ঘর-জমি পেতে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের আকুতি

প্রকাশিত: ৯:২৬ অপরাহ্ণ , ডিসেম্বর ২২, ২০২০

বাবা মুক্তিযোদ্ধা ছিলো, মারা গেছে। তার ভাতার টাকায় এখনো আমরা চলছি। চাচার দেয়া দান দলিলে ১০ শতাংশ জমি থাকলেও ঘর-দুয়ার নাই। লোকলজ্জায় না পারি সইতে, না পারি কইতে। মা নেই, বাবার মৃত্যুর পর ২ ছেলে ১ মেয়ে নিয়ে ঢাকা শহরে ভাড়া থাকি। বাচ্চাদের লেখাপড়ার খরচ শেষে কিছুই সঞ্চয় থাকে না। করোনা কালীন সময়ে কাজ ছিলো না। ইচ্ছা করলেও আমি বউ বাচ্চাদের নিয়ে বাড়ি যেতে পারি না। কারণ থাকার ঘর নাই। একটা ঘর পেলে বাড়িতে গিয়ে ছেলে-মেয়ে নিয়ে একটা ব্যবসা করে খেতাম।

দুঃখের সাথে কথা গুলো বলছিলেন,শরীয়তপুর ভেদরগঞ্জ উপজেলা চরপায়াতলি গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত্যু আঃ ছাত্তার খানের ছেলে কামাল হোসেন। তিনি আরও বলেন, আমি শরীয়তপুরের ভোটার। থাকার জায়গা না থাকায় সন্তানদের নিয়ে ভেসে বেড়ায়। বর্তমানে ঢাকা শহরে বাসা ভাড়া দিয়ে থাকি, আমার কিছুই নাই, সরকারের দেয়া একটা ঘর পেলে ১০০ পার্সেন্ট উপকার হতো।

২২ ডিসেম্বর সকালে সরেজমিনে গেলে স্থানীয় সোবাহান খান (৬৫) বলেন, এলাকায় সচ্ছল লোককে ঘর দেয়া হচ্ছে। অথচ একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের থাকার জায়গা নাই। এটা খুবই দুঃখজনক। দরিদ্র কামাল খান বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আঃ সাত্তার খানের ছেলে। মুক্তিযোদ্ধা আ: সাত্তার খান তৎকালীন পাকিস্তান মিলিটারি থেকে পালিয়ে এসে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন এবং এই এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং করাতেন। তার কোন লোভ-লালসা ছিলো না। তাই তিনি ছেলের জন্য কিছু রেখে যেতে পারেনি।

তারই ছেলে কামাল সে সত্যিকারের ভূমিহীন অসহায় । তার চাচা দান দলিলে ১০ শতাংশ জায়গা কামাল এর নামে দিছে। সেই জায়গা খালি পরে আছে। থাকার ঘর করার সমর্থ তার নাই। আমি চাই বিধিমালা অনুযায়ী কামাল যোগ্য লোক তাকে ঘর দেয়া হোক।

সরোয়ার খান (৫৫) বলেন, দেলোয়ার চৌকিদার নামে যাকে ঘরের তালিকায় রাখা হয়েছে। সে নিজে গ্রাম পুলিশ, ছেলে পুলিশে চাকুরী করে,এক কথায় সচ্ছল ব্যক্তি তিনি। একই বাড়িতে একজন মুক্তিযোদ্ধার ছেলে আছে। তার জায়গাও নাই, ঘরও নাই। মৃত্যু মুক্তিযোদ্ধা আঃ সাত্তার খান কমান্ডার আছিলো। তার ছেলে কামাল খান লোকো লজ্জার ভয়ে ঘরের বিষয়ে কিছু বলে নাই। সে উপমন্ত্রী এনামুল হক শামিম এর গাড়ি চালাতো, শামীম সাহেবকে যখন দুর্বৃত্তরা গুলি করেছিল, তখন কামাল ও আহত হয়েছিলো। কামালের কোন ভাই নাই, ভিটার উপর পুরনো একটা টিনের ঘর ছিলো, কামাল এর মা মারা যাওয়ার পর ঐ ঘরটার ভেতর দেলোয়ার চৌকিদার জোর করে ঘর উঠিয়ে ফেলেছে। তার থাকার জায়গা না থাকায় বউ-বাচ্চা নিয়ে কামাল ঢাকা শহরে ভাড়া থাকে।

নিজামুল হক খান (৫৫) বলেন,কামাল খান মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। তাই তিনি লোকলজ্জার ভয়ে কারও কাছে ছোট হয়নি। কিন্তু সত্যিকারে অসহায় ও হত দরিদ্র একটা ছেলে। তার থাকার জায়গা না থাকায় জন্মভূমি ছেড়ে ঢাকা শহরে বাসা ভাড়া করে রয়েছে।

ডিএমখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বেপারি বলেন, আমি নতুন চেয়ারম্যান। এখনো দায়িত্ব পাইনি। আমার যদি ক্ষমতা থাকতো তাহলে কামাল ভাইকে আমি ঘর দিয়ে দিতাম। সে একেবারেই গরিব মানুষ। বাড়িতে তার থাকার জায়গা নাই, ঘরও নেই।

এ বিষয়ে ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর আল-নাসিফ বলেন, মুক্তিযোদ্ধার ছেলে কামাল হোসেনকে একটা আবেদন করতে বলেন, যেহেতু সে মন্ত্রী মহোদয়ের গাড়ি চালাতো। মন্ত্রী মহোদয় ব্যক্তিগত কিছু ঘর দিবে। তখন মন্ত্রী মহোদয়কে আমরা বলে তাকে একটা ঘর দিয়ে দিবো। আবেদন করতে বলেন।