ন্যূনতম মজুরি ২০ হাজার টাকা করার দাবি

প্রকাশিত: ৪:৪০ অপরাহ্ণ , মে ১, ২০২১

শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ২০ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়েছে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে কাজ করা সংগঠনগুলো। শনিবার (১ মে) মহান মে দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন ও সমাবেশে এই দাবি জানায় গার্মেন্ট শ্রমিক টিইউসি, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ(স্কপ) সহ আরও কয়েকটি সংগঠন।

জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ২০ হাজার টাকা আদায়ের সংগ্রাম গড়ে তোলার ডাকে মহান মে দিবসে গার্মেন্টস শ্রমিক টিইউসি’র কেন্দ্রীয় সমাবেশে দলটির সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় প্রেস ক্লাবের অপর পাশে। এসময় ন্যূনতম মজুরি ২০ হাজার টাকা করা ছাড়াও শ্রমিকদের খাদ্য, জীবন, স্বাস্থ্য এবং চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, করোনা পরিস্থিতিতে কর্মরত শ্রমিকদের ঝুঁকিভাতা দেওয়া, ২০ রোজার মধ্যে মূল মজুরির সমান বোনাস এবং বকেয়া পরিশোধ করা, বাশখালি, রানা প্লাজা ও তাজরিন গারমেন্টসসহ সব শ্রমিক হত্যার বিচারসহ ৯ দফা দাবি জানানো হয়।

গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার বলেন, শ্রমিক হত্যাকাণ্ডের কোনও বিচার হয় নাই। এদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়েছে, এদেশের মানুষের যদি আপনারা বিচার না করেন, তাহলে এদেশের মানুষ আপনাদের বিচার করবে মনে রাখবেন। শতভাগ কারখানা খুলে রেখেছেন করোনার মধ্যে কিন্তু স্বাস্থ্য সুরক্ষার কোনও ব্যবস্থা করেন নাই, কোনও পরিবহনের ব্যবস্থা করেন নাই। গত বছর এই তামাশা করেছিলেন এবারও তাই করছেন। শ্রমিকদের আজকে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে কারখানায় যেতে হচ্ছে।

গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ২০ হাজার টাকা করা দাবি জানিয়েছে স্কপ। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত সমাবেশ ও মিছিলে এই দাবি জানায় তারা। মানববন্ধনের বক্তারা বলেন, লকডাউনে শ্রমিক কাজ ও আয় হারালেও মালিকরা পেয়েছে বিপুল সহায়তা। গার্মেন্টস শিল্প মালিকদের হাজার হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে শ্রমিক জনগণের প্রতি যে দায়িত্ব নেওয়ার কথা ছিল তা কার্যকরভাবে পালিত না হওয়ায় করোনা শ্রমজীবীদেরকে মহাদুর্ভোগে পতিত করেছে।

এসময় ৯ দফা দাবি জানিয়ে নেতারা বলেন, করোনাকালীন শ্রমিক ছাঁটাই করা চলবে না। শ্রমিকদেরকে করোনা ঝুঁকি ভাতা দিতে হবে। করোনা আক্রান্ত শ্রমিকদের চিকিৎসার দায়িত্ব মালিক ও সরকারকে বহন করতে হবে। কর্মহীন শ্রমিকদের খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা করতে হবে। বাঁশখালিতে শ্রমিক হত্যার বিচার বিভাগীয় তদন্তসহ সব শ্রমিক হত্যার জন্য দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। নিহতদের আজীবন আয়ের সমান ক্ষতিপূরণ, আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে এবং মালিকানা নির্বিশেষে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে।

বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি শহিদুল্লাহ চৌধুরির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মে দিবসের সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জাতীয় শ্রমিক জোটের সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি কামরুল আহসান, জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সভাপতি সাইফুজ্জামান বাদশা প্রমুখ।