করোনার নমুনা পরীক্ষায় ফি নির্ধারণ সরকারকে ভুল পথের বার্তা দিচ্ছে

প্রকাশিত: ১০:৪২ অপরাহ্ণ , জুলাই ২, ২০২০

সরকার করোনাভাইরাস পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করে পরিপত্র জারি করেছে। এতদিন স্বাভাবিকভাবেই এই পরীক্ষার সুযোগ বিনামূল্যে থাকলেও এবার এখানে ফি নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। করোনার সংক্রমণ দিন দিন বাড়তে থাকার প্রেক্ষিতে এবং করোনাকালে দেশের অধিকাংশ মানুষ আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে যাওয়ার সময়ে সরকার এই ফি নির্ধারণ করল। এই ফি নির্ধারণ একদিকে যেমন বাস্তবতাবিবর্জিত অন্যদিকে দেশের করোনা সংক্রমণের বিস্তারের জন্যে সহায়ক হয়ে ওঠতে পারে।

করোনার নমুনা পরিহ্মায় ফি নির্ধারণ সরকারকে ভুল পথের বার্তা দিচ্ছে। ফিরে আসার আহ্বান। কোভিড-১৯ বিশ্বকে এক কাতারে দ্বাড় করিয়ে দিয়েছে। নতুন করে ভাবনার বিষয় গুলো বন্ধ রাখতে হচ্ছে। করোনার নমুনা নিয়ে আমাদের সময় কাটাতে হচ্ছে। কি হবে নমুনা দিয়ে, পরিহ্মার ফল আসতে ২০/৩০ দিনও লাগে। করোনা ভাইরাস থেকে রোগী ১৪ দিনে ভাইরাস মুক্ত হওয়ার একটা বার্তা বহন করে, হয় মৃত্যু না হয় সুস্থতার।

করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে বিশ্ব, দিকনির্দেশনাহীন এই পৃথিবী। ইতিমধ্যে নমুনা সংগ্রহ নিয়ে অনেক প্রতারক চক্র গড়ে উঠেছে, সরকারের কিছু আমলা জড়িয়ে পড়েছে প্রতারক চক্রের সাথে। দেশ জাতির আপদকালীন সময়ও মানুষের ব্যবসায়ী ও অর্থলোভের লালশা থেকে মুক্ত হতে পারে নাই। নমুনা সংগ্রহের ধীরগতি, নিরুৎসাহিত, অপ্রয়োজনিয় ইতিমধ্যে অনেকেই আমার মত মনে করা শুরু করে দিয়েছে।

২০ কোটি জনসংখ্যার এ দেশে প্রতিদিন ২০ হাজার নমুনা সংগ্রহ করে কি সমাধান আসবে, তবে মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির লহ্মে ভুমিকা রাখছে, সরকার একটা কিছু করছে জনগণ মনে করতে পারে। লকডাউন, কোয়ারেন্টাইন, আইসোলেশন সব মিলিয়ে জনজীবন খাদ্য ও অর্থ কষ্টে অতিষ্ঠ। জনগণকে নমুনা সংগ্রহে উৎসাহিত করার জন্য সরকার খাদ্য সহায়তার একটা পেকেট, কিছু ঔষধ, কিছু ব্যবস্থাপত্র বিনা মুল্যে দেওয়ার পরিবর্তে নমুনার জন্য ফি নির্ধারন সরকারকে ভুল পথের বার্তা দিচ্ছে। কারা দিচ্ছে, কি কারনে, এই সহজ কথাটা না বুজার কথা না। ইতিমধ্যে জেকেজি হেলথকেয়ার নমুনা সংগ্রহের প্রতারক চক্র, প্রশাসন আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, আরো অনেক চক্র ধরার অপেক্ষায়। সে সময় নমুনার জন্য ফি নির্ধারণ প্রমান করে প্রতারক চক্র সরকারের কাছাকাছিই আছে নিজেদের আখের গুছাতে, ভুলপথের বার্তা নিয়ে, সরকারকে ভুল পথে নিতে পারলে চক্র গড়ে উঠা সহজ, তার উপর ফি নির্ধারণ তাদের জন্য সোনার সোহাগা।

জনস্বার্থে সরকারকে ফিরে আসতে হবে নমুনার ফি নির্ধারণ থেকে, ইতিমধ্যে অনেক সুখবর আসতে শুরু করেছে, করোনার টিকা বাংলাদেশ সহ অনেক দেশ আবিস্কার করেছে। উপসর্গ ছাড়া নমুনা পরিহ্মার ফল আমার কাছে অবান্তর মনে হয়।পরিহ্মার ফল একদিনে দিতে পারলে, প্রয়োজনীয় সংখ্যক পরিহ্মার আওতায় আনতে পারলেই সঠিক হবে। অনেক চেয়ারম্যান মেম্বর কাউন্সিলরদের অসহযোগিতা খাদ্য সহায়তা বাধা বিপত্তি হচ্ছে, সারাদিন লাইনে দাড়িয়ে যারা নমুনা দিচ্ছেন, তাদের জন্য এক পেকেট খাদ্য সামনে রাখতে পারলে সরকারের মানবিকতা প্রকাশ হতো। যার প্রয়োজন সে গ্রহন করবে, না হয় নিবে না।

লেখকঃ বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতির মহাসচিব ও রাজধানী মোহাম্মদপুর থানার ৩৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামলী লীগের সভাপতি জনাব রবিউল আলম।