অপ্রতুল সহায়তা

কনকনে শীতে কাহিল উত্তরের মানুষ

প্রকাশিত: ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ , ডিসেম্বর ২১, ২০২০

দেশের উত্তর-পশ্চিমসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে বইছে শৈত্যপ্রবাহ৷ বেড়েছে ঠান্ডার তীব্রতা৷ পর্যাপ্ত সহায়তা না থাকায় কষ্টে আছেন অসহায় মানুষ৷ শীতজনিত রোগে ভুগছে শিশু ও বৃদ্ধরা৷ হাসপাতালে বেড়েছে রোগীর সংখ্যা৷

রোববার বাংলাদেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছিল ছয় দশমিক ছয় ডিগ্রি সেলসিয়াসে৷ রোববার তা কিছুটা বেড়ে ৭ ডিগ্রি হয়েছে৷ কুড়িগ্রামের রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক সুবল চন্দ্র সরকার ডয়চে ভেলেকে জানান, রোববার কুড়িগ্রাম ও পঞ্চগড়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস৷ আগামী দুই দিন এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকবে৷ তবে ধীরে ধীরে রাতের তাপমাত্রাও বাড়বে৷

কনকনে শীত ও ঘন কুয়াশায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষ৷ উত্তরের কয়েকটি জেলার কয়েক হাজার মানুষ রয়েছেন নিদারুণ শীত কষ্টে৷ অসহায় জীবন যাপন করছেন খোলা আকাশের নিচে বসবাসকারী মানুষজন৷ শীত বস্ত্রের অভাবে ভোগান্তিতে রয়েছেন বহু মানুষ৷

দ্রুত সহায়তা দরকার : কনকনে ঠান্ডায় স্থবির হয়ে পড়েছে কুড়িগ্রামের জনজীবন৷ গরম কাপড়ের অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ৷ খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারনের চেষ্টা করছেন অনেকেই৷ কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক রেজাউল করিম জানান, সরকারিভাবে জেলার হতদরিদ্র মানুষের মাঝে ৩৫ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে৷ এছাড়া জেলার নয় উপজেলায় গরম কাপড় কিনে বিতরণের জন্য ছয় লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে৷

তবে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার বেরুবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালেব ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এ পর্যন্ত সরকারিভাবে ৪৫০ পিস কম্বল পাওয়া গেছে৷ আমার ইউনিয়নের ২০ হাজার পরিবার রয়েছে৷ এদের অধিকাংশ চরাঞ্চলের মানুষ৷ এদের অধিকাংশ হতদরিদ্র৷ আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে একটি তালিকাও করেছি৷ কিন্তু সরকারি বা বেসরকারি কোন ধরনের সহায়তা না আসায় মানুষগুলো খুব কষ্টে দিন পার করছেন৷ গত ২০ দিনে সাত-আট জন বয়স্ক মানুষ মারা গেছেন৷ শীতের কারণেই যে মারা গেছেন তা বলছি না৷ কিন্তু তাদের মৃত্যুর জন্য শীতও বড় কারণ৷ দ্রুত এখানকার মানুষের সহায়তা দরকার৷’’

হাসপাতালে বাড়ছে রোগী : কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাইফ জামান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ার সমস্যা নিয়ে বয়স্ক ও শিশুরা বেশি হাসপাতালে আসছেন৷ গত কয়েকদিনে রোগীর সংখ্যাও বেড়ে গেছে৷ আগে যেখানে ২০-২২ জন রোগী আসত এখন সেখানে রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩৫-৪০ জন৷ বিশেষ করে শিশুদের নিউমোনিয়া বেশি হচ্ছে৷ তবে হাসপাতালে কারো মৃত্যু হয়নি৷” সূত্র : ডয়চে ভেলে