তিন কারণে চিন্তিত আবহাওয়াবিদরা

প্রকাশিত: ৬:৫৯ পূর্বাহ্ণ , অক্টোবর ২৫, ২০২২

উপকূলে আঘাত হানতে শুরু করেছে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের অগ্রভাগ। সোমবার (২৪ অক্টোবর) মধ্যরাত কিংবা ভোরে দেশের ১৩ জেলায় তাণ্ডব চালাতে পারে ঘূর্ণিঝড়টি। এতে ৮ ফুট পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বন্দরগুলোতে রয়েছে ৬ ও ৭ নম্বর বিপদ সংকেত। এরইমধ্যে গাছচাপায় কুমিল্লা, ভোলা, বরগুনা, নড়াইলে সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং উপকূলের দিকে যতই এগিয়ে আসছে ততই বাড়ছে বাতাসের গতিবেগ। ঘূর্ণিঝড়টি বর্তমানে সাগরে অবস্থান করায় বাতাসের গতিবেগ এখন ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৮৮ কিলোমিটার।

আবহাওয়া অফিস বলছে, মাঝারি ধরনের ঘর্ণিঝড় থেকে এটি পূর্ণ শক্তি সঞ্চয় করলে বাতাসের গতিবেগ ১০৫ থেকে ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।

এ ঘূর্ণিঝড়ের তিনটি কারণ ভাবাচ্ছে আবহাওয়াবিদদের।

প্রথমত: ঘূর্ণিঝড়ের অগ্রবর্তী অংশের আচরণ খুবই প্রবল। দ্বিতীয়টি হচ্ছে: আঘাত হানার সময়। যেসময় আঘাত হানবে তখন থাকবে অমাবস্যা। তখন জলভাগ এমনিতেই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উত্তাল থাকে। আর তৃতীয় কারণটি হলো: বায়ুচাপ পার্থক্যের আধিক্য। এসব কারণে সিত্রাংকে খুব ঝুকিঁপূর্ণ বলা হচ্ছে।
এদিকে পটুয়াখালীর খেপুপাড়া, ভোলা, বরগুনা ও বরিশাল উপকূলে সিত্রাংয়ের অগ্রভাগ আঘাত হেনেছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের উপপরিচালক মো. ছানাউল হক মণ্ডল।

ছানাউল হক মণ্ডল বলেন, সোমবার সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে ঘূর্ণিঝড়ের অগ্রভাগের আঘাত শুরু হয়। এর মূল কেন্দ্র মধ্যরাত থেকে আঘাত করা শুরু করে ভোরের মধ্যে অতিক্রম করা শেষ করবে। বাংলাদেশের পুরো স্থলভাগ অতিক্রম করতে এর ৫-৬ ঘণ্টা লাগবে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত সারা দেশে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে।

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের কারণে মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) চট্টগ্রাম, বরিশাল এবং খুলনা বিভাগের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার (২৪ অক্টোবর) রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়ের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

Loading