বাংলাদেশে আবারো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আকাঙ্ক্ষা পুনর্ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত: ১:২২ অপরাহ্ণ , মে ৪, ২০২৩

বাংলাদেশে আবারও অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পাশাপাশি মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখার আকাঙ্ক্ষা পুনর্ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনে ৩ মে দুই দেশের নবম অংশীদারত্ব সংলাপে যুক্তরাষ্ট্রের এ অবস্থানের প্রতিফলন ঘটেছে। আলোচনায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন ও রাজনীতিবিষয়ক মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব দেন।

সংলাপের পর আজ বৃহস্পতিবার ভোরে প্রচারিত এক টুইট বার্তায় ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ক গভীর করার প্রাক্কালে পররাষ্ট্রসচিব মোমেনের (মাসুদ বিন মোমেন) সঙ্গে বৈঠক হলো। আমরা অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনসহ মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রচারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছি। সেই সঙ্গে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য আমরা বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানিয়েছি।’

এদিকে আজ বৃহস্পতিবার সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির স্বার্থে নিরাপত্তা পূর্বশর্ত—বিষয়টিতে জোর দিয়ে বাংলাদেশ গত ২৪ এপ্রিল ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের রূপরেখা ঘোষণা করেছে।

ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড বলছেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দলিলের অনেক বিষয়ে দুই দেশের অবস্থান অভিন্ন। ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে অনুষ্ঠিত দুই দেশের অংশীদারত্ব সংলাপে মাসুদ বিন মোমেন বাংলাদেশের সদ্য প্রকাশিত ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের রূপরেখা তাঁর কাছে তুলে ধরেন।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের রূপরেখার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কৌশলের মিলের বিষয়ে এমন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় অনুযায়ী বুধবার দুই দেশের নবম অংশীদারত্ব সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় মাসুদ বিন মোমেন বাংলাদেশের এবং ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব দেন।

বাংলাদেশের ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের রূপরেখা ঘোষণার পর ঢাকার পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে প্রথমবারের মতো এ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কথা হলো এবং বাংলাদেশের রূপরেখা সম্পর্কে ‘অনেক বিষয়ে অভিন্ন অবস্থান’, ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ডের এমন মন্তব্যের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের প্রতিফলন ঘটেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন বাংলাদেশের সম্প্রতি প্রকাশিত ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের রূপরেখার কথা ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ডের কাছে তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশের স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ সুগম করতে নির্বাচন কমিশনের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কেও অবহিত করেন। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর জোরালো অঙ্গীকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের যুক্ত করার জন্য মানসিকতার প্রশংসা করেছে।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতির কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব র‌্যাবের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত খুনি রাশেদ চৌধুরীকে হস্তান্তরের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।

ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড বাংলাদেশ সরকার এ বছরের মধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পর্যালোচনা করার যে ঘোষণা দিয়েছেন, সে বিষয় উল্লেখ করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে শ্রম খাতের সংস্কারের পাশাপাশি অব্যাহত অগ্রগতি যে প্রয়োজন, সে বিষয়ে জোর দিয়েছেন। আলোচনায় দুই দেশ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে ক্রমবর্ধমান ও গতিশীল ব্যবসায়িক সহযোগিতায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তাঁরা বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ প্রযুক্তিগত প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা বাড়াতে অন্তর্জাল নিরাপত্তা ও উপাত্ত সুরক্ষায় আরও কাজ চালিয়ে যেতে রাজি হয়েছেন।

ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অসাধারণ উদারতার প্রশংসা করেন। তিনি এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত মানবিক সহায়তার আশ্বাস দেন। মাসুদ বিন মোমেন তাঁকে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তায় পরিচালিত তহবিলের সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং সীমিতসংখ্যক রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য পাইলট প্রকল্প আবার চালুর বিষয়ে অবহিত করেন। দুই পক্ষই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কিছু রোহিঙ্গার পুনর্বাসন কার্যক্রমকে আরও ত্বরান্বিত করতে রাজি হয়েছে।

উভয় পক্ষ জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত বিষয়ে তাদের মতবিনিময় করেছে এবং এ বিষয়ে সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করেছে। এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার এক বিবৃতিতে বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার নবম অংশীদারত্ব সংলাপে উভয় পক্ষই রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে ক্রমবর্ধমান অংশীদারত্বের প্রতি তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

নুল্যান্ড রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য, আতিথেয়তার জন্য বাংলাদেশকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যকার শক্তিশালী সম্পর্কের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। তিনি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ওপর গুরুত্ব এবং বাংলাদেশে মানবাধিকার, শ্রম অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রচারে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। সেই সঙ্গে দুই দেশের জনগণের সুদৃঢ় বন্ধনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বাংলাদেশের অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আরও উজ্জ্বল অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য এর ইতিবাচক পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

Loading