রাজশাহীতে করোনা শনাক্তের হার ৫৮’র উপরে

প্রকাশিত: ৪:০৪ অপরাহ্ণ , জানুয়ারি ২৬, ২০২২

রাজশাহীতে টানা তিনদিন ধরে করোনাভাইরাস শনাক্তের হার ৫০ এর উপরে। কিন্তু মঙ্গলবার নমুনা পরীক্ষায় রাজশাহী জেলায় শনাক্তের হার ৫৮ দশমিক ৬০ শতাংশ। শনাক্ত বাড়লেও কমেছে মৃত্যু, গত ২৪ ঘণ্টায় রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মারা গেছেন একজন।

বুধবার সকালে এ তথ্য জানান রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী।

তিনি জানান, মঙ্গলবার রাজশাহীর দুইটি পিসিআর ল্যাবে ৫৮৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৩৪৪ নমুনায় মিলেছে করোনাভাইরাস। পরীক্ষার হিসেবে শনাক্তের হার ৫৮ দশমিক ৬০ শতাংশ।

শামীম ইয়াজদানী জানান, মঙ্গলবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ল্যাবে ১৭৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে করোনা শনাক্ত হয় ১১৭ জনের শরীরে। একই সময়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ল্যাবে ৪০৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করে করোনা ধরা পড়ে ২২৭ জনের শরীরে।

এর আগের দিন সোমবার রাজশাহীর দুই ল্যাবে ৫৪৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৩০৪ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ছিল ৫৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ। তারও আগে রোববার রাজশাহী জেলায় শনাক্তের হার ছিল ৬০ দশমিক ৪৯।

শামীম ইয়াজদানী জানান, রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে একজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। করোনা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালের ২৯-৩০ ওয়ার্ডে তিনি মারা যান। তার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে, বয়স ৫০ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ইউনিটে ভর্তি হয়েছেন ৮ জন। একই দিনে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৮ জন রোগী। হাসপাতালের ১০৪ শয্যার করোনা ইউনিটে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত রোগী ভর্তি আছে ৪৯ জন। এর মধ্যে করোনা পজিটিভ ৩৪ জন এবং উপসর্গ নিয়ে ভর্তি ১৩ জন।

এদিকে, করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে রাজশাহী বিভাগের আট জেলায়। প্রতিদিনই করোনার সংক্রমণ বাড়ছে। মঙ্গলবার বিভাগের আট জেলায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৮৮ জনের। বুধবার দুপুরে রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (রোগনিয়ন্ত্রণ) নাজমা আক্তার স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

নাজমা আক্তার জানান, নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ২ হাজার ৪৯৪ জনের। এর মধ্যে ১ হাজার ৮৮ জনের শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে। নমুনা পরীক্ষার হিসেবে সংক্রমণের হার ৪৩ দশমিক ৬২ শতাংশ।

সবচেয়ে বেশি করোনা শনাক্ত হয়েছে রাজশাহী ও পাবনা জেলায়। রাজশাহীতে ৪৩৬ জন, পাবনায় ২০৭ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪৪ জন, নওগায় ৬১ জন, নাটোরে ৪৩ জন, জয়পুরহাটে ৩৪ জন, বগুড়ায় ১৭৭ জন ও সিরাজগঞ্জে ৮৬ জন।