অভিজিৎ রায়ের হত্যাকারী গ্রেপ্তার ভারতে?

প্রকাশিত: ১২:৫৬ অপরাহ্ণ , সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২২

কলকাতা পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স উত্তরপ্রদেশ থেকে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিজিৎ রায়ের খুনে সে যুক্ত বলে দাবি।বৃহস্পতিবার উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর থেকে হাসনাত শেখ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অভিযুক্ত এই ব্যক্তি আল কায়দার ভারতীয় চ্যাপ্টারের সক্রিয় সদস্য বলে দাবি কলকাতা পুলিশের। মালদার বাসিন্দা হাসনাত বেশ কিছু দিন ধরে সাহারানপুরে গা ঢাকা দিয়ে ছিল বলে পুলিশের দাবি। কলকাতা পুলিশ ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছে, বাংলাদেশের ব্লগার অভিজিৎ রায় খুনের ঘটনাতেও অন্যতম অভিযুক্ত এই হাসনাত। এ বিষয়ে বাংলাদেশের পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

তবে ব্লগার অভিজিৎ রায়ের হত্যার ঘটনায় হাসনাত জড়িত ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান অভিজিৎ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। অভিযুক্ত ছয় আসামির মধ্যে সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যূত মেজর জিয়াউল হক ওরফে জিয়া, মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন ওরফে শাহরিয়ার, আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব ওরফে সাজিদ ওরফে শাহাব, আরাফাত রহমান ওরফে সিয়াম ওরফে সাজ্জাদ ওরফে শামস, আকরাম হোসেন ওরফে হাসিব ওরফে আবির ওরফে আদনান ওরফে আবদুল্লাহকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। আর অপর আসামি উগ্রপন্থি ব্লগার শফিউর রহমান ফারাবীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত না থাকলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিজিৎ রায়কে ‘হত্যার প্ররোচনা দিয়েছিলেন’ বলে তাকে এ মামলায় আসামি করা হয়েছিল।
রায় ঘোষণার দিন আদালতে উপস্থিত ছিল না জিয়া ও আকরাম। তাদের পলাতক ঘোষণা করেই মামলার রায় ঘোষণা হয়। প্রশ্ন হলো, অভিজিৎ রায় হত্যা মামলায় যাদের নাম আদালত ঘোষণা করেছে তার মধ্যে কলকাতা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া হাসনাত শেখের নাম নেই। তাহলে কি হাসনাত শেখ আলাদা ব্যক্তি? না কি আকরাম অথবা জিয়ার আসল নাম হাসনাত। কলকাতা পুলিশ এবিষয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে চায়নি।

অভিজিৎ রায় হত্যা মামলার তদন্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। সিটিটিসি প্রধান ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ”অভিজিৎ রায় হত্যা মামলা তদন্তে আমরা ১১ জনের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছিলাম। এর মধ্যে ৬ জনের নাম পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে এবং পাঁচজনের শুধু সাংগঠনিক নাম জানতে পারায় চার্জশিটে তাদের নাম উল্লেখ করা হয়নি। যে ৬ জনের বিরুদ্ধে আমরা চার্জশিট দিয়েছিলাম তাদের সবাইকে আদালত শাস্তি দিয়েছেন। সংবাদ মাধ্যমে আমরা দেখেছি ভারতে অভিজিৎ রায় হত্যাকারী সন্দেহে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার ব্যাপারে আমাদের সঙ্গে এখনো কেউ যোগাযোগ করেনি। আর আমরা যে ছয়জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দিয়েছি তাদের মধ্যে হাসনাত নামে কারো নাম ছিল না। তবে যে পাঁচজনকে আমরা শনাক্ত করতে পারিনি তাদের কেউ হলেও হতে পারে। তবে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির পূর্ণাঙ্গ নাম ঠিকানা পরিচয় না জানা পর্যন্ত এ ব্যাপারে আসলে নিশ্চিত হওয়া কঠিন। আমরা ভারতীয় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করব।”অন্যদিকে, লকাতা পুলিশ জানিয়েছে, আল কায়দার ভারতীয় চ্যাপ্টারের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে দীর্ঘদিন ধরেই হাসনাতের উপর তারা নজর রাখছিল। মালদায় তার বাড়িতে গিয়ে জানা যায় সে উত্তরপ্রদেশে আছে। এরপর উত্তরপ্রদেশেও বেশ কিছুদিন হাসনাতকে অনুসরণ করা হয়। নিশ্চিত হওয়ার পরেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়েছে। কলকাতা পুলিশ নিশ্চিত, ব্লগার অভিজিৎ রায়ের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে হাসনাত যুক্ত ছিল।

২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যাকে নিয়ে বইমেলা থেকে ফেরার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সামনে জঙ্গি কায়দায় হামলায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী অভিজিৎ রায়। চাপাতির আঘাতে আঙুল হারান তার স্ত্রী। বাংলাদেশ-সহ পশ্চিমা বিশ্বেও ওই ঘটনা নিয়ে আলোড়ন তৈরি হয়। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ‘রিওয়ার্ড ফর জাস্টিস’ অভিজিৎ রায়ের খুনিদের সম্পর্কে তথ্য পেতে এই পাঁচ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্রের ‘রিওয়ার্ড ফর জাস্টিস’ প্রোগ্রামের আওতায় অভিজিৎ রায়ের খুনিদের সম্পর্কে তথ্য পেতে এই পুরস্কার ঘোষণা করে৷ এই প্রথম বাংলাদেশে সংগঠিত কোনো অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্তদের তথ্য পেতে এরকম উদ্যোগ নেয় অ্যামেরিকা। – ডয়েচে ভেলে

Loading