বাংলাদেশ রেলওয়ের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ

প্রকাশিত: ৪:৪৬ অপরাহ্ণ , আগস্ট ৩০, ২০২০

বাংলাদেশ রেলওয়ের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে জানা যায় ১৪৫ চাকরিপ্রার্থীর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের নিয়োগ চুড়ান্ত করার জন্য হাইকোর্টের আদেশ থাকার পরও ৪ বছরেও আদেশ অনুয়ায়ী পুরো প্যানেলের নিয়োগ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে পারেননি রেল কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশ রেলওয়ে ২০০৯ সালে অফিস সহকারী কাম-টাইপিস্ট ও স্টেনো টাইপিস্ট পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ২০১০ সালে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা হওয়ার পর উত্তীর্ণদের চূড়ান্ত প্যানেলের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। নিয়োগটি প্রক্রিয়ার সব কাজ শেষ করার পরও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ নানা কারণে নিয়োগটি স্থগিত রাখে। পরে চূড়ান্ত প্যানেল তালিকার উত্তীর্ণ প্রার্থীরা নিয়োগের জন্য রেলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক রিভিউ রায়ের কপি হাতে পেলেও এখনো নিয়োগ দেওয়া হয়নি প্রতিবন্ধী, উপজাতিসহ বিভিন্ন কোঠার ১৪৫ উত্তীর্ণ চাকুরী প্রার্থীর পুরো প্যানেলটি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পূর্বাঞ্চল রেলের চীফ পার্সোনেল অফিসারের পক্ষে সিনিয়র ওয়েলফেয়ার অফিসার মোঃ আবু খালেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত (সূত্রঃ নং-৫৪.০১.১৫০০.১০৬.০৩.২৮.১৯, তারিখঃ ১৬-৫-২০১৯ইং) স্মারক মোতাবেক লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে সিআরবি’তে উপস্থিত হওয়ার জন্য চিঠি প্রদান করেন। ১৮জুন, ২০১৯ তারিখ চাহিত কাগজপত্র নিয়ে উপস্থিত প্রতিবন্ধী, উপজাতিসহ বিভিন্ন কোঠার  ৮জন উত্তীর্ণ প্রার্থীদের অচিরেই নিয়োগপত্র পাবেন বলে আশ্বস্থ্য করেন অতিরিক্ত পদে থাকা সিনিয়র ওয়েলফেয়ার অফিসার মোঃ আবু খালেদ চৌধুরী। কিন্তু অদৃশ্য কারণে অদ্যবধি পর্য্যন্ত তাদের নামে নিয়োগপত্র ইস্যু করেনি কর্তৃপক্ষ। নিয়োগপত্র না পেয়ে রেলের মহাপরিচালক, পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক, পূর্বাঞ্চলের চীফ পার্সোনেল অফিসার’কে অনুলিপি দিয়ে পূর্বাঞ্চল রেলের সিনিয়র ওয়েলফেয়ার অফিসার মোঃ আবু খালেদ চৌধুরী’র বরাবর নিয়োগপত্র প্রাপ্তি নিশ্চিতের জন্য ২৪জুন লিখিত আবেদন করেন অফিস সহকারী কাম টাইপিষ্ট পদে উত্তীর্ণ প্রার্থী। প্রার্থীর আবেদনের কিছুদিনের মধ্যে নানা অনিয়মের কারণে সিনিয়র ওয়েলফেয়ার অফিসারের পদটি ছাড়তে বাধ্য হন আবু খালেদ চৌধুরী। এছাড়া আবু খালেদ চৌধুরীর নামে রয়েছে নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ। আবু খালেদ চৌধুরী টাইপিষ্ট হিসেবে রেলওয়েতে যোগ দিয়েছিলেন। তিনি ষষ্ঠ গ্রেডে (প্রথম শ্রেণীর পদ) চলতি দায়িত্বে পদোন্নতি পান। তাকে ২টি নিয়োগ কমিটির সদস্য করা হয়। তার পদোন্নতির নেপথ্যে রয়েছে ‘নিয়োগ-বাণিজ্যে’ জড়িত এক শ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারীর কারসাজি আছে বলে জানা যায়।

 বর্তমানে সিনিয়র ওয়েলফেয়ার অফিসারের দায়িত্বে রয়েছেন ইতি ধর। অফিস সহকারী কাম টাইপিষ্ট পদে প্রতিবন্ধী, উপজাতিসহ বিভিন্ন কোঠার ৮জনের নিয়োগ ফাইলটি তার কাছে রয়েছে। ৮জনের নিয়োগ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন আমি কিছুদিন হয় যোগদান করেছি খুব দ্রুত অফার লেটারসহ নিয়োগ প্রক্রিয়াটি ত্বরান্বিত করবেন বলে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের আশ্বস্থ্য করেন।

এদিকে উত্তীর্ণ প্রার্থীরা অভিযোগ করেন, হাইকোর্টের রায় প্রদানের ৪বছর পেরিয়ে গেলেও আইনি বাধ্যবাধকতা উপেক্ষা করে রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে রেল কর্তৃপক্ষ। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ রেলওয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নম্বর বাং রেঃ (পূর্ব)-৩/০৯, (তারিখ : ০৫.০৫.২০০৯) অনুযায়ী উত্তীর্ণ প্রার্থীরা হাইকোর্টে রিট পিটিশন (নম্বর ৬৯৪২/২০১৩) দায়ের করেন। ২০১৪ সালের ১২ জুন হাইকোর্ট লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নিয়োগ দিতে নির্দেশ দেয়। রেলওয়ে ওই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিমকোর্টে আপিল (নম্বর ৯৩৬/২০১৫) করলেও ২০১৫ সালের ১৬ নভেম্বর আপিল খারিজ করে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে আপিল বিভাগ। পরে বাংলাদেশ রেলওয়ে ওই রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ পিটিশন দায়ের করলে (নম্বর ৪৯/২০১৬) একই বছরের ১৩ মার্চ রিভিউ পিটিশনও খারিজ করে আগের রায় বহাল রাখে সর্বোচ্চ আদালত। ২০১৬ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক রিভিউ রায়ের কপি হাতে পেলেও এখনো নিয়োগ দেওয়া হয়নি প্রতিবন্ধী, উপজাতিসহ বিভিন্ন কোঠার ১৪৫ উত্তীর্ণ চাকুুুরী প্রার্থীর পুরো প্যানেলটি। উচ্চ আদালতের রায় থাকার পরও উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নিয়োগকাজ সম্পন্ন না করায় ঐ সময়ে দায়িত্বে থাকা সিনিয়র ওয়েলফেয়ার অফিসার আবু খালেদ চৌধুরীর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের চীফ পার্সোনেল অফিসার মোঃ ফাত্তাহ ভূঞা। অফিস সহকারী কাম টাইপিষ্ট পদে প্রতিবন্ধী, উপজাতিসহ উত্তীর্ণ প্রার্থীদের সিনিয়র ওয়েলফেয়ার অফিসার ইতি ধর’র সাথে যোগাযোগ করার জন্য বলেন এই কর্মকর্তা (সিপিও)।

এ বিষয়ে পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক সরদার সাহাদাত আলী বলেন, ওই সময় তিনি দায়িত্বে ছিলেননা। নিয়োগের ফাইলটির খোঁজ খবর নিয়ে  তিনি যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে জানান।