উচ্চ ঝুঁকিতে ২৯টি জেলা

প্রকাশিত: ৮:৩৩ অপরাহ্ণ , মার্চ ২৯, ২০২১

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দ্রুত গতিতে বাড়ছে এবং এই মুহূর্তে অন্তত ২৯টি জেলা করোনাভাইরাসের উচ্চ সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, ফেনী, চাঁদপুর, নীলফামারী, সিলেট, টাঙ্গাইল, রাজশাহী, নওগাঁসহ আরও বেশি কিছু জেলা রয়েছে এই উচ্চ ঝুঁকির তালিকায়।

সোমবার (২৯ মার্চ) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা সাংবাদিকদের বলেন, গত কিছুদিন ধরে বাংলাদেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে এবং সংক্রমণের মাত্রা “খুব দ্রুত বাড়ছে”।

তিনি বলেন, ‘মার্চের ১৩ তারিখে সংক্রমণের মাত্রা উচ্চ ছিল ৬টি জেলায়, ২০ তারিখে দেখা গেছে ২০টি জেলা ঝুঁকিতে আছে। আর মার্চের ২৪ তারিখে দেখা গেছে করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার উচ্চ এমন জেলার সংখ্যা ২৯টি। ফলে বোঝাই যাচ্ছে, সংক্রমণের হার দ্রুত বাড়ছে।

মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, প্রতি জেলায় কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত কমিটি রয়েছে এবং এসব কমিটি স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ এবং স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে মিলে সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য এক সঙ্গে কাজ করবে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে সোমবার সরকার ১৮ দফা নতুন নির্দেশনা ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, সব ধরনের সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে জনসমাগম সীমিত করা। বিয়ে-সাদির অনুষ্ঠান সীমিত করা, কোয়ারান্টাইন ব্যাবস্থা জোরদার করা, সকল যানবাহনে যাত্রী অর্ধেক বা তার থেকে কম রাখা, অফিস আদালতে কম আসা যাওয়া করা, মুখে মাস্ক ছাড়া কোন সার্ভিস ব্যবস্থা না রাখা।

মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরার মতে, সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে এই ১৮ দফা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।

এই ১৮ দফা নির্দেশনার মধ্যে সরকার উচ্চ সংক্রমণযুক্ত এলাকায় সকল ধরনের জনসমাগম নিষিদ্ধ করেছে। এছাড়া, পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্রে জনসমাগম সীমিত করার নির্দেশনাও রয়েছে এর মধ্যে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলেছে, যেসব জেলায় উচ্চ সংক্রমণ রয়েছে, প্রয়োজনে সেসব জেলার সঙ্গে আন্তঃজেলা যোগাযোগও সীমিত করা হতে পারে। তবে সেটি সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন জেলার পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেবে।

এদিকে দেশে করোনায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। যা গত সাত মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৫ হাজার ১৮১ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। যা নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৯৪৯ জনে এবং মোট করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮৯৫ জনে।