মৌলভীবাজার

প্রতিবাদ করায় এক প্রতিবাদী নারী লাঞ্ছনার শিকার

প্রকাশিত: ৯:৪৫ পূর্বাহ্ণ , জানুয়ারি ১১, ২০২১

নিজস্ব প্রতিনিধি: নারীদের প্রতিবাদী হতে নেই। প্রতিবাদী হলেই সমস্যা । নেমে আসবে প্রতিঘাতের খড়গ। নানা ধরনের ষড়যন্ত্রের বেড়াজালে ফেলে টুটি টিপে ধরে প্রতিবাদী নারী কন্ঠকে স্তব্ধ করে দেয়া হবে এটাই পুরুষ শাসিত সমাজের বিধান।

রুলি আক্তার জেলি (৪৫)। মৌলভীবাজার জেলার একজন প্রতিবাদী মহিলা । মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। নিজের সামর্থ্য নিয়ে সবসময় অসহায় দরিদ্র নারীদের পাশে দাঁড়ান। তাদের চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা করেন। অনেক মহিলাকে তিনি হসপিটালে ভর্তি করে সরকারি সুযোগ সুবিধা ওষুধপত্র ব্যবস্থা করে দিয়েছেন । তার সহযোগিতা পেয়েছেন অনেক প্রসূতি নারী। নিজে না খেয়েও খাইয়েছেন অনেক অসুস্থ মহিলাকে। অসুস্থ মহিলাদেরকে হসপিটালে ভর্তি করানো তাদের দেখাশোনা করা ইত্যাদি রুলী করে আসছেন দীর্ঘদিন থেকে। হসপিটালের অনেক অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র হসপিটালে যাতায়াতের সুবাদে তার চোখে ধরা পড়ে। রুলী এসব অন্যায় ও দুর্নীতির প্রতিবাদী করলে তাকে নানা অপবাদ দিয়ে লাঞ্চিত করা হয়। মামলা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা চলে।

গত ৭ ডিসেম্বর রুলি তার আপন অসুস্থ খালুকে মৌলভীবাজার সদর হসপিটালে ভর্তি করান। হসপিটালের ডাক্তার তাকে কয়েকটি টেস্ট করানোর জন্য বললে, এই হসপিটালের ওয়ার্ড বয় বকুল রুলি বেগমের হাতে নিউ লাইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের একটি কার্ড তুলে দিয়ে বলে, সেখান থেকেই টেস্ট করাতে হবে।এই সেন্টারের সাথে নাকী সরকারের চুক্তি রয়েছে।

রুলি ওয়ার্ডবয় বকুলের কথা না শুনে
স্থানীয় বিছমিল্লাহ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে টেস্ট রিপোর্ট করালে হসপিটালের ওয়ার্ডবয় বকুল রুলি বেগমের উপর ক্ষেপে গিয়ে তার গায়ে হাত তুলে। তাকে ভুয়া সাংবাদিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালাল আখ্যায়িত করে সাংবাদিক এনে তার ছবি উঠায়। এবং পত্রিকায় তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায়। রুলী অভিযোগ করেন, তাকে ওয়ার্ডবয় বকুল মারধোর করার পর তার মোবাইল ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রেখে দিয়ে তাকে মৌলভীবাজার মডেল থানার পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়। রুলী ৯ ডিসেম্বর আদালত থেকে জামিনে মুক্তিলাভ করে।

উল্লেখ্য,রুলি আক্তার জেলীর ৮ বছরের একটি প্রতিবন্ধী শিশু রয়েছে।
মা ছাড়া এই বিশেষ শিশুটি কারো কাছে থাকতে চায় না। খাবার খায় না।
এরূপ একজন প্রতিবন্ধী শিশুর মাকে নির্যাতন করায় বিবেক সম্পন্ন মানুষ বিষয়টিকে ভালো চোখে দেখছে না।

রুলী একজন মানবাধিকার কর্মী। তার প্রতিবাদী কণ্ঠকে স্তব্ধ করে দেয়ার জন্য একটি মহল নানামুখী অশুভ তৎপরতা চালাচ্ছে বলে রুলী অভিযোগ করেন। একজন নারীর গায়ে হাত তোলা এবং তাকে প্রকাশ্যে অপদস্ত করা ও তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো মানবাধিকার পরিপন্থী। এ বিষয়ে একটি সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার বলে সুধী মহল মনে করেন।