বিপুল পরিমাণ অস্ত্র-বোমাসহ ৭ ডাকাত গ্রেফতার

প্রকাশিত: ৫:৪৭ অপরাহ্ণ , ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২১

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৭ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১টি বিদেশী পিস্তল, ৩ রাউন্ড গুলি, ৩টি চাপাতি, ১টি হাতুড়ি, ১টি কোরাবারী ও ৪৪টি ককটেল জব্দ করে র‌্যাব সদস্যরা। 

গ্রেফতারকৃত ডাকাতরা হলো- মো. বাবুল হোসেন (৩২), মো. সেলিম (৩২), মো. রিপন ভূঁইয়া (২৬), মো. রবিউল ইসলাম (২৬), মো. আব্দুর রশিদ (৪৫), মো. রফিকুল ইসলাম (৪০) ও মো. জাবেদ হোসেন (২৯)।

আজ বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে র‌্যাব-১১’র সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১১’র অধিনায়ক লেঃ কর্নেল খন্দকার সাইফুল আলম এ তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে লেঃ কর্নেল খন্দকার সাইফুল আলম বলেন, গোয়েন্দা সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রায় ২ মাস যাবৎ কঠোর গোয়েন্দা নজরদারীর মাধ্যমে এই ডাকাত দলকে শনাক্ত করে র‌্যাব। অতঃপর র‌্যাব-১১ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাত সোয়া ১২টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক হতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত অবস্থায় ওই চক্রের ৭ সাত সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। তারা আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য।

এই সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্র বড় বড় স্বর্ণের দোকান টার্গেট করে অতর্কিতভাবে হামলা করে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এবং অস্ত্র প্রদর্শন করে জনমনে ভয়ভীতি ও আতঙ্ক সৃষ্টি করে স্বর্ণের দোকান লুট করে মুহূর্তের মধ্যে পালিয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে তারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাদের অপরাপর সহযোগীদের নিয়ে স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি করে আসছে। স্বর্ণের দোকান ডাকাতির জন্য তারা সন্ধ্যা থেকে দোকান বন্ধের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত সময়কে বেছে নেয়।

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, বিগত কয়েক বছরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় স্বর্ণের দোকানে ঘটে যাওয়া এই রকম বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর ডাকাতির সঙ্গে এই সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের সদস্যরা জড়িত ছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, গ্রেফতারকৃত আসামইরা লক্ষ্মীপুর জেলার সদর উপজেলার কলেজ রোড এলাকায় একটি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি করার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়ার জন্য সংঘবদ্ধ হয়ে অবস্থান করছিল। কয়েকদিন আগে ডাকাতির উদ্দেশ্যে ককটেল বানানোর সময় এই আন্তঃজেলা ডাকাত দলের প্রধান গ্রেফতারকৃত আসামি মোঃ বাবুল হোসেন-এর পা বিস্ফোরণে উড়ে যায়।

আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান তিনি।