বাস্তবতার নিরিখেই পদ্মা সেতুর খরচ বৃদ্ধি

প্রকাশিত: ২:৩৩ অপরাহ্ণ , জানুয়ারি ১২, ২০২১

পদ্মা সেতুর নির্মাণ খরচ বৃদ্ধি নিয়ে চায়ের কাপে নানা আলোচনা হয় ঠিকই। কিন্তু এর নির্মাণ খরচ কেনো, কিভাবে বেড়েছে? এ নিয়ে নানা প্রশ্নেরও জন্ম নেয় মানুষের মনে। ফিজিবিলিটি স্টাডি আর বাস্তবায়ন পর্যায়ে প্রকৃত খরচ কখনই এক হয় না। সমন্বয়ের চেষ্টা করা হয় মাত্র। এটাই মেগা প্রকল্পের স্বাভাবিক অনুশীলন। তবে, এখন খরচের যে হিসাব দাঁড়িয়েছে, তা আর কোনো অবস্থাতেই বৃদ্ধির সুযোগ নেই। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খরচ বাড়ে বাস্তবতার নিরিখেই।

স্রোতসিনি পদ্মা, মনে করা হয় আমাজনের পরে স্রোতের দিক দিয়ে পদ্মা বিশ্বের দ্বিতীয় অবস্থানে। তার কূলকিনারা নির্ণয় করা যায় না এমন নদীর উপরে এমন একটি মেগা স্ট্রাকচার পদ্মা সেতু নির্মাণ হবে তা কে, কখন কল্পনা করেছিল। তারপরও এই নদীতে নিজস্ব অর্থায়নে সেতু নির্মিত হয়েছে, তা সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্ব ও সাহসী সিদ্ধান্ত গ্রহণের কারণে।

স্বপ্নের পদ্মা সেতু, ফিরে যাবো ২০০৭ সালে। সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১০ হাজার ১শ’ ৬১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। ২০১১ সালে এসে নকশা সংশোধনে দৈর্ঘ্য বাড়ে। খরচও বেড়ে দাঁড়ায় ২০ হাজার ৫শ’ ৭ কোটি ২০ লাখ টাকা। ২০১৬ সালে ২৮ হাজার ৭শ’ ৯৩ কোটি ৩৯ লাখ এবং সর্বশেষ ২০১৮ সালে আরেক দফা ১ হাজার ৪শ’ কোটি বেড়ে মোট ৩০ হাজার ১শ’ ৯৩ কোটি টাকা দাঁড়ায় পদ্মা সেতুর নির্মাণ ব্যয়।

একটি সেতু মানেই শুধু একটি সেতু নয়। এর সাথে শেষ করতে হয়েছে আরও চার চারটি বড় প্রকল্প। ভূমি অধিগ্রহণে খরচ ২ হাজার ৬শ’ ৯৮ কোটি টাকা। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে ১ হাজার ৫শ’ ১৫ কোটি টাকা। সংযোগ সড়কে ১ হাজার ৯শ’ ৭ কোটি টাকা। দ্বিতীয় বৃহৎ খরচ, নদী শাসন ও সার্ভিস এরিয়ার মাটি ভরাটে খরচ হয়েছে ৯ হাজার ৪শ’ কোটি টাকা। আর, মূল সেতুতে ব্যয় মাত্র ১২ হাজার ১শ’ ৩৩ কোটি টাকা।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সেতুর নকশা, মান ও নির্দেশনায় বিশ্ব ব্যাংক যে অবস্থায় রেখে গিয়েছিল সেটাই বজায় রেখেই এগিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন করে এসব খাতে কোন খরচ হয়নি।

পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের আন্তর্জাতিক পরামর্শক বিশেষজ্ঞ প্যানেলের চেয়ারম্যান এম শামীম জেড বসুনিয়া বলেন, ১০ হাজার কোটি টাকা থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা, ফিজিবল রিপোর্ট কখনও কারেক্ট হয় না। ফলে পদ্মা ব্রিজের যে খরচটা বেড়েছে এটা কোন অযৌক্তিক কিছু নয়। এর মধ্যে কোন অনিয়ম নেই।

পরিবেশ রক্ষায় আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে ১শ’ ২৯ কোটি এবং অডিট, তদারকি, নিরাপত্তাসহ বেশকটি খাতে ২শ’ কোটি টাকা রাখা হয়েছে। বাস্তবতার নিরীখেই খরচ বেড়েছে।

এম শামীম জেড বসুনিয়া আরও বলেন, এর মধ্যে কিন্তু পয়সা আর বাড়েনি। যে ৩০ হাজার কোটি ছিল, তার মধ্যে সব চলছে। সময় বাড়ানো হয়েছে, একটা একটা করে পাইল বাড়ানো হয়েছে এতে করে খরচ বেড়েছে।

নির্মাণে আরেক দফা সময় বাড়লেও খরচ এখানেই স্থির থাকবে। বিলম্ব করলে জরিমানা গুণতে হবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে।