পরীমণিকাণ্ডে সেই নাসির গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: ৫:৪০ অপরাহ্ণ , জুন ১৪, ২০২১

নায়িকা পরীমণিকে ‘ধর্ষণ চেষ্টার’ ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে তিনি গ্রেপ্তার হন।

সোমবার (১৪ জুন) দুপুর ২ টায় তাকে রাজধানীর উত্তরার নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানা গেছে। মামলার পরই আলোচিত ব্যবসায়ী নাসিরকে গ্রেপ্তারে মাঠে নেমে পড়েছিলো আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা।

অভিযান পরিচালনাকারী বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, পরীমণির অভিযোগের ভিত্তিতে আবাসন ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদকে উত্তরার সেক্টর-১ এর ১২ নম্বর রোডস্থ নিজস্ব বাসা (১৩ নং) থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (ডিসি) মশিউর রহমান।তবে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মারুফ হোসেন সরদার বলেন, ‘এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে।’

উল্লেখ্য, সোমবার (১৪ জুন) দুপুরের দিকে আবাসন ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদকে প্রধান আসামি করে ঢাকার সাভার মডেল থানায় ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন নায়িকা পরীমণি।

ওই মামলায় ব্যবসায়ী ‘নাসির ইউ মাহমুদ’ এবং বাসা থেকে পরীমণিকে সঙ্গে করে ক্লাবে নিয়ে যাওয়া বন্ধু ‘অমি’ এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৪ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী মাইনুল ইসলাম।

সোমবার (১৪ জুন) দুপুরে সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহিল কাফী বলেন, ‘পরীমণির দেয়া লিখিত অভিযোগ সাভার থানায় আমলে নেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পরীমণির করা অভিযোগ আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। শিগগিরেই তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হবে। এই মূহুর্তে এর বেশি কিছু বলা যাচ্ছে না।’

এর আগে, রোববার (১৩ জুন) রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর বনানীর নিজ বাসায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ধর্ষণচেষ্টার বিস্তারিত জানান ঢালিউড নায়িকা পরীমণি। তুলে ধরেন তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিবরণ।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি জানান, গত বুধবার (৯ জুন) রাতে পারিবারিক বন্ধু অমি ও পরীর পোশাক ডিজাইনার জিমির সঙ্গে বাইরে বের হয়েছিলেন। রাত ১২টার দিকে অমি তাদের নিয়ে ঢাকা বোট ক্লাবে যান। সেখানে মদ পানরত কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে পরীর পরিচয় করিয়ে দেন অমি। পরে অমি সেখানে থাকা নাছির ইউ মাহমুদ নামে এক ব্যক্তির কাছে নিয়ে যায়। সে সময় নাছির ইউ মাহমুদ নিজেকে ঢাকা বোট ক্লাবের সভাপতি হিসেবে পরিচয় দেন। সেখানে নাছির ইউ মাহমুদ আমাকে মদ খেতে অফার করেন। আমি রাজি না হলে আমাকে জোর করে মদ খাওয়ানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে আমাকে চড় থাপ্পড় মারেন। তারপর ধর্ষণ চেষ্টার পাশাপাশি হত্যার চেষ্টা করেন।