অর্থনৈতিক কূটনীতিকে গুরুত্ব দেবে বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১:৩৭ অপরাহ্ণ , জুলাই ৭, ২০২২

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ শুধু রাজনীতি না, অর্থনৈতিক কূটনীতিকে গুরুত্ব দেবে।বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নবনির্মিত ৮তলা অফিস ভবন উদ্বোধন এবং ‘বঙ্গবন্ধু কূটনৈতিক উৎকর্ষ পদক’ প্রদান অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে একথা বলেন সরকারপ্রধান।

এসময় তিনি একটি দেশকে শাস্তি দিতে গিয়ে বিশ্বের মানুষকে শাস্তি দেওয়া থেকে সরে আসতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমেরিকা যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ফলে আমাদের পণ্য প্রাপ্তিতে বা যেগুলো আমরা আমদানি করি, সেখানে বিরাট বাধা আসছে। আমেরিকার এটা বিবেচনা করা উচিত, তারা যে নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে, তাতে তাদের দেশের লোকেরাও যে কষ্ট পাচ্ছে, সেদিকেও তাদের দৃষ্টি দেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। যাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছেন, তাদের আপনারা ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাচ্ছেন। কিন্তু, তারা আসলে কতটুকু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তার চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সব দেশের সাধারণ মানুষ।”

শেখ হাসিনা বলেন, “যুদ্ধ এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কারণে সারা বিশ্বের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হচ্ছে।” করোনা ও যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী যে অর্থনৈতিক দুরবস্থা চলছে, তা মোকাবিলায় সরকার দেশের নিজস্ব উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে বলেও জানান শেখ হাসিনা। তবে, দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর জন্য সার, জ্বালানিসহ বিভিন্ন পণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতি উন্নত করার জন্য পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সাড়ে ১৬ কোটি মানুষের ওপর রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বোঝা টানা কষ্টকর।” এটি অনুধাবন করে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে উদ্যোগী হতে উন্নত দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে ‘বঙ্গবন্ধু কূটনৈতিক উৎকর্ষ পদক’ প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। পোল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সুলতানা লায়লা হোসেন ও ঢাকায় জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকিকে এ পুরস্কার প্রদান করেন তিনি।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে গত বছর এ পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়।

রাশিয়া-ইউক্রেন সংকটের কারণে কয়েক হাজার বাংলাদেশি সাবেক সোভিয়েত রাষ্ট্র ইউক্রেন ছেড়ে পোল্যান্ড ও অন্যান্য ইউরোপীয় দেশে আশ্রয় নেওয়ার প্রেক্ষাপটে, সুলতানা লায়লা হোসেন অসাধারণ অবদান রাখেন। একইভাবে ইতো নাওকি’ও ঢাকা-টোকিও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ‘বিশ্বব্যাপী বঙ্গবন্ধু কর্নার’ নামের একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন এবং বিদেশের সব বাংলাদেশ মিশনের জন্য অভিন্ন ওয়েবসাইট আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। এ অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনসহ দুই রাষ্ট্রদূত উপস্থিত ছিলেন।