চীনের কাছে সাহায্য চায় রাশিয়া

প্রকাশিত: ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ , মার্চ ১৪, ২০২২

পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার সোনা ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের প্রায় অর্ধেক জব্দ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় অর্থনীতি বাঁচাতে সাহায্যের জন্য চীনের উপর নির্ভর করার কথা জানিয়েছে রাশিয়া।

রাশিয়ার অর্থমন্ত্রী অ্যান্টন সিলুয়ানোভ বলেন, ‘‘আমাদের সোনা ও বৈদেশিক মূদ্রার রিজার্ভের কিছু অংশ চীনের মূদ্রা ইউয়ানের আকারে রাখা আছে। চীনের সঙ্গে আমাদের বহুমুখী বাণিজ্য সীমিত করতে এখন পশ্চিমা বিশ্ব দেশটির উপর কী ধরনের চাপ প্রয়োগ করে তা দেখার অপেক্ষায় আছি।”

“নিশ্চিতভাবেই সেখানে থাকা রিজার্ভ আমাদের হাতে পৌঁছানো সীমিত করতে চাপ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু আমার মনে হয় চীনের সঙ্গে আমাদের অংশীদারিত্বের যে সম্পর্ক আছে তাতে তারা আমাদের সঙ্গে এখনও সহযোগিতার সম্পর্ক রাখবে, যেটা আমরা অর্জন করেছি।”

“তারা শুধু সম্পর্ক বজায়ই রাখবে না বরং এই পরিস্থিতিতে যখন পশ্চিমা বাজার আমাদের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে তখন চীন আমাদের সঙ্গে সহযোগিতার সম্পর্ক বাড়াবে,”বলেন অ্যান্টন সিলুয়ানোভ।

রোববার টেলিভিশনে একটি সাক্ষাৎকারে তিনি চীনের কাছে ওই অনুরোধ করেন বলে জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর মস্কোর পক্ষ থেকে এই প্রথম স্পষ্ট ভাষায় কোনও বিবৃতিতে অর্থনীতি বাঁচাতে চীনের কাছে সাহায্য চাওয়া হল।

ইউক্রেইনে আগ্রাসনের জেরে পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার উপর স্মরণকালের ভয়াবহতম অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। অন্যদের কাছ থেকে সহযোগিতা না পেয়ে ওই নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিতে যথেষ্ট।

একারণে রাশিয়া পশ্চিম বিশ্বের বাইরে মিত্র দেশগুলোর কাছে সাহায্য কামনা করছে। একদিন আগেই রাশিয়া তাদের তেল-গ্যাস ক্ষেত্রে বিনিয়োগ আরো বাড়াতে ভারত সরকারকে অনুরোধ করেছে।

গত ৪ ফেব্রুয়ারি বেইজিং সফরে গিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। দুই নেতা ওই বৈঠকের পর তাদের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরো দৃঢ় করার ঘোষণা দেন। তারা বলেন, তাদের লক্ষ্য বিশ্ব জুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব প্রতিহত করা। নিজেদের মধ্যে বন্ধুত্ব সীমাহীন বলেও বর্ণনা করেন দুই নেতা।

রাশিয়ার রিজার্ভের ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার অর্থনীতির বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থাগুলোর মধ্যে পুতিন সরকারের জন্য সবচেয়ে যন্ত্রণাদায়ক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সিলুয়ানোভ জানা, রাশিয়ার সোনা ও বিদেশি মুদ্রা মিলিয়ে ৬৪ হাজার কোটি মার্কিন ডলার বৈদেশিক রিজার্ভের মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার বৈদেশিক রিজার্ভ ফ্রিজ হয়ে গেছে।

রাশিয়া তার রাষ্ট্রীয় ঋণের বাধ্যবাধকতা পূরণ করে যাবে এবং জব্দ হওয়া রিজার্ভ পুনরায় স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ঋণদাতাদেরকে রুবল প্রদান করে যাবে বলেও জানান সিলুয়ানোভ।

Loading