শরীয়তপুরে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি

প্রকাশিত: ৫:৫৯ অপরাহ্ণ , জুলাই ২৩, ২০২০

টিটুল মোল্লা :

শরীয়তপুরে বন্যা পরিস্থিতি মারাত্মক অবনতি হয়েছে। বন্যার পানিতে ভাসছে শরীয়তপুরের চারটি উপজেলার কমপক্ষে ৫০টি ইউনিয়ন ও  চারটি পৌরসভা। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কমপক্ষে অর্ধলক্ষ পরিবার। পদ্মা নদীর পানি সুরেশ্বর পয়েন্টে বিপদসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ফলে প্রতিদিন নতুন নুতন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়ক তলিয়ে হাঁটু পানিতে ডুবে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এক সপ্তাহ শরীয়তপুর-ঢাকা রুটে কাঁঠালবাড়ি ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ঢাকা ও শরীয়তপুর যাতায়াতে চরম বিপাকে পড়েছে যাত্রীরা। বন্যাকবলিত এলাকায় মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

তাদের খাদ্যাভাব দেখা দিয়েছে। বন্যা দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানীয় জল, শুকনো খাবার, শিশু খাদ্য, গো-খাদ্য ও পয়নিষ্কাশনের সংকট রয়েছে। বন্যার পানিতে ভেসে গেছে হাজার হাজার একর মাছের পুকুর ও ঘের। মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে মাছ চাষিরা। বন্যাদুর্গতদের আশ্রয় নেয়ার জন্য ২৯৮টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা রয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে বন্যাদুর্গতদের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেয়া দরকার ।

নড়িয়া পৌরসভার ঢালি পাড়া এলাকার পানিবন্দি পারুল গম বলেন, বন্যার পানি আমাদের ঘরে ঢুকে হাঁটু পানিতে ডুবে গেছে। আমরা খুবই কষ্টে আছি। আমাদের দেখার কেউ নেই। আর ২-১ দিন পানি বাড়লে ঘরে থাকতে পারব  না।

জাজিরা  উপজেলার পালেরচর গ্রামের সোনামুদ্দিন তালুকদার বলেন, বন্যার পানিতে আমরা  ভেসে যাচ্ছি। আমাদের এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানীয় জল, শুকনো খাবার ও পয়নিষ্কাশনের খুবই কষ্ট হচ্ছে।

জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ শাখার প্রধান সহকারী রাকিব হোসেন বলেন, চারটি উপজেলার ৫০টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অর্ধলাখ পরিবার। বানভাসি মানুষের জন্য ৪৭০ মেট্রিক টন  জি আর চাল ও ২০০ মেট্রিক টন শুকনো খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান হাবিবুর রহমান বলেন, পদ্মা নদীর পানি অব্যাহত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুরেশ্বর পয়েন্টে বন্যার পানি বিপদসীমার তিন সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।