আজ জিয়ার ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী

প্রকাশিত: ১২:৫৩ অপরাহ্ণ , মে ৩০, ২০২৪

আজ প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে কিছু সেনা সদস্যের হাতে নির্মমভাবে নিহত হন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ১৫ দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি।

এদিকে জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, চলমান সংকটে জিয়ার প্রদর্শিত পথ ও আদর্শ বুকে ধারণ করেই সামনে এগিয়ে যেতে হবে এবং গণতন্ত্র সুরক্ষায় ইস্পাতকঠিন গণ ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।
জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি ২৮ মে থেকে ১৫ দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন শুরু করেছে, যা শেষ হবে ১১ জুন। ২৮ মে বিএনপির সহযোগী সংগঠন মুক্তিযোদ্ধা দলের উদ্যোগে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। আর ২৯ মে বুধবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভা।

আজ ৩০ মে সকাল ৬টায় বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশের সকল কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত এবং কালো পতাকা উত্তোলন। সকাল সাড়ে ১০টায় জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পমাল্য অর্পণ, মিলাদ ও দোয়া। এছাড়া বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনগুলো জিয়াউর রহমানকে নিয়ে পোস্টার প্রকাশ ও বিভিন্ন দৈনিকে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে।

জিয়াউর রহমান মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ ৩০ মে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডে দুস্থদের মধ্যে খাবার ও বস্ত্র বিতরণ করছে। দুপুরে নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সম্মুখে হবে ড্যাব আয়োজিত ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প ও বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা। এছাড়া জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবনের ওপর আলোচনা সভা, সেমিনার, আলোকচিত্র প্রদর্শনী করবে।

কাল শুক্রবার ৩১ মে জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গণদোয়া। কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ছাড়াও সারাদেশে জেলা ও ইউনিটসমূহ জিয়াউর রহমানের স্মরণে আলোচনা সভা ও দুস্থদের মধ্যে খাবার বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে। ১ জুন থেকে ১১ জুন থেকে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতিদিন বিএনপির একটি অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
জিয়াউর রহমানের ৪৩তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রদত্ত বাণীতে জিয়াউর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। তিনি বলেন, চক্রান্তকারীরা ১৯৮১ সালের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করে। এই মর্মান্তিক ঘটনার মধ্য দিয়ে দেশবাসী একজন মহান দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদীকে হারায়।
ফখরুল বলেন, বর্তমান সরকার দেশে একদলীয় দুঃশাসন পুনর্প্রতিষ্ঠা করেছে। বিরোধী দলের অধিকার, চিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সবচেয়ে বড় শত্রু মনে করে এ সরকার। সেজন্য গণতন্ত্রের পক্ষে আপোসহীন যোদ্ধা খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় অন্যায়ভাবে সাজা দিয়ে বন্দি করে রেখে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, তাকে বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। অবিলম্বে তার মামলা ও সাজা প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।
ফখরুল বলেন, গণতন্ত্রকামী প্রায় ৫০ লাখ রাজনৈতিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে অনেককে সাজা দেওয়া হয়েছে। নিত্যদিনই অসংখ্য নেতাকর্মীকে আটক করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। হত্যা, খুন, গুম ও বিনা বিচারে হত্যা এবং অমানবিক নির্যাতন যেন বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ভাগ্যের লিখন করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ সরকারকে পদত্যাগ ও সংসদ বিলুপ্ত করে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।

Loading