ইসলাম গ্রহণ ছাড়া আমার সামনে আর কোন পথ খোলা ছিলনা

প্রকাশিত: ১০:১১ অপরাহ্ণ , জুন ১৬, ২০২০

মোঃ রিদওয়ার আবিদ চৌধুরী জয়,  শিক্ষক ও কলামিস্ট তিনি ফেসবুকে লিখছেন,  ইসলাম গ্রহণ ছাড়া আমার সামনে আর কোন পথ খোলা ছিলনা। তাই আমি ২০০১ইং সালের ২৭রমজান ইসলাম গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছি।
আমার অন্তরজুড়ে পরম করুনাময় সৃষ্টিকর্তার ধ্যান-জ্ঞান, তপ-জপ থাকলেও কখনো ইসলাম নিয়ে ভাবার গরজ (প্রয়োজন) অনুভব করিনি। যখন কিছুই করার থাকত না তখনই সনাতন ধর্মের ধর্মগ্রন্থ বা বিভিন্ন লেখকের পুরনো বই বা প্রিয়জনদের সাথে ফুটবল-ক্রিকেট খেলে বা টিভির পর্দায় ফুটবল (শুধু বিশ্বকাপের সময়) এবং ক্রিকেট খেলা দেখে সময় কাটাতাম। কখনো কল্পনাও করিনি আমি মুসলমান হব বা অন্য কোন ধর্মের অনুসারী হব তাও চাইনি। আমার ভাবনার জগৎ ছিল আমার সৃষ্টিকর্তা কে? কে এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের মালিক।

যে কোনো পবিত্র ধর্মগ্রন্থ বা মণীষীর বাণী বা আমার প্রিয় কোন লেখকদের বই পড়ার তীব্র টান অনুভব করতাম। প্রাচীন কোনো গ্রন্থ আমার জীবন যাপনের পথ বাতলে দিবে, তা নিয়ে কখনোই ভাবিনী।
এমনকি কেউ যদি আমাকে হাজার কোটি টাকা দিয়েও অন্য কোনো ধর্ম গ্রহণ করতে বলত, আমি সরাসরি অস্বীকার করতাম।

আমার প্রিয় লেখকদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন বাবু শরৎ চন্দ্র চট্টপাধ্যায়, সমরেশ মজুমদার, কাজী নজরুল ইসলাম, রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর, ডেল কার্ণেগী,কালিদাস রায়,কায়কোবাদ,লালন শাহ, খেলারাম চক্রবর্তী, জসীম উদ্দীন, জাহানারা ইমাম, তারাপদ রায়, নীহার রঞ্জন গুপ্ত, জীবনানন্দ দাস, ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়, লীলা মজুমদার,বিভূতি ভূষণ বন্দোপাধ্যায়, মৃণাল সেন, শিবরাম চক্রবর্তী,কাজী ইমদাদুল হক,জহির রায়হান, দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার, আব্দুল গফ্ফার চৌধুরীসহ আরো অনেকেই।

আমি বিশ্বাস করতাম ধর্ম হলো নিজে ভাল থাকা
এবং ভাল রাখা যায় এমন জীবন যাপনের কল্যাণকর একটি পথ। কুসংস্কারের অন্ধ গলিতে মগজ ধোলাই হলে তা হয় ভীষণ ক্ষতিকর, অন্ধ বিশ্বাসের দৃষ্টিভঙ্গি এবং ধর্মীয় গোড়ামী জ্ঞানের পথ রুদ্ধ (বন্ধ) করে দেয়, ভীতি আর নির্ভরতা বাড়িয়ে দেয়। তাছাড়া বিশ্বের অনেক যুদ্ধ,নির্যাতন আর দুর্দশার জন্য অনেকাংশে দায়ী এই ধর্মীয় গোড়ামী।

