ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন ব্রিটিশ অভিনেত্রী

প্রকাশিত: ৬:০৮ অপরাহ্ণ , মে ২৩, ২০২১

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের বাসিন্দা আয়েশা রোজালি ঘুরতে গিয়েছিলেন তুরস্কে। সেখানে যেয়ে বিখ্যাত ব্লু মসজিদ বা সুলতান আহমেদ মসজিদটিও ঘুরে দেখেন তিনি।

মনোমুগ্ধকর এই মসজিদ ভ্রমণ করে ইসলামের প্রতি গভীরভাবে আকৃষ্ট ব্রিটিশ বংশোদ্ভুদ রোজালি। দুই বছর আগে তুরস্কের মসজিদটি ভ্রমণ করেন তিনি। এরপর থেকে তিনি ইসলাম নিয়ে গবেষণা শুরু করেন এবং এর প্রতি মুগ্ধ হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এখন তিনি সম্পূর্ণভাবে নিজেকে ইসলাম প্রচারে নিয়োজিত করেছেন।

আয়েশা রোজালি ছোট থেকেই অভিনেত্রী হতে চেয়েছিলেন। অভিনেত্রী হিসেবে প্রশিক্ষণও নেন। তিনি মাত্র ১৪ বছর বয়স থেকে অভিনয় শুরু করেন। কিন্তু ইসলাম গ্রহণের পর রোজালি পুরোপুরি অভিনয় ছেড়ে দেন। বর্তমানে তিনি নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ইসলামের বাণী প্রচার করেন।

রোজালি বলেন, ইসলাম গ্রহণে আগ্রহীদের আমি সহায়তা করতে চাই। আমি চাই আরো বেশি মানুষ ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আসুক। মুসলিম হওয়ার আগে আমি কোনো ধর্ম অনুসরণ করতাম না। তবে ছোটবেলা থেকে একজন ঈশ্বর আছেন বলে আমার বিশ্বাস ছিল। বাবা-মাও ধার্মিক না হওয়ায় ধর্মের প্রতি কোনো অনুরাগই ছিল না আমার।

তুরস্ক ভ্রমণের বিষয়ে তিনি বলেন, তুরস্কে এসে ধর্ম সম্পর্কে জানার আমার কোনো আগ্রহ ছিল না। গুগলে সার্চ করে ব্লু মসজিদের সন্ধান পাই। মনে মনে ভাবি যে এই মসজিদে আমার যাওয়া উচিত। মসজিদটি পরিদর্শনের আগে স্থানীয় দোকান থেকে হিজাব কিনি। ভেবেছিলাম, চুল দৃশ্যমান রাখলে মানুষ আমার ওপর রাগ করবে। তাই হিজাবটি কিনি। যেন কেউ আপত্তি জানাতে না পারে।

মসজিদ ভ্রমণে এসে রোজালি ইসলাম সম্পর্কে জানেন এবং আগ্রহী হয়ে ওঠেন। রোজালি জানান, ব্লু মসজিদে প্রবেশ করে একটি তাসবিহ ও জায়নামাজ নেই এবং কিছুক্ষণ তাসবিহ পাঠ করি। প্রায় এক ঘণ্টার মতো আমি তাসবিহ পড়ি। মসজিদের চারপাশ দেখে মুগ্ধ হয়ে যাই। মসজিদের ভেতরের সৌন্দর্য অবাক করার মতো। ভেতরে পরিবেশ অত্যন্ত শান্ত ও নীরব।

তিনি আরও বলেন, আমার সামনে অনেক মানুষকে একসাথে নামাজ আদায় করতে দেখি। মসজিদের ভেতরের অবিশ্বাস্য মুগ্ধকর দৃশ্য ও নীরব পরিবেশ উপভোগ করতে থাকি। আমাকে দেখে কেউ আওয়াজ করছেন না দেখে খুবই অবাক হই। এরপর একপর্যায়ে আমি পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম ইসলামকে আমার জীবন বিধান হিসেবে গ্রহণ করি। শান্তির ধর্ম ইসলাম গ্রহণের পর আমার মনে হয়েছে যেন আমি নবজীবন লাভ করেছি। সূত্র : আনাদুলু এজেন্সি