শিক্ষক হেনস্তার ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে

প্রকাশিত: ৫:৩৭ অপরাহ্ণ , জুন ২৯, ২০২২

নড়াইলে এক শিক্ষককে পুলিশের সামনে জুতার মালা পরিয়ে অপদস্ত করার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এ সময় তিনি বলেন, জুতার মালা পরানোর ঘটনায় কার কতটুকু গাফিলতি ছিল- তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বুধবার (২৯ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নড়াইলের ঘটনায় আমি দুঃখিত। ওই দিন উত্তেজিত জনতা এতটা একত্রিত হয়েছিল যে, পুলিশ কিছু করার আগেই এটা ঘটে গিয়েছে। ডিসি, এসপি ওই দিন কী ব্যবস্থা নিয়েছিল। দায়িত্বে কারও গাফিলতি ছিল কিনা খতিয়ে দেখছি। আসল ঘটনা জেনে জানাবো।’

ভারতের বিজেপি নেত্রী নূপুর শর্মার ছবি দিয়ে এক কলেজ ছাত্রের ফেইসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে নড়াইলের ঘটনার সূত্রপাত। গুজব ছড়িয়ে দেওয়া হয় যে, ফেসবুকে পোস্ট করা শিক্ষার্থীর পক্ষ নিয়েছেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। এরপর পুলিশি পাহারায় বিকাল ৪টার দিকে স্বপন কুমার বিশ্বাসকে ক্যাম্পাসের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় তাকে দাঁড় করিয়ে গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেয় একদল মানুষ। ওই শিক্ষক হাত উঁচিয়ে ক্ষমা চাইতে থাকেন। পরে তাকে তুলে নেওয়া হয় পুলিশের গাড়িতে।

ঘটনাটি খুবই অল্প সময়ের মধ্যে ঘটেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘মনে হয়েছে, উত্তেজিত জনতা এত বেশি একত্র হয়ে গিয়েছিল, সেখানে ডিসি-এসপির কিছু করার আগেই ঘটনা ঘটে গিয়েছিল। প্রিন্সিপালকে জুতার মালা পরানোর ঘটনা আসলে এটা একটা দুঃখজনক ঘটনা।’

সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের বিষয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রিন্সিপালকে জুতার মালা পরানোর পর আমরা হঠাৎ করেই দেখছি; আমরা ফেইসবুক নামক যন্ত্রে খুব বেশি নিজের কথা, অন্যের কথা প্রচার করে থাকি কিংবা লাইক দিয়ে থাকি। সেখানে আমরা বলব… না জেনে না শুনে- নিজের কথা না বুঝে ফেইসবুকে কোনো উক্তি বা কমেন্টস না করার জন্য আমি পরামর্শ দেব।’

নড়াইলের ঘটনায় পুলিশের কোনো অবহেলা ছিল কি না- এ প্রশ্নের উত্তরে আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘আমি তো বলেছি, কেউ কোনো দায়িত্ব অবহেলা করলে- পুলিশ করুক কিংবা আমাদের জেলা প্রশাসক করুক কিংবা যেই করুক, কিংবা কোনো জনপ্রতিনিধি করে থাকুক, সেখানে সবাই ছিল, আমি শুনতে পেয়েছি। সেখানে কার কতখানি গাফিলতি রয়েছে, সেই অনুযায়ী আমরা খতিয়ে দেখছি।’