আমার মনে হতো,ধর্মীয় গোড়ামী ছাড়াই তো ভালো আছি। আমি প্রমাণ করতে চাইতাম, যে কাজ করিলে মানুষের মঙ্গল হয় তাই ধর্ম। কোন ধর্মকে হেয় বা ছোট না করে আমি আমার মত সৃজনশীল কোন কর্ম করার কথা ভাবতাম।
অন্যান্য ধর্ম সম্পর্কে জানার জন্য আমি বিভিন্ন ধর্মের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পড়তাম। বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ পড়ার মাঝে আমার চোখে বেশী পড়ত তার ইতিবাচক দিকটাই। যা সত্য অনুসন্ধানে আলোর পথ দেখায়। কোন ধর্মগ্রন্থের বাংলা অনুবাদ পড়েই আমার জীবন চলার পথ পাল্টে যাবে তা কখনোই ভাবিনী।
কি নেই পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআনে?
পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় এবং অর্থনৈতিক থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় সবকিছু। যা প্রত্যক প্রাণী কুলকে পথ চলার দিকনির্দেশনা দেয় অর্থাৎ এই পবিত্র ধর্মগ্রন্থ প্রত্যেকের জীবন চলার একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান বা জীবন চলার সংবিধান। যা অন্য কোথাও নেই। যে ধর্ম নিয়ে কখনোই ভাবিনী আমি।
হ্যাঁ, সেই আমিই এখন মুসলমান।

আমি ঘোষণা দিয়েই ইসলাম গ্রহণ করেছি। আর সেটা না করে উপায়ও ছিল না। আমি অনুগত হয়েছি, ইসলাম গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছি।
মজার ব্যাপার হলো, যখন আমি কোন ধর্মাবলম্বীদের সাথে বিশেষ করে মুসলমান পরিচয়দানকারীদের সাথে কথা বলতাম, তখন প্রায় সময়েই লক্ষ করতাম, তারা বিশ্বাস করার আকাঙ্খা পোষণ করে। তাদের ধর্মগ্রন্থে যতই সাংঘর্ষিক বিষয় থাকুক, শুদ্ধ বা ভূল যাই থাকুক, তারা সবকিছু এড়িয়ে দ্বিধাহীনভাবে ধর্মকে আঁকড়ে ধরে। তারা জানে, তারা কী বিশ্বাস করে।

ব্যক্তিগতভাবে আমি কখনো আল্লাহকে খোঁজতে চাইনি, সেই ইচ্ছাও আমার কখনো হয়নি। একদিন আমার এক বন্ধু ইসলামে আল্লাহর অস্তিত্ব সম্পর্কে আমাকে বোঝাতে চেয়েছিল, আমি সেদিন খুব ক্ষুদ্ধ হয়েছিলাম।

মানুষ যখন কিছু একটা বিশ্বাস করতে চায়, তখন তার মনের মধ্যে এমন একটা বোধ সৃষ্টি হয়,যার ফলে সেটা গ্রহণ করার ব্যাপারে অনেক সময়েই তার মধ্যে একটা আগ্রহ তৈরি হয়। ধর্মের ব্যাপারেও আমার মধ্যে তেমন একটা ধারণার সৃষ্টি হয়েছিল। আমি ধর্মকে স্রেফ মানব কল্যাণের একটা পথ হিসেবে বিশ্বাস করতে চাইতাম।
এমন বিশ্বাস কিন্তু প্রমাণের ভিত্তিতে দৃঢ় এবং গাঢ় হয়। এমন নয় যে এধরনের বিশ্বাস স্রেফ অনুমানের ওপর গড়ে ওঠে।

আমি যখন কোনো ধর্মীয় বই পড়তাম, তখন সেগুলোর প্রতি আমার কোনো পক্ষপাতিত্ব থাকত না,তবে আমার উদ্দেশ্য থাকত তা থেকে শিক্ষণীয় কোন কিছু (ইতিবাচক বা নেতিবাচক ভুল-ত্রুটি) খোঁজে বের করা। এর ফলে আমি আমার উদ্দেশ্যের প্রতি অটল থাকতে পারতাম।
আমি পড়ার জন্য নিজের টাকায় স্থানীয় লাইব্রেরী থেকে একটি পবিত্র কোরআন শরীফ সংগ্রহ করে তার বাংলা অনুবাদ পড়েছিলাম। যা এখনো পরম যত্মে রেখে দিয়েছি।

