগ্রামে অভিনব কায়দায় চলছে ছিনতাই। ফ্লাইওভারগুলোতে রশি বেঁধে লুটে নেয়া হচ্ছে চালকদের বাইক, অর্থ, মোবাইলসহ মূল্যবান জিনিস। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ৪৪ জনকে আটক করেছে। এদের অধিকাংশ বয়সে কিশোর। নেশার টাকা জোগাড় করতেই ছিনতাইয়ে জড়াচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। যানজট থেকে মুক্ত থাকতে ও সহজে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য মোটরসাইকেল আরোহীরা ফ্লাইওভার বেশি ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু গত কয়েক মাসে অনেক মোটরসাইকেল আরোহী ছিনতাইয়ের কবলে পড়েছেন ফ্লাইওভারগুলোতে।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, ছবি তোলা কিংবা দল বেঁধে বেড়ানোর ভান করে ছিনতাইকারীরা ফ্লাইওভারে অবস্থান নেয়। আশপাশে গাড়ি কম থাকলে, সময় সুযোগ বুঝে তাদের হাতের রশিটি কাজে লাগায়।একজন ভুক্তভোগী জানান, হঠাৎ করে খেয়াল করলাম আমার গলায় একটা রশি পেঁচিয়ে গেল। আমার বাইকের স্পিড কম থাকায় আমি ব্রেক করে ফেলি, পরে দেখি আমার গলা কেটে গেছে। অন্য আরেক ভুক্তভোগী বলছেন, আমার সাথে এই ঘটনা ঘটার পর আমি বাসায় গিয়ে ফেসবুকে দেখি একই দিনে আরও বেশ কিছু লোকের সাথে এই একই ঘটনা ঘটছে। ফেব্রুয়ারি থেকে গেল ছয় মাসে চট্টগ্রাম নগরের চারটি উড়ালসড়কে রশি দিয়ে ৫০টির বেশি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।
মোটরসাইকেল আরোহীদের অভিযোগ এসব ঘটনা ঘটার পরেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়নি ফ্লাইওভারগুলোতে। মাঝে মাঝে সুতি পার্টি আমাদের আক্রমণ করে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে এই এলাকাতে আরও টহল বাড়ানো উচিৎ। আমরা নিরাপত্তা চাই।
সম্প্রতি, উড়ালসড়কে ছিনতাইয়ে জড়িত কিশোর গ্যাং এর ৪৪ সদস্যকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বর্তমানে ফ্লাইওভারগুলোতে সাদা পোশাকে পুলিশের টহলের পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টাই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানান, উপ পুলিশ কমিশনার ( উত্তর ) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ বিজয় বসাক।
তিনি বলেন, বেশির ভাগ কিশোর আটক হয়েছে। তাদের কারো আর্থিক সচ্ছলতা নেই। ফ্লাইওভার এর নিচে তারা থাকেন এবং সেখানে থেকেই তারা নেশা করেন। আর এই নেশার টাকার যোগান দিতেই তারা এই অপরাধগুলো করে থাকে।
নগরবাসী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও তৎপর হবে এমনটাই দাবি চট্টগ্রামবাসীর।