দক্ষিণাঞ্চলে তুলা উৎপাদনে আশার আলো

প্রকাশিত: ৪:৪৭ অপরাহ্ণ , ডিসেম্বর ২৯, ২০২২

খাদ্যপণ্য উৎপাদনে সাড়ে আট লাখ টন উদ্বৃত্ত দক্ষিণাঞ্চলে পাট আবাদ সম্প্রসারণে সফলতার পর এখন তুলা নিয়েও আশার আলো দেখিয়েছেন কৃষি বিজ্ঞানীরা। ইতিমধ্যে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলা আবাদ নিয়ে গবেষণাও শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামীম ক্যাম্পাসের গবেষণা খামারে বিগত দুই মৌসুমের মতো এবারো রবি মৌসুমে তুলার আবাদ করছেন। এমন কী দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যেখানে ডিসেম্বরের শেষ ভাগে তুলা উৎপাদন শুরু হয়েছে। সেখানে দক্ষিণাঞ্চলে পুরো রবি মৌসুমে বিভিন্ন রবি ফসলের সঙ্গে তুলার আবাদও শুরু হচ্ছে।

ইতিমধ্যে ড. শামীম বিদেশী দুটি জাতের তুলার আবাদ করে সফলতা পেয়েছেন। চলতি রবি মৌসুমেও ওইসব জাতের পাশাপাশি দেশে উদ্ভাবিত হাইব্রিড জাতের তুলার আবাদ শুরু হচ্ছে। পাশাপাশি তুলা উন্নয়ন বোর্ড ইতিমধ্যে বরগুনার আমতলীতে একটি সম্প্রসারণ উপকেন্দ্র স্থাপন করে বরিশাল, ঝালকাঠী, পটুয়াখালী ও বরগুনার বিভিন্নস্থানে তুলা আবাদ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

সূত্রে আরও জানা গেছে, গত রবি মৌসুমে এ অঞ্চলে প্রায় ৩০টি প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করে সরেজমিনে কৃষকদের হাতে-কলমে তুলা আবাদ প্রযুক্তি ও বীজ হস্তান্তর করা হয়েছে। ফলে কৃষকদের মাঝে তুলা আবাদে আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এ অঞ্চলে তুলার বাজার তৈরি করা এখন জরুরি হয়ে পরেছে বলে মনে করছেন কৃষিবিদরা।

তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক কৃষিবীদ মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, দক্ষিণাঞ্চলে তুলা উৎপাদনের বিষয়টি নিয়ে গবেষণাসহ বোর্ডের পক্ষ থেকে সবধরণের প্রচেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে তুলা উন্নয়ন বোর্ড গবেষণার মাধ্যমে ১৮টি উচ্চ ফলনশীল তুলার জাত উদ্ভাবন করেছে।

দক্ষিণাঞ্চলে এরমধ্যে ‘সিবি-১২’ ও ‘সিবি-১৩’ সহ কয়েকটি জাতের আবাদ করে কৃষি বিজ্ঞানীরা ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন। কৃষি বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত হাইব্রিড জাতের তুলার উৎপাদন সাড়ে চার টন থেকে পাঁচ টন পর্যন্ত । যা ভারত ও পাকিস্তানের চেয়েও বেশি।

নির্বাহী পরিচালক আরও জানান, সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে দেশে প্রায় ৪৫ হাজার হেক্টর জমিতে প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার বেল তুলা উৎপাদন হয়েছে। যা দেশের চহিদার মাত্র ২ ভাগের কিছু বেশি তুলা উৎপাদন হলেও গত বছরের চেয়ে প্রায় ১৫ হাজার বেল বেশি।

সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের দাবি, দক্ষিণাঞ্চলে গবেষণা কার্যক্রম জোরদারের মাধ্যমে দেশে তুলার ঘাটতি থেকে কিছুটা হলেও উত্তরণ ঘটবে। চলতি মৌসুমে দেশে তুলার দর ৩ হাজার ৪শ’ থেকে ৩ হাজার ৮শ’ টাকায় বৃদ্ধির কারণে কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছেন। এমন কী বেসরকারি বেশ কিছু সুতা কলও এবার দেশের বাজার থেকে তুলা ক্রয় করতে শুরু করেছেন। যে কারণে ভাল দাম পাওয়া নিয়ে কৃষকরা যথেষ্ট আশাবাদী।

কৃষিখাতে দেশের প্রতি ইঞ্চি ভূমির ব্যবহারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুশাসনের প্রেক্ষিতে তুলা উন্নয়ন বোর্ড এবং কৃষি মন্ত্রণালয় তুলার আবাদী জমি ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। এ লক্ষ্যে উচ্চ ফলনশীল তুলার আবাদী জমি বৃদ্ধির পাশাপাশি রবি মৌসুমে দক্ষিণাঞ্চলের বিশাল অনাবাদী জমিকে কাজে লাগাতে চাচ্ছে তুলা উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

সূত্রের দাবি, এ কর্মসূচির আওতায় গত বছর বরিশাল সদর ও বাবুগঞ্জসহ ঝালকাঠীর গাবখান এলাকা এবং বরগুনার আমতলী এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে তুলার আবাদে সফলতাও এসেছে। গত বছর লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবার পর দক্ষিণাঞ্চলের মাঝারি লবনাক্ত জমিতে প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করে কৃষকদের হাতে-কলমে তুলা উৎপাদন কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছেন তুলা উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা।

তুলা উন্নয়ন বোর্ডের মাঠ পর্যায়ের কৃষিবীদরা জানিয়েছেন, তামাকের পরিবর্তে তুলার আবাদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে তারা কাজ করছেন। তামাক পরিবশে ও জনস্বস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হলেও তুলা শুধু পরিবেশ বান্ধবই নয়; তা বাতাস থেকে কার্বন শোষণ করে স্বাস্থ্য সম্মত পরিবেশ উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখছে।

এমন কী তুলা আবাদে কৃষকরা দেড় হাজার টাকা ব্যয় করে এখন সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা আয় করছেন। এ কারণেই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এবং উপকূলীয় এলাকার উঁচু জমিসহ নদী তীরবর্তী কম থেকে মাঝারি লবণাক্ত জমিতে তুলার আবাদ সম্প্রসারণ কর্মসূচিতে সফলতা আসতে শুরু করেছে। এতে করে আগামী ১০ বছরে দেশে তুলার আবাদী জমির পরিমাণ আরো অন্তত দশ হাজার হেক্টর বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। – জনকন্ঠ