তারপর থেকে আমার মনে ইসলাম সম্পর্কে জানার একটা কৌতুহল তৈরী হয়। বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিল,পীর, দরবার শরীফ ইত্যাদি ঘুরে ঘুরে ইসলাম বিষয়ে অবগত হতে থাকি।
কোন একদিন দেখলাম এইচ.এস.সি পরীক্ষা শেষে কিছু ছেলে আমার বসবাসরত এলাকার একটি মসজিদে তাবলীগ জামাতে এসেছে। প্রায়ই চোখে পড়ত মসজিদের ভিতর একজনকে ঘিরে অন্যরা কি যেন খুব মনেযোগ দিয়ে শুনছে। কৌতুহল বসত ঐদিন আমিও সেখানে গিয়ে উপস্থিত হলাম। তাদের সাথে একজন অধ্যাপকও ছিলেন। তিনি একটি বইয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে সেখান থেকে বিভিন্ন উপদেশ মূলক কথা বলছিলেন। আমি জানতে চাইলাম, এগুলো কি ধর্মীয় গ্রন্থের বাণী? তারা সবাই হ্যাঁ সূচক জবাব দিলেন। আমার জানার আগ্রহ দেখে তারা একটা বই আমাকে ফ্রি দিয়ে দিলেন। আমি তা নিয়ে রওনা দিলাম। এসব বইয়ের প্রতি আগে থেকেই আমার আগ্রহ ছিল। তার উপর বইটা একজন সম্মানিত ব্যক্তি (অধ্যাপক) আমাকে দিয়েছিলেন বলে ফ্রি হলেও বইটা নিয়েছিলাম। তবে আমার উদ্দেশ্য ছিল,বইটা পড়ে যদি সৃ্ষ্টিকর্তা সম্পর্কে আরো কিছু জানা যায়,তবে ধর্মটির সত্যতা এবং দূর্বলতা নির্ণয় করা যাবে।

আমি যে বইটা পেয়েছিলাম, সেটির পাতাগুলো মলিন হয়ে গিয়েছিল, অনেক পুরনো ছিল সেটি। কিন্তু আমি যতই পড়তে থাকলাম, ততই বশীভূত হতে লাগলাম। আমি আগে যেসব ধর্মীয় গ্রন্থ পড়েছি, তা থেকে এটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমি তার অর্থ সহজেই বুঝতে পারছিলাম। সবকিছুই ছিল স্পষ্ট।

আমার মনে পড়ল, আমার এক বন্ধু যখন আমাকে ইসলামে আল্লাহ কেমন তা বোঝাচ্ছিল, আমি রেগে গিয়েছিলাম, কিন্তু এবার পাতার পর পাতা উল্টে অনেক জায়গায় দেখতে পেলাম তাতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে,”অবশ্যই আল্লাহ ক্ষমাশীল,দয়াময়”।

মনে হলো,পবিত্র কোরআন সরাসরি আমার সাথে কথা বলছে, আমার জীবনের সাথে জড়িয়ে আছে। এটা একটা “পুরনো গ্রন্থ” কিন্তু পুরোপুরি প্রাসঙ্গিক। এর সত্যতা,কাব্যিকতা,কল্পনাশক্তি এবং যেভাবে বার্তা পৌঁছে দেয়, তা আমাকে অন্তর থেকে নাড়া দিল। এর অভূতপূর্ব সৌন্দর্য আমি আগে কখনো টের পাইনি।

দক্ষিণের সুশীতল দমকা হাওয়া হঠাৎ যেন আমার সবকিছু উল্টে দিল। মনে হলো আমি যেন কিছু একটার জন্য দৌড়াচ্ছি।
কোরআন আমার বোধশক্তিতে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করল। গ্রন্থটির নিদের্শনাবলীতে কে যেন আমাকে চিন্তা করতে, ভাবতে, বিশ্বাস এবং বিবেচনা করতে বলল। এটা কুসংস্কার এবং অন্ধ বিশ্বাস প্রত্যাখ্যান করে, কিন্তু যুক্তি ও বুদ্ধিবৃত্তিকে উৎসাহিত করে।
কোরআন মানুষকে কল্যাণের দিকে আহ্বান করে, স্রষ্টাকে স্বীকার করে নিতে বলে, সেই সাথে আধুনিকতা, মানবিকতা, সহমর্মিতার কথা বলে।

অল্প সময়ের মধ্যেই আমি আমার জীবনকে বদলে দেয়ার আগ্রহে ব্রতী হলাম। আমি ইসলাম সম্পর্কে অন্যান্য বই পড়তে শুরু করলাম। আমি দেখতে পেলাম, কোরআনে অনেক ভবিষ্যদ্বাণী রয়েছে, অনেক হাদিসেও তেমনটা আছে। আমি দেখলাম, পবিত্র কোরআনে অনেক স্থানে নবী মোহাম্মদকে সংশোধন করা হয়েছে। আমার কাছে অদ্ভূত লাগল। এতেই বোঝা যায়, মোহাম্মদ (সঃ) গ্রন্থটির লেখক নন।

আমি নতুন পথে হাঁটতে শুরু করলাম, পবিত্র কোরআনের জ্যোতি আর নবী মোহাম্মদের দেখানো সেই সহজ সরল রাস্তায়। এই লোকটির মধ্যে মিথ্যাবাদির কোনো আলামত দেখা যায়নি। তিনি সারা রাত নামাজ পড়তেন, এমনকি তাঁকে যারা নির্যাতন করত তাদেরকে ক্ষমা করে দিতে বলতেন, দয়া প্রদর্শনকে উৎসাহিত করতেন। সম্পদ আর ক্ষমতা তিনি প্রত্যাখ্যান করতেন, কেবল আল্লাহর দিকেই নিবেদনের বিশুদ্ধ বার্তাই প্রচার করতেন। আর তা করতে গিয়ে নির্মম নির্যাতন অপমান সহ্য করেছেন বারেবার কত শতবার।

এই মহাবিশ্বের জটিল এবং বৈচিত্রময় কোন কিছুই ঘটনাক্রমে ঘটেনি। তার সব কিছুই সহজ সরল। কিন্তু ধরণীর আকাশ,বাতাস,জীব-জন্তু,জল-স্থল,সমতল সবকিছুই কি সহজেই বোঝা যায়? সাধারণ বিষয় হলো,আমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে। সেই একজন যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন, তাকে অনুসরণ করতে হবে।

পবিত্র ধর্মগ্রন্থটি পড়তে পড়তে আমার মাথার নিকট রেখে কখন যে ঘুমিয়ে পড়লাম টেরও পেলাম না। ঘুমের মাঝেই গভীর রাতে দৈবিক কিছু ঘটনার সম্মুখীন হই আমি। গভীর রাতে আমার অন্ধকার ঘরটি সুঘ্রাণের (সুগন্ধির) সাথে অসাধারণ মনমাতানো এক আলোক ছ’টায় আলোকিত হয়ে গেল। পরক্ষণেই দেখি এক মহাপুরুষ আমার শিয়রের নিকট এসে বসলেন। এমন অপরূপ চেহারার মহামানব এর পূর্বে আর কখনো দেখিনি। পরম স্নেহে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে আমার ঘুম ভাঙ্গালেন। স্বপ্নযোগেই যেন আমি সজাগ হয়ে তৎক্ষণাৎ তার বশ্যতা স্বীকার করে নিলাম। তিনি যা ঈশারা করছেন আমি তাই শুনছি। একপর্যায়ে তার দেখানো পথে পথ চলতে লাগলাম। সূদুর মরুভূমি পেরিয়ে,সবুজ ছায়াঘেরা মাঠের ধারে একটি নদীর কাছে পৌঁছে গেলাম। তিনি গোসল এবং অযু করার প্রক্রিয়া শিখিয়ে দিয়ে ঐ নদীতে আমাকে গোসল করতে বললেন। তারপর কালিমা তাইয়েব্যাসহ সবক’টি কালেমা পাঠ করানো শেষে তিনি আমাকে কিছু নির্দেশনা দিলেন। তারপর সূরা ফাতেহা এবং সূরা ইখলাসসহ কিছু আয়াত পাঠ করিয়ে আমাকে নিয়ে নামাজ পড়লেন। যে আমি কখনো নামাজ রোজা সূরা কালাম কিছুই করিনী। সেই আমিই দিনের বেলায় রোজা রাখলাম এবং মসজিদে গিয়ে জামাতের সাথে নামাজ আদায় করলাম।
যদিও সেই নদী, নদীর পানি, সুবিশাল মরুভূমি, প্রসস্ত সবুজঘেরা মাঠ আর দেখা হয়ে ওঠেনি। কিন্তু সেই মহাপুরুষের বাণী আজো আমার কানে বাজে। চলে যাওয়ার সময় বলেছিলেন ভয় নেই, যত বিপদ আসুক ভেঙ্গে পড়বেন না এবং সেইসাথে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলেছিলেন তিনি সর্বদাই আমার পাশে থাকবেন।
কে কি ভাবেন জানিনা আমার বিপদে সব সময় তিনি এগিয়ে আসেন এবং আমাকে বিপদমুক্ত করেন। তাইতো আমি ইসলাম বিশ্বাস করি এবং নির্ভয়ে পথ চলি। যখন ঘুম ভাঙ্গল তখনো শুধু লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহু বার বার পড়ছিলাম। ঘুমভেঙ্গে যখন বাস্তবতায় ফিরে আসি তখনো সেই দৃশ্য আমার চোখের সামনে ভাসছিল।

এই মহামানবের দৈবীক সাক্ষাত এবং তার মুখের কালিমা পড়েই আমার মাথা যেন দুই ভাগ হয়ে গেল। এখনো চোখের সামনে তা স্পষ্ট দেখতে পাই। যা মনে হলেই শরীরে কাঁটা দিয়ে ওঠে। গায়ে শিহরণ জাগে এবং শরীরের সমস্ত পশম দাঁড়িয়ে যায়। সেই স্থান এবং ছুটে চলা পানির ফোররাযুক্ত নদী আজো আমাকে বিমোহিত করে। এটা ছিল অবাক করার বিষয় এবং আমার জীবনের সবচেয়ে উত্তেজনাকর এবং সবচেয়ে প্রশান্তির জায়গা। যা আমাকে আজকের স্থানে নিয়ে এসেছে।।

ঐদিনের পর থেকে ইসলাম ধর্মের নিয়ম কানুনের পাশাপাশি আমি বইয়ের পর বই অধ্যায়ন করতে লাগলাম। তথ্যগুলো যাচাই বাছাই করতে থাকলাম। এক রাতে আমি আমার রিডিং রুমে বসে খোলা বইগুলোর দিকে তাকিয়ে ছিলাম। আমার মুখটা হয়তো কিছুটা ফাঁক হয়ে গিয়েছিল। কী ঘটতে যাচ্ছে, আমি কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। কে যেন, আমার দেহের সবকিছু বের করে, কোথায় নিয়ে গিয়ে, কেন জানি সবকিছু ধৌত করে আবার আমার দেহের মাঝে রেখে গেল। তবে এটুকু অনুভব করলাম, আমার সামনে যা ঘটেছে এবং যা হয়েছে,তা হলো সত্য। আগে আমি যেটাকে সত্য ভাবতাম, আমার মাঝে সেটার আর কোনো অস্তিত্ব ছিল না।

এখন কী করব আমি? আমার সামনে দুটি পথ খোলা ছিল একটা আমি যা পেয়েছি, অন্যটি আমি যেথায় যেখানে যেভাবে আছি। আমার মন বলছিল আর দেরী করনা,শয়তানের ধোঁকায় পড়ে যাবা তুমি, সেই আগুনে পুড়ে ছাই (ছাড়কার) হয়ে যাবা তুমি। যেটা তুমি পেয়েছ, আসলে এযে শুধু একমাত্র তিনি দেন, অন্য কেহ নয়। তিনিই এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের মালিক। তার কোনো বিকল্প নাই।

আমি যা আবিষ্কার করেছিলাম, তা অস্বীকার করতে পারছিলাম না, অগ্রাহ্য করতে পারছিলাম না। আগের মতোই চলব, এমনটাও ভাবছিলাম সামান্য সময়ের জন্য। সেটাও সম্ভব ছিল না। আমার কাছে পথ খোলা ছিল কেবল একটাই।
ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করা ছাড়া, আমার সামনে আর কোনো পথ খোলা ছিল না। অন্য কিছু করা মানেই ছিল সত্যকে অস্বীকার করা।