হরমুজে জাহাজে হামলার পর ইরানে মার্কিন হামলা, পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি তেহরানের নিউজ৭১অনলাইন নিউজ৭১অনলাইন প্রকাশিত: 3:09 PM , July 8, 2026 হরমুজ প্রণালীতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর মঙ্গলবার ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, এ হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবসানের প্রচেষ্টার মধ্যেই চলমান উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে।মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার জবাবে এই ‘শক্তিশালী’ হামলা চালানো হয়েছে। বাণিজ্যিক নৌপরিবহনে হামলার জন্য ইরানকে ‘চরম মূল্য’ দিতে হবে বলেও সতর্ক করা হয়।ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, হরমুজ প্রণালীর আশপাশে একাধিক বিস্ফোরণ ঘটেছে। এর মধ্যে কেশম দ্বীপে ছয়টি, সিরিক শহরে সাতটি এবং গুরুত্বপূর্ণ নগরী বন্দর আব্বাসেও আরও কয়েকটি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, দুই দেশের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারক বারবার লঙ্ঘন করছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে তারা পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘চুক্তি লঙ্ঘনের পরিণতি সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর সতর্কবার্তা দিচ্ছে ইরান। নিজেদের স্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় দেশটি দৃঢ় পদক্ষেপ নেবে।’যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে ইরানের তেলের ওপর দেওয়া নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সুবিধা প্রত্যাহার করার পরপরই এ হামলা চালানো হয়। চূড়ান্ত সমঝোতার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মধ্যে থাকা তেহরানের ওপর এতে চাপ আরও বেড়েছে।মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জুনে দেওয়া একটি লাইসেন্স বাতিল করেছে। ওই লাইসেন্সের আওতায় ইরান ২১ আগস্ট পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল ও সংশ্লিষ্ট পণ্য উৎপাদন, বিক্রি ও সরবরাহ করতে পারত।যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, ‘হরমুজ প্রণালীতে ইরানের কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। এর পরিণতি তাদের ভোগ করতে হবে।’নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক পুরোপুরি বাস্তবায়ননির্ভর।তেহরান ‘ভালো আচরণ’ দেখালেই কেবল এর সুফল পাবে।তবে তিনি বলেন, চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে মার্কিন আলোচকরা ‘সৎ উদ্দেশ্যে’ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।ব্রিটেনের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানায়, রাতে একটি ট্যাংকারে ‘অজ্ঞাত একটি ক্ষেপণাস্ত্র’ আঘাত হানে। এতে আগুন ধরে যায়। পরে আরও দুটি জাহাজে হামলা হয়। এর অন্তত একটিতে ড্রোন দিয়ে আঘাত করা হয়।তিনটি জাহাজই ওমানের উপকূলের কাছাকাছি এলাকায় আক্রান্ত হয়। ওমান নিজ উপকূলঘেঁষা একটি অস্থায়ী নৌপথ ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে হরমুজ প্রণালী ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে ফি আদায়ের চেষ্টা করা ইরান ওই উদ্যোগের বিরোধিতা করে।কাতার জানায়, হামলার শিকার জাহাজগুলোর একটি ছিল তাদের এলএনজি ট্যাংকার আল-রেকাইয়াত। এ হামলার জন্য তারা ইরানকে দায়ী করেছে এবং আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনের ওপর এটিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ হামলা বলে নিন্দা জানিয়েছে।পরে দোহা ইরানের উপ-রাষ্ট্রদূতকে তলব করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানায়। একই সঙ্গে ঘটনার ব্যাখ্যা দাবি করে ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে এমন সব কর্মকাণ্ড ‘অবিলম্বে বন্ধ’ করার আহ্বান জানায়।কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি এক্সে লিখেছেন, ‘এই হামলা এবং এর ফলে হওয়া সব ক্ষয়ক্ষতি ও পরিণতির জন্য আমরা আইনত সম্পূর্ণভাবে ইরানকেই দায়ী করি।’রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কাতারের অভিযোগে ‘দুঃখ প্রকাশ’ করেছে ইরান। তারা এসব অভিযোগকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলেছে।হরমুজ নিয়ে নতুন বিরোধ-এক সপ্তাহের বেশি সময়ের তুলনামূলক শান্ত পরিবেশের অবসান ঘটিয়ে এ হামলাগুলো আবারও নৌচলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির পর ইরান হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ তুলে নিয়েছিল।নতুন হামলার ঘটনায় বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আবারও বেড়েছে। এতে তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার স্থায়িত্ব নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।লন্ডনের কিংস কলেজের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেয়াস ক্রিগ এএফপিকে বলেন, ‘এখন আমরা এমন এক সংবেদনশীল সময়ে রয়েছি, যখন ইরানের টোল বা ফি ব্যবস্থার বিকল্প কী হতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।’তিনি বলেন, ‘ইরান স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে, কোনো বিকল্পই তারা মেনে নেবে না।’ক্রিগের মতে, ইরানের কাছে নিবন্ধন না করে ওমানের প্রস্তাবিত নৌপথ ব্যবহার করতে চাইলে ট্যাংকারগুলোকে শাস্তির মুখে পড়তে হবে। তিনি এ হামলাকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ও আন্তর্জাতিক আইনের ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে উল্লেখ করেন।গত মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরান সমঝোতা স্মারকে সই করার পর ধীরে ধীরে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছিল। তবে ইরান আগেই জানিয়েছিল, যুদ্ধ-পূর্ব পরিস্থিতিতে আর ফেরা হবে না। অর্থাৎ, আগের মতো অবাধে জাহাজ চলাচলের সুযোগ থাকবে না।১৪ দফা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীর তীরবর্তী দেশ ইরান ও ওমানকে উপসাগরীয় অন্য দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসে এই জলপথের ভবিষ্যৎ প্রশাসন ও সামুদ্রিক সেবার কাঠামো নির্ধারণ করতে হবে।এর আগে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলার জবাবে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ইরান আকাশ পথে নজিরবিহীন হামলা চালানোর সময় মধ্যস্থতায় রাজি হয়নি কাতার।তবে এরপর থেকে দোহা আরও সক্রিয় ভূমিকা নেয়। গত সপ্তাহে কাতারই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনার আয়োজন করে শেয়ার আন্তর্জাতিকবিষয়: