হাওরের বারোশ’ হেক্টর পতিত জমি চাষের আওতায়

প্রকাশিত: ৭:০৫ অপরাহ্ণ , ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২১

নেত্রকোণার হাওরাঞ্চলে পতিত জমিতে আবাদ হচ্ছে শাক-সবজিসহ অন্যান্য ফসল। ফলনও হয়েছে ভাল। হাওরের ভূমিহীন ও বেকার যুবকদের কাজে লাগাতে জেলা প্রশাসন থেকে নেয়া হয়েছে এ উদ্যোগ। চলতি মৌসুমে প্রায় বারোশ’ হেক্টর পতিত জমি চাষের আওতায় আনা হয়েছে। 

দীর্ঘদিন পতিত ছিল হাওরের হাজার হাজার হেক্টর খাস জমি। বর্ষায় থই থই পানি, শুষ্ক মৌসুমে চারণভূমি। কিন্তু ব্যতিক্রম ঘটেছে এবছর। এসব পতিত জমিতে সবুজের সমারোহ। কর্মসংস্থান হয়েছে শতাধিক বেকার যুবকের।

স্থানীয় বেকার কৃষকরা জানান, আমাদের জমি ছিল না, সরকার জমি দিয়েছে এবং বাদাম, আলু, গম, সরিষার বীজ দিয়েছে। অনেক বছর ধরে পরে ছিল এখন শষা, মিষ্টিকুমড়া, ভুট্টা, খিড়া, গম, সরিষা এগুলোর আবাদ করছি।

চাষাবাদ করে লাভের সম্ভবনা দেখছেন কৃষক। আগামীতে আরও বেশি জমি আবাদের আওতায় আনতে চায় তারা।

স্থানীয় বেকার কৃষকরা জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে আশা করি আমরা অনেক লাভবান হবো। উপজেলা কৃষি অফিসার, ডিসি স্যার তারা আমাদেরকে এই জমি দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পতিত জমিতে আবাদ কার্যক্রম শুরু হয়। সার, বীজ, কৃষি উপকরণসহ অন্যান্য সহায়তা দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।

খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচএম আরিফুল ইসলাম বলেন, আমরা উপজেলা পরিষদ থেকে প্রচুর পরিমাণে শাক-সবজির বীজ বিভিন্ন ইউনিয়নে বিতরণ করে থাকি।

খালিয়াজুরী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, ইতিমধ্যে আমাদের টার্গেট পূর্ণ করে অনেক বেশি পরিমাণ ভূমি এই আবাদের আওতায় নিয়ে আসতে পেরেছি।

জেলা প্রশাসন বলছে, আগামীতে কোন জমিই পতিত রাখা হবেনা।

নেত্রকোণা জেলা প্রশাসক কাজী মোঃ আবদুর রহমান বলেন, আগামী বছর থেকে একইভাবে যতো জমি অনাবাদী আছে আমরা ভালো পরিকল্পনা নিয়ে পুরোটাই আবাদের আওতায় নিয়ে আসবো।

এই উদ্যোগ বেকারত্ব কমানো ছাড়াও অতিরিক্ত ফসল উৎপাদনে ভূমিকা রাখবে।