লালন শাহর ১৩৬তম তিরোধান দিবসে তিন দিনব্যাপী লালন উৎসবের উদ্বোধন

প্রকাশিত: 12:21 AM , October 18, 2026

মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’ বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহর এই আধ্যাত্মিক বাণীর স্লোগানে তার ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়িতে তিন দিনব্যাপী ঐতিহাসিক লালন উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।

আজ শনিবার বিকেলে এ স্মরণোৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

এ উপলক্ষে লালন একাডেমির মূল মঞ্চে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তিনি।

লালন একাডেমির সভাপতি ও কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন হাসানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় গেস্ট অব অনার ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মুখ্য আলোচক ছিলেন প্রাবন্ধিক অধ্যাপক ড. রশিদুন নবী।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মাছুমা ফরিদা ইয়াসমিন, সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ মেহেদী আহমদ রুমী, পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

আলোচনা শেষে মূল মঞ্চে লালন একাডেমির শিল্পী ও দেশবরেণ্য লালন শিল্পীরা ফকির লালন শাহর আধ্যাত্মিক গান পরিবেশন করেন।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় লালন একাডেমি এ তিরোধান দিবসের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

প্রতিবছরের মতো এবারও আধ্যাত্মিক সাধক ফকির লালন শাহকে স্মরণ, তার দর্শন উপলব্ধি, অজানাকে জানা, জ্ঞান অর্জন, আত্মার শুদ্ধি ও মুক্তির লক্ষ্যে দেশ-বিদেশের হাজারো লালন অনুসারী, ভক্ত-অনুরাগী ও দর্শনার্থী আখড়াবাড়িতে সমবেত হয়েছেন।

সাধু-বাউলদের গানে মুখর হয়ে উঠেছে আখড়াবাড়ি। বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা অস্থায়ী আস্তানায় চলছে লালনভক্ত ও অনুরাগীদের মিলনমেলা।

অন্যদিকে, আখড়াবাড়ি চত্বর ও কালীগঙ্গা নদীর তীরবর্তী মাঠে বসেছে বিশাল লালনমেলা। উৎসব নির্বিঘ্ন করতে সিসিটিভি ক্যামেরা, ওয়াচ টাওয়ারসহ কয়েক স্তরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। ঐতিহাসিক এ লালন উৎসব আগামী সোমবার রাতে শেষ হবে।

উল্লেখ্য, ১২৯৭ বঙ্গাব্দের পহেলা কার্তিক উপমহাদেশের আধ্যাত্মিক সাধক বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহর মৃত্যুর পর থেকেই তার অনুসারীরা তাকে স্মরণ করে আসছেন। পরবর্তী সময়ে লালন একাডেমি ও জেলা প্রশাসন প্রতিবছর এ তিরোধান দিবসের অনুষ্ঠান আয়োজন করে আসছে।

Loading