হজ নিয়ে সৌদি আরব এখনো বাংলাদেশকে কিছু জানায়নি

প্রকাশিত: ৯:৪০ পূর্বাহ্ণ , মে ২৮, ২০২১

সৌদি আরবের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবার হজের প্রটোকল ঘোষণা করলেও বাংলাদেশ থেকে হজ করতে যাওয়া যাবে কী না, গেলে কতজন তা এখনো জানা যায়নি৷ তবে বাংলাদেশের প্রস্তুতি আছে বলে জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়৷মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব(হজ) এম হামিদ জমাদ্দার জানান,” সৌদি আববের পক্ষ থেকে হজের ব্যাপারে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি৷ আমরা যোগাযোগ রাখছি৷ আর এব্যাপারে আমাদের দিক থেকে আমরা প্রস্তুত আছি৷”

সৌদি আরবের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবার এই করোনার মধ্যে ৬০ হাজার মুসলিমের হজের সুপারিশ করেছে৷ তারমধ্যে ৪৫ হাজার হাজি সৌদি আরবের বাইরের দেশ থেকে আসতে পারবেন৷ গত বছর করোনার শুরুতে তারা সৌদি আরবের বাইরের কোনো দেশ থেকে কোনো মুসলামানকে হজ করতে সৌদি আরব যেতে দেয়নি৷ তবে এবার সেখানকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শর্ত সাপেক্ষে সুপারিশ করলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়৷

শর্তের মধ্যে রয়েছে হজে যাওয়ার এক সপ্তাহ আগে করোনার টিকার দুই ডোজ পূর্ণ হতে হবে৷ যাওয়ার ৭২ ঘন্টা আগে পিসিআর টেস্টে নেগেটিভ হতে হবে৷ সৌদি আরব গিয়ে ৭২ ঘন্টা কোয়ারন্টিনে থাকতে হবে৷ সেখানেও টেস্টে নেগেটিভ হতে হবে৷ বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে৷

তবে মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ওইসব দেশে করোনার অবস্থা, সংক্রমণ ও মুত্যুর হার বিবেচনা করছে তারা৷ ভারতে করোনা পরিস্থিতি ও ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বাংলাদেশের জন্য হজের অনুমতিতে আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে বলে মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়৷হজে যেতে হলে টিকা লাগবে এটা আগেই জানানো হয় বলে জানান হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের(হাব) প্রেসিডেন্ট শাহাদাত হেসেন তসলিম৷ তিনি বলেন,” তখন বলা হয়েছিলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত টিকা নিতে হবে৷ আর চীন ও রাশিয়ার টিকায় হবে না বলে উল্লেখ ছিলো৷ তবে যারা যেতে ইচ্ছুক তাদের আগেই অক্সফোর্ডের টিকা দেয়া হয়েছে৷ আর এবার নতুন কোনো তালিকা হয়নি৷ ২০২০ সালে যারা তালিকাভূক্ত হয়েছেন তারাই অনুমতি পেলে হজে যেতে পারবেন৷”

স্বাভাবিক অবস্থায় বাংলাদেশ থেকে এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজে যেতে পারেন৷ এর মধ্যে ৯৭ ভাগই যান বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়৷ বাকিরা সরকারি ব্যবস্থাপনায়৷ কিন্তু গত বছর করোনার মধ্যে ৬৫ হাজার হজে যাওয়ার জন্য টাকা জমা দিয়েছিলেন৷ তাদের মধ্যে চার হাজার তাদের টাকা তুলে নিয়েছেন৷ বাকি ৬১ হাজার এখনো তালিকাভূক্ত আছেন৷ এখন সৌদ আরব কতজনকে অনুমোদন দেয় তার ওপর নির্ভর করছে কত জন যেতে পারবেন৷ তবে এই সংখ্যা এক হাজারের বেশি হবে বলে মনে করেন না হাব প্রেসিডেন্ট৷

বাংলাদেশ থেকে হজে যেতে মোট খরচ হয় তিন লাখ ৬০ হাজার টাকা৷ যারা এই টাকা আগেই জমা দিয়ে রেখেছেন তাদের আরো টাকা দিতে হতে পাারে৷ হাব প্রেসিডেন্ট বলেন, এবার কোয়ারান্টিন, বিমান ভাড়া ও হোটেল খরচ অনেক বেড়ে যাবে করোনার কারণে৷ ফলে খরচ দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি৷ ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন,” আমরা এখনো সৌদি আরব থেকে হজের ব্যাপারে কোনো অফিসিয়াল চিঠি বা তথ্য পাইনি৷ পাওয়ার পর আমরা বলতে পারব খরচ বাড়বে কী না৷ কিন্তু আমাদের প্রস্তুতি আছে আমরা শর্ট নোটিশেই পাঠাতে পারব৷ কারণ এবছর তো আমরা নতুন করে কাউকে তালিকাভূক্ত করিনি৷ ২০১৯ সালে সর্বশেষ বাংলাদেশ থেকে হজে গিয়েছে৷ ২০২০ সালে করোনার মধ্যে যারা হজের টাকা জমা দিয়েছেন তাদের মধ্য থেকেই এবার হলে সুযোগ পাবেন৷ তাদের সব কিছু অটোমেশন করা আছে৷ অনেকের টিকাও দেয়া আছে৷ এবার নতুন করে কারুর হজ নিবন্ধন করা হয়নি৷”

সৌদি আরবে বাংলাদেশের হজ কাউন্সিলর আছেন৷ তার সাথে বৃহস্পতিবারও যোগাযোগ করে কোনো তথ্য পায়নি ধর্ম মন্ত্রণালয়৷

এদিকে বাংলাদেশে করোনার দ্বিতীয় ওয়েভ এখনো শেষ হয়নি৷ ব্ল্যাক ফাঙ্গাসেও আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে৷ আবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হজ যাত্রীরা সৌদি আরবে যাবেন৷ এই পরিস্থিতি বাংলাদেশ থেকে হজে যাওয়ার কোনো ঝুঁকি বা মৃত্যু ঝুঁকি আছে কী না জানতে চাইলে বিএসএমইউর সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম বলেন,” সৌদি আরব তো প্রটোকল ঘোষণা করেছে৷ সেটা মেনে হজ হলে আশঙ্কা অনেক কম৷ কিন্তু মাহামারিতে তো ঝুঁকি কিছুটা থাকেই৷ স্বাভাবিক সময় সৌদি আরবে প্রতিবছর ১৮ লাখ মুসলমান হজ করেন৷ হজে যাওয়ার সংখ্যার দিক থেকে বাংলদেশের অবস্থান চতুর্থ৷ প্রথম ইন্দোনেশিয়া, দ্বিতীয় পাকিস্তান এবং তৃতীয় ভারত৷

এবার যদি শেষ পর্যন্ত অনুমতি পাওয়া যায় তাহলে যারা হজের টাকা জমা দিয়েছেন তাদের অনেকেই বয়সসহ নানা নিয়ম নীতির কারণে যেতে পারবেন না৷ স্বাভাবিক সময় প্রস্তুতির জন্য পাঁচ মাস সময় লাগলেও এবার ১৫ দিন আগেও অনুমতি পেলে বাংলাদেশ থেকে হজে পাঠানো যাবে বলে মন্ত্রণালয় জানায়৷ জুলাই মাসে হজ অনুষ্ঠিত হবে৷

হাব সভাপতি জানান, করোনা শুরুর পর থেকে ওমরাহও বন্ধ আছে৷ স্বাভাবিক অবস্থায় বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর দুই লাখ ৫০ হাজার মুসলিম ওমরাহ করতে সৌদি আরব যান৷ ## ডয়েচে ভেলে