চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালতে বিজ্ঞাপন নিয়ে সিন্ডিকেট

প্রকাশিত: ৬:৩৫ অপরাহ্ণ , নভেম্বর ৮, ২০২১

চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালতে পত্রিকার বিজ্ঞাপন প্রকাশ নিয়ে চলছে ঘুষ লেনদেনের কারবার। সেরেস্তাদার মুক্তাদির মাওলা এবং বিজ্ঞাপনী সংস্থা বিজ্ঞাপন বাজারের যোগসাযশে আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে চক্রটি হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। এছাড়া বিজ্ঞাপন প্রদানে সরকারী ব্যাংকের বিজ্ঞাপনে ১ থেকে দেড় হাজার টাকা, বেসরকারী ব্যাংকের বিজ্ঞাপন প্রদানের ক্ষেতে ২ থেকে ৫ হাজার টাকা আদায় করছে সেরেস্তাদার মুক্তাদির মাওলা। এনিয়ে সৃষ্টি হয়েছে চরম অসন্তোষ্টির। বিজ্ঞাপন প্রদানের ক্ষেত্রে রেকর্ডও গড়েছে চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালতের সেরেস্তদার স্থানীয় এক আন্ডার গ্রাউন্ড পত্রিকায় ৩১ অক্টোবর ২২টি বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছে অর্থঋণ আদালতের।

জানাগেছে সেরেস্তাদার মুক্তাদির মাওলা মোটা অংকের টাকার চুক্তির ভিত্তিতে অধিকাংশ বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপনী সংস্থা বিজ্ঞাপন বাজারকে প্রদান করে। আর বিজ্ঞাপনী সংস্থা বিজ্ঞাপন বাজার ঢাকার একটি আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকায় প্রতিদিন এসব বিজ্ঞাপন প্রকাশ করছে।
এক্ষেত্রে অর্থঋণ আদালতের বাদী ও বিবাদী উভয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানান অর্থঋণ আদালতের
আইনজীবি ও মানবাধিকার কর্মী জিয়া আহসান হাবিব। তিনি জানান সার্কুলেশন ভালো এমন পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশের নিয়ম রয়েছে। আন্ডারগ্রাউট পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হলে আসামি পর্যন্ত বিজ্ঞান পৌছে না।

এদিকে সেরেস্তাদার মুক্তাদির মাওলা ও বিজ্ঞাপন বাজারের যৌথ সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি ডিএফপি ভুক্ত স্থানীয় এবং জাতীয় পত্রিকা গুলো। ডিএফপি তালিকা অনুযায়ী বিজ্ঞাপন দেওয়ার নিয়ম থাকলেও তোয়াক্কা করেন না সেরেস্তাদার মুক্তাদির মাওলা। মাঝেমধ্যে স্থানীয় এবং জাতীয় দু’একটা পত্রিকা কে বিজ্ঞাপন দিলেও সরকারি ব্যাংকের বিজ্ঞাপনের জন্য এক থেকে দেড় হাজার এবং বেসরকারি ব্যাংকের জন্য ২ থেকে ৫ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে বিভিন্ন অজুহাতে বিজ্ঞাপন না দিয়ে ফিরিয়ে দেন। সেরেস্তাদার মুক্তাদির মাওলা বিজ্ঞাপনী সংস্থা বিজ্ঞাপন বাজারে স্বত্বাধিকারী ওয়াজেদ দুইজনে মিলে ডিএফপি সিরিয়াল এ ১০০ নাম্বারে থাকা একটি আন্ডারগ্রাউন্ড বিজ্ঞাপন দেয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি জাতীয় দৈনিকের ব্যুরো চীফ দৈনিক সাঙ্গুকে বলেন ডিএফপি সিরিয়ালে আমরা ৪০ এর মধ্যে আছি,কিন্তু আমরা অর্থ ঋণ আদালতের বিজ্ঞাপন পাইনা। সেরেস্তাদার মোকতাদির মাওলা এবং বিজ্ঞাপন বাজার সিন্ডিকেট ডিএফপি তালিকা ১০০ নাম্বারে থাকার পরও প্রত্যেকদিন দুই তিনটা করে বিজ্ঞাপন পাই।

Loading