বৈরুতে শুরু সরকার বিরোধী বিক্ষোভ

প্রকাশিত: ১:৪৬ অপরাহ্ণ , আগস্ট ৭, ২০২০

হাজার হাজার মানুষ এ বার পথে নামলেন বৈরুতে। সরকার বিরোধী বিক্ষোভে চলল কাঁদানে গ্যাস। বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে এক জার্মান কূটনীতিকের।বিস্ফোরণের জের, বৈরুতে শুরু হলো জনগণের বিক্ষোভ। বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টের বাইরে জমায়েত হন সাধারণ মানুষ। সরকারের বিরুদ্ধে তাঁরা স্লোগান দিতে থাকেন। কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে পুলিশ সেই বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে পরিস্থিতি যা, তাতে শুক্রবার ফের বিক্ষোভের সম্ভাবনা আছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সাধারণ মানুষের দাবি, বর্তমান সরকারের অবহেলার জন্যই বন্দরে বিস্ফোরণ ঘটেছে। অভিযোগ, ছয় বছর ধরে যে ভাবে গুদামে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ফেলে রাখা হয়েছিল, তাতে আরও আগে এমন বিস্ফোরণ ঘটতে পারতো। বস্তুত, বৃহস্পতিবারই বন্দর কর্তৃপক্ষের কেউ কেউ জানিয়েছিলেন, একাধিকবার সরকারের কাছে এ বিষয়ে চিঠি লেখা হয়েছিল। চিঠি দেওয়া হয়েছিল আদালতকেও। কিন্তু অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট সরানো বা বিক্রির বিষয়ে কেউ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। অবহেলার কারণেই বৈরুতের সাধারণ মানুষকে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের সাক্ষী থাকতে হলো বলে অভিযোগ।মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৫৭। আহতের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। এর মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বিক্ষোভকারীদের দাবি, এখনও বহু মানুষের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁরা ধ্বংসাবশেষের মধ্যে আটকে আছেন কি না, সে প্রশ্ন উঠছে। রাজধানী জুড়ে ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ এখনও চলছে। জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের বিস্ফোরণে এক জার্মান কূটনীতিকেরও মৃত্যু হয়েছে। বিস্ফোরণের সময় তিনি নিজের বাড়িতেই ছিলেন। শোকপ্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ জানিয়েছেন বৈরুতের সংস্কার কাজে ফ্রান্স সবরকম সাহায্য করবে। তবে একই সঙ্গে তাঁর বক্তব্য, দেশের সরকার বড় রকমের সংস্কার না করলে লেবানন ক্রমশ ডুবতে থাকবে।

বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন, রাজধানীর অধিকাংশ বাড়ি বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে বহু অফিস। সরকার এখনও পর্যন্ত জানায়নি কী ভাবে তার সংস্কার হবে। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, এই সরকার ক্ষমতায় থাকার সমস্ত অধিকার হারিয়েছে। দ্রুত ক্ষমতার পরিবর্তন দরকার।এ দিকে প্রশাসন জানিয়েছে এখনও পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আটক সকলেই বন্দরের কর্মী। বৃহস্পতিবারেই বন্দরের বহু কর্মীকে গৃহবন্দি করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে থেকে ১৮ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছিল। দুই জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ১৬ জনকে আটক করে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অভিযোগ, ওই কর্মীদের অবহেলাতেই এমন ঘটনা ঘটেছে।

তবে সরকার বিরোধী আন্দোলন ক্রমশ দানা বাঁধছে লেবাননে। এক সাংসদও এই ঘটনার পরে পদত্যাগ করেছেন। দাবি করেছেন, নতুন সরকার না আসা পর্যন্ত তিনি পার্লামেন্টে যাবেন না। জর্ডনে লেবাননের রাষ্ট্রদূতও পদত্যাগ করেছেন। তিনিও জানিয়েছেন, লেবাননে ক্ষমতার পরিবর্তন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

লেবাননে সরকার বিরোধী আন্দোলন শুরু হয়েছিল গত বছরেই। অর্থনীতির বেহাল দশা, সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমেছিলেন। করোনা-কালে সেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে। করোনার মধ্যেও মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। তবে বিস্ফোরণের পরে বিক্ষোভ আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।(রয়টার্স, এপি)