ফরহাদের সহায়তায় শিমুকে হত্যা করেন নোবেল

প্রকাশিত: ২:০৩ অপরাহ্ণ , জানুয়ারি ২১, ২০২২

অভিনেত্রী রাইমা ইসলাম শিমু হত্যায় গ্রেপ্তার তার স্বামী সাখাওয়াত আলীম নোবেল শুরুতে বলেছিলেন, তিনি একাই শ্বাসরোধে খুন করেন শীমুকে। তবে শেষ পর্যন্ত ভিন্ন তথ্য দিলেন তিনি। জানান, একা নন; হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেন তার বন্ধু এস এম ওয়াই আব্দুল্লাহ ফরহাদও। দুজন মিলে হত্যা মিশন শেষ করে লাশ গুমের চেষ্টা করেন তারা।

বৃহস্পতিবার আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে নোবেল ও ফরহাদ নতুন অনেক তথ্য দেন। যার ফলে এই মামলার তদন্তের মোড়ও ঘুরে গিয়েছে বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে।

কেন, কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে, জবানবন্দিতে সে তথ্যও উঠে এসেছে। স্ত্রী মোবাইল ফোনে কার সঙ্গে কথা বলেন, কোথায় যান, এ নিয়ে প্রতিনিয়ত সন্দেহ করতেন নোবেল।জানা যায়, গত রোববার সকালে হঠাৎ স্ত্রীর ফোন দেখতে চান নোবেল। কে কল করল, তা দেখতে চান তিনি। এতে বাধা দেন শিমু। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে তুমুল ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।

ওই দিন সকাল ৮টার দিকে নোবেলের বাসায় যান ফরহাদ। আগে থেকেই কথা ছিল, টাকা ধার নিতে ওই সময় বন্ধুর বাসায় যাবেন তিনি। ফরহাদ যাওয়ার পর ফ্ল্যাটের দরজাও খুলে দেন শিমু। এরপর তারা ডাইনিং টেবিলে বসে চা খান। কিছু সময় পর শিমুর ফোন দেখা নিয়ে স্বামী-স্ত্রী বাগবিতণ্ডায় জড়ালে ফরহাদ তা থামানোর চেষ্টা করেন।

উত্তেজিত হয়ে নোবেল স্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, ‘‘আজ তোকে শেষ করে দেব।’’ এরপর শিমুকে হত্যা করতে ফরহাদের সহায়তা চান নোবেল। বন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে দুজনে মিলে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। তদন্ত-সংশ্নিষ্টরা বলছেন, সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে শিমুকে হত্যা করা হয়।

রাজধানীর গ্রিন রোডের বাসায় শিমুকে হত্যার পর বন্ধু ফরহাদকে নিয়ে কেরানীগঞ্জে মরদেহ ফেলে আসেন নোবেল। এর পর কলাবাগান থানায় নিখোঁজের ডায়েরি করেন। মঙ্গলবার নোবেল ও ফরহাদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের মাধ্যমে তিন দিনের রিমান্ডে পায় পুলিশ। রিমান্ডের এক দিন পার হওয়ার পরই তারা আদালতে স্বীকারোক্তি দিলেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কেরানীগঞ্জ মডেল থানার এসআই চুন্নু মিয়া বলেন, শিমুর লাশ প্রথমে মিরপুরে গুম করার পরিকল্পনা ছিল। কয়েক ঘণ্টা ঘুরে গুম করার পরিবেশ না পেয়ে কেরানীগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয়।