চীন, রাশিয়া ও ভারতের ব্রিকসে অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের আলোচনা নিউজ৭১অনলাইন নিউজ৭১অনলাইন প্রকাশিত: 9:10 PM , September 13, 2026 চীন, রাশিয়া ও ভারতসহ ব্রিকস নেতারা রোববার নয়াদিল্লিতে দ্বিতীয় দিনের বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। বৈঠকে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি’ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বিরল এক সমঝোতায় পৌঁছান তারা।ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জোটের মধ্যে ‘সহযোগিতার’ আহ্বান জানান।তিনি বলেন, ব্রিকস ‘বিশ্বের ৫০ শতাংশ মানুষ, বৈশ্বিক জিডিপির ৪০ শতাংশ ও বিশ্ব বাণিজ্যের ২৫ শতাংশের বেশি’ প্রতিনিধিত্ব করে।নয়াদিল্লি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।বৈঠকের শেষ দিনে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ নেতাদের উদ্দেশে মোদি বলেন, ‘ব্রিকসের শক্তি নিহিত রয়েছে আমাদের বৈচিত্র্য ও সহযোগিতার মধ্যে।’২০০৯ সালে ব্রিকস গঠিত হয়। পশ্চিমা শক্তির প্রভাবাধীন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে আরও বেশি প্রভাব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রধান উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোকে নিয়ে এ জোট গড়ে ওঠে। বিশ্বে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর পাশাপাশি সংঘাত, বাণিজ্যে অস্থিরতা ও জ্বালানি নিরাপত্তার মতো বিষয় মোকাবিলায় কাজ করছে জোটটি।মোদি বলেন, ‘আমরা অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছি।’তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ভিন্ন বাস্তবতায় বেড়ে উঠলেও সহযোগিতার মাধ্যমে একসঙ্গে এগিয়ে যেতে পারি এবং মানবতার কল্যাণে বিকশিত হতে পারি।’শনিবার সম্মেলনের প্রথম দিন মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।ফেব্রুয়ারি ২৮ তারিখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় শুরু হওয়া যুদ্ধ নিয়ে মে মাসে নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যৌথ বিবৃতিতে একমত হতে পারেননি।ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে এ যুদ্ধ নিয়ে মতবিরোধ ছিল।তবে আয়োজক ভারত ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চালানোর পর নেতারা একটি বিবৃতি প্রকাশ করেন। বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও অংশ নেন।যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মধ্যপ্রাচ্য/পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনার ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতিতে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’এতে আরও বলা হয়, ব্রিকসের দেশগুলো ‘সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানায়।’মোদি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরাইল— উভয়ের সঙ্গেই সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখেন। তবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কেও সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখতে সতর্ক তিনি।যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ভারত আংশিকভাবে রাশিয়ার দিকে ঝুঁকেছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ এবং ওয়াশিংটন ও অন্যান্য পশ্চিমা রাজধানীর চাপ সত্ত্বেও এ পদক্ষেপ নিয়েছে নয়াদিল্লি।ব্রিকস সম্মেলনে সি’র অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ২০১৯ সালের পর প্রতিবেশী ভারত এটাই তার প্রথম সফর। পারমাণবিক শক্তিধর দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের উষ্ণ সম্পর্ক ফেরার ক্ষেত্রে এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ।তিব্বতের বিতর্কিত সীমান্তে চীন ও ভারতের মধ্যে প্রাণঘাতী সামরিক সংঘর্ষের ছয় বছর পর সি ভারত সফরে এলেন। এরপর ধীরে ধীরে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে।পুনরায় বিমান চলাচল, ভিসা চালু এবং উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের মাধ্যমে এ অগ্রগতি হয়েছে।নয়াদিল্লির প্রকাশ করা এক ভিডিওতে, মোদির সঙ্গে বৈঠকে সি বলেন, ‘আমাদের দুই দেশ অনেক দিক থেকে ভিন্ন হলেও পরস্পরের শক্তির পরিপূরক হওয়া, পরস্পরকে সহযোগিতা করা, পারস্পরিক সাফল্য অর্জন ও একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার পূর্ণ সক্ষমতা রয়েছে।’তবে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ এখনো মীমাংসিত হয়নি। প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ উচ্চভূমির সীমান্তে দুই দেশই বিপুলসংখ্যক সেনা মোতায়েন রেখেছে।বৈঠকের পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ‘দুই নেতা সীমান্ত প্রশ্নের একটি ন্যায্য, যুক্তিসংগত ও পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য সমাধানের বিষয়ে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।’দুই দেশের মধ্যে গভীর অবিশ্বাস এখনো রয়েছে। ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতি ও কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতাও সম্পর্ককে জটিল করে তুলছে।সি বলেন, ‘উভয় পক্ষের উচিত উচ্চমানের বৃহৎ আর্থিক সহযোগিতা এগিয়ে নিতে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করা, সমতাভিত্তিক ও টেকসই বৈশ্বিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা এবং উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক বিশ্বায়নকে এগিয়ে নেওয়া।’ভারতে সি চিন পিংয়ের সফরের বিরুদ্ধে নয়াদিল্লিতে কয়েক ডজন তিব্বতি বিক্ষোভ করেন। ১৯৫৯ সালে চীনের দমন-পীড়ন থেকে পালিয়ে ভারতে বসবাসরত তিব্বতিদের মধ্যে বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতা দালাই লামাও রয়েছেন শেয়ার আন্তর্জাতিকবিষয